somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতাল-অবরোধ বন্ধে আইন তৈরি কতটুকু কার্যকর হবে

১৩ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


রাজনৈতিক দাবি আদায়ের অন্যতম মাধ্যম হরতাল-অবরোধ দেশের অসামান্য ক্ষতি ডেকে আনছে। সাধারণ মানুষের প্রাণহানী ছাড়াও ধ্বংস হচ্ছে দেশের অর্থনীতি। এমনিতেই আমরা দারিদ্রতায় তৃতীয় বিশ্বের কাতারে পড়ে আছি। এর উপর মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে রাজনীতিক দাবি আদায়ের অস্ত্র হরতাল-অবরোধ আমাদেরকে আরো পিছিয়ে দিচ্ছে। কিছুদিন পরপরই ফিরে আসছে হরতাল-অবরোধের মত এসকল ধ্বংসাত্মক রাজনীতিক কর্মসূচি। এমতাবস্থায় আইন করে হরতাল-অবরোধ বন্ধ করার প্রস্তাবনা উঠছে বিভিন্ন পক্ষ থেকে। অবশ্য এই দাবি নতুন নয়, অনেক দিন থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহল আলোচনা করে আসছিল। কিন্তু ইদানীং এসব কর্মকাণ্ড ঘনঘন ফিরে আসা ও এসবের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ চূড়ান্ত আকার ধারণ করায় বিষয়টি জোরালো আকার ধারণ করেছে। হরতাল-অবরোধ বন্ধে আইন করার ব্যাপারে সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। তারা ইতোমধ্যে আইনি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটিও গঠন করেছে। এ বিষয়টির পক্ষে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও আলাপ-আলোচনা উঠছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, যখন যে দল ক্ষমতায় যায় তখন সে দলই নিজেদের ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশ করতে এ ধরনের কথা বলে থাকে। কিন্তু তারাই যখন আবার বিরোধীদলে অবস্থান নেয় তখন উল্টো দাবি করে বলে থাকে যে হরতাল-অবরোধ করে দাবি আদায় তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। সুতরাং আপাতত ক্ষমতাসীন দল হরতাল-অবরোধের বিপক্ষে অবস্থান নিলেও বিরোধী পক্ষ তা মানতে চাইবে না। তাছাড়া যদি এসবের আইন করাও হয় তাতেই বা কী লাভ? হরতাল-অবরোধে মানুষের জান-মালের ক্ষতি হওয়া, নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হওয়া, বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতির ক্ষতি হওয়ার মত এই বিষয়গুলোর প্রতি বিরোধীপক্ষ কি সজাগ নয়? এদেশে তারাও কি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা পরিচালনা করেন না? অবশ্যই যারা বিরোধী দলে থাকে এদেশে তাদেরও ব্যবসা-বাণিজ্য রয়েছে। তাদেরও ক্ষতি হয়। তাদের স্বজনদেরও প্রাণহানী ঘটে। তারপরও জেনে বুঝেই তারা এসব চালিয়ে যান। এক কথায় বলতে গেলে যেহেতু ক্ষমতায় গেলে তারা হরতাল-অবরোধের ক্ষতিকর দিক বুঝতে পারেন, সেহেতু বিরোধী দলে গেলেও তারা সেটা অবশ্যই বোঝেন। কিন্তু বুঝেও তারা গণতান্ত্রিক অধিকারের নামে সেই অপছন্দনীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকেন। সুতরাং নতুন করে আইন বানিয়ে তাদের মূল্যবোধে, বিশ্বাসে পরিবর্তন ঘটিয়ে হরতাল-অবরোধ বন্ধ করা যাবে কী? যেহেতু তারা এসবের ক্ষতিকর দিক বুঝেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তোয়াক্কা না করে সুযোগ পেলেই মানুষের ক্ষতি করে, সেহেতু আইন করা হলে সেই আইনকেও তারা তোয়াক্কা করবে না এটা জোর দিয়ে বলা যায়।

সুতরাং যতদিন রাজনীতিক নেতা-কর্মীরা নৈতিকভাবে এসব কর্মকাণ্ডকে ঘৃণা করে তা থেকে নিজেদেরকে বিরত না রাখবে, ততদিন শক্তিশালী আইনও তাদেরকে বিরত রাখতে পারবে না। যারা নিজেদের মনের আইন, বিবেক ও মূল্যবোধকে অস্বীকার করে মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকে না, তাদের জন্য রাষ্ট্রের কঠিন আইনও বড় ধরনের কোন বাধা নয়। তাই আগে দরকার মানসিকতার পরিবর্তন। অবশ্য আইনেরও দরকার আছে, তবে তাকে চলতে হবে মূল্যবোধের সমান্তরালে। মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে যেসব মজ্জাগত অপরাধী থাকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হতে হবে আইনের কঠোরতা। অন্যথায় সে আইন পরিণত হবে বিরোধীপক্ষকে নির্মূলে ক্ষমতাশীলদের অস্ত্রে। বিরোধীরা যাকে কখনোই সম্মান করবে না।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি আর তুমিঃ ফানা থেকে বাকাঃ জীবনের উপলব্দি সবই তোমার

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:১১


ইশ্‌কে আমি ও তুমি’র ব্যবধান ক্ষীণ হওয়া, ফানা-তে অহংকারের বিলয়, এবং বাকা-তে প্রকৃত বোধ নিয়ে কর্মময় জগতে ফিরে সেবা, বিনয়, করুণা ও কৃতজ্ঞতার জীবন বেছে নেয়ার উপলব্দিতে লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×