somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চলমান রাজনীতিক সংস্কৃতির আশু পরিবর্তন দরকার

১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৪:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক বছর বিরতির পর দেশে আবারও পূর্বের অচলাবস্থা, রাজনীতিক হানাহানি, জ্বালাও-পোড়াও ফিরে এসেছে। ক্ষমতাসীন দল দ্বারা গঠিত এক বছর বয়স্ক সরকারকে শুরু থেকেই ‘অবৈধ’ সরকার হিসেবে দাবি করে আসছিল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০দলীয় জোট। ২০১৪ সালের পাঁচই জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাবিহীন ঐ নির্বাচনের একবছর পূর্তিতে বিরোধী জোট রাজধানীতে একটি সমাবেশ করতে চেয়েছিল। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলটিও একই দিনে কর্মসূচির আহ্বান করে। এমতাবস্থায় দুই পক্ষের পাল্টা-পাল্টি সমাবেশকে ঘিরে নাশকতার আশঙ্কায় প্রশাসন রাজধানী শহরটিতে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ২০ দলীয় জোট সমাবেশ করতে পারে সেই আশঙ্কা থেকে বিরোধী জোট নেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে তার কার্যালয়ে কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখে। এমতাবস্থায় সমাবেশ করতে না পেরে জোটের পক্ষ থেকে লাগাতার অবরোধের আহ্বান করা হয় যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বিরোধী জোটের আহ্বানে চলমান এই অবরোধের ফলে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল। প্রায়শঃই অবরোধ অমান্য করে চলাচল করা যানবাহনগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। রাজধানীতে শুধু গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় আটটি গাড়ি। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে পোড়ানো হয়েছে বহুসংখ্যক যানবাহন। বিস্ফোরিত হয়েছে হাত বোমা। এসবকে উপেক্ষা ও যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে ক্ষতিপূরণের আশ্বাস এবং একই সাথে প্রশাসনিক প্রহরা ব্যবস্থার ঘোষণায় এখন সীমিত সংখ্যক যানবাহন চলাচল করলেও চালক ও যাত্রীদের মন থেকে আতঙ্ক দূর হয়নি। দূরপাল্লার পরিবহনে আরোহন করতে ভয় পাচ্ছেন যাত্রীরা। কেননা, ইতোমধ্যে পুলিশের পাহারা থাকা অবস্থায়ও অবরোধ সমর্থকদের পক্ষ থেকে পণ্যবাহনী ট্রাকে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বিরোধী পক্ষ দেশের এই দূরাবস্থায় সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছে যে, বৃহত্তর কল্যাণের জন্য, জনগণের উপর চেপে বসা ‘অবৈধ’ শাসকদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে নি®কৃতির জন্যই সাময়িক এই অসুবিধা। সুতরাং ক্ষমতাসীনদেরকে উৎখাতে চলমান অবরোধে তারা যেন সর্বাত্মক সমর্থন প্রদান করে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির নি®কৃতি ঘটাতে এবারেই এই অসুবিধাগুলোর ইতি ঘটবে তার নিশ্চয়তা কোথায়? সেই নিশ্চয়তা কোথায় যে ভবিষ্যতে ক্ষমতাসীনরা বিরোধী দলে গিয়েও জনগণের স্বার্থে অনুরূপ ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে না? বরং অতীত থেকে আমরা এমনটাই বার বার দেখে এসেছি। এটা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থায়ী সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর কোন পরাজিত দল বিনা বাক্য ব্যয়ে তাদের পরাজয় মেনে নেওয়ার নজির আমাদের দেশে নেই। অথচ আমাদের এই উপমহাদেশীয় ও প্রতিবেশী দুটো দেশ শ্রীলঙ্কা ও ভারতের ক্ষেত্রে দেখা গেছে পরাজিত দল কোন ধরনের আপত্তি ছাড়াই নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে পরাজিত দল নির্বাচনী ফলাফলতো মেনে নেয়-ই না, বরং বিরোধী দলে অবস্থান করে তারা সব সময়ই সরকারকে ক্ষমতা থেকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর জন্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে করতে থাকে। এমতাবস্থায় ক্ষমতাসীনদেরকে তাদের অর্ধেক সময়, মেধা ও মনোযোগ ব্যয় করতে হয় বিরোধীদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে গিয়ে।

তাহলে আমরা কীভাবে বর্তমানে সরকারবিরোধী পক্ষের কথায় আশ্বস্ত হতে পারি যে এই আন্দোলনের সফলতার পর আমাদের সুদিন ফিরে আসবে? সে ধরনের নিশ্চয়তা আমরা পাইনি। এমতাবস্থায় সরকারবিরোধী এবং সরকারপক্ষীয় দল সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নির্মূল করার নামে যে সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে, সাধারণ মানুষের অসুবিধায় সমবেদনা প্রকাশ করছে তা তাদের প্রতি পরিহাসে পরিণত হচ্ছে। সত্যিই যদি তারা সাধারণ মানুষের দুঃখে ব্যথিত হয়ে থাকেন তবে তাদের উচিত আগে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে এই সংস্কৃতির অবসান ঘটানো। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উচিত তাদের এই মায়াকান্নায় প্রভাবিত হয়ে না হয়ে রাজনীতিকদের উপর চাপ প্রয়োগ। অথবা এই চলমান এই সংস্কৃতি আমাদেরকে অনন্তকাল ধরে পিষ্ট করে যাবে।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×