ব্লগের চেয়ে ফেসবুককে খুব ডায়নামিক মনে হয়। পেজ রিলোডের কোন দরকার নেই। সাথে সাথে নোটিফিকিশন। কবে করা কোন মন্তব্যের জবাব এলেই নোটিফিকেশন দেখে ঘুরে আসা যায়। ব্লগে ততটা সুবিধে বোধ করি না। তাই অনেক দিন ব্লগে আসা হয় না। কিন্তু অনেক দিন ব্লগে ছিলাম। অনেক বন্ধুদের মিস করি। তাই ফিরে আসার তাগিদ সব সময় অনুভব করি। ভাবছি এখন ব্লগে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করবো। তবে সকলের প্রতি কিছু আবেদন-নিবেদন রেখেই দ্বিতীয় ইনিংসটা শুরু করতে চাই। আশা করি সহব্লগারদের মধ্যে বিষয়টি একটু হলে প্রভাব সৃষ্টি করবে।
মত ভিন্নতা, মতানৈক্য এ দেশীয়দের একটা জাতীয় চরিত্র। একই বিষয়ে হাজার জনের যে হাজার মত থাকতে পারে তা ভার্চুয়াল জগতে আরো বেশি স্পষ্ট। ফেসবুক ও ব্লগের যুগে কথা বলতে না পারা বাঙালিরা মন খুলে তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে। কিন্তু ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতার অভাব, ভিন্নমতকে এক কথায় উড়িয়ে দেওয়া, আক্রমণ করা এদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। এ নিয়ে গালাগালির জোয়ার বইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে বাস্তবিক দুনিয়ায়ও খুন-খারাপীর বহু নজীর রয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে অনলাইন জগত বাঙালির জন্য কতটা আশীর্বাদ আর কতটা অভিশাপ তাই নিয়ে। একদিক দিয়ে চিন্তা করতে গেলে দেখা যায় এটা বরং অভিশাপের পাল্লাই ভারী হয়ে দেখা দিয়েছে। জাতীয় ঐক্য একেবারে ভেঙ্গে পড়েছে। ঘৃণাবাদ চরম আকার ধারণ করেছে।
প্রত্যেকটা মতবাদেরই একেবারে পুরোটা অগ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সেখানে কিছুনা কিছু জিনিস ভালো থাকে। ভালো থাকে বলেই একটা মতবাদ বা আদর্শ দাঁড়াতে সক্ষম হয়। অন্তত শুরুটা ভাল উদ্দেশ্য নিয়েই শুরু হয়। এ জন্য ভার্চুয়াল জগত হতে পারত নিজ নিজ মতের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরা এবং ভুল সংশোধন করা। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি। ঐক্য গড়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করা তো দূরের কথা, নিজেদের মধ্যে লাঠা-লাঠি করেই এদের সময় পার হয়ে যায়। দেশোদ্ধার অস্তপারের কথা।
কিন্তু তবুও আমি বিশ্বাস করি অনেক ফেসবুকার ও ব্লগারগণ একটি সুকোমল হৃদয় রক্ষা করে চলেছেন। ঘৃণাবাদের প্রভাবে অথবা ঘৃণাবাদের প্রতিবাদে নিজেরাও একেবারে ঘৃণাবাদী হয়ে উঠেননি। তারা যদি ঘুরে দাঁড়ান তবে অনলাইন জগতটিকে তারা সুন্দর করে তুলতে পারেন। তাই আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই বিরুদ্ধ মতকে দাবিয়ে রাখার মানসিকতা পরিত্যাগ করে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ না করে তাদেরকে সংশোধন করার চেষ্টা করুন। তাদের ভুল ত্রুটিগুলো বন্ধুর ন্যায় ধরিয়ে দিন। যারা আক্রমনাত্মক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তাদেরকে পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে সেখান থেকে বিরত করুন। 'কুত্তার লেজ কখনো সোজা হয় না' জাতীয় কথা মেনে নিয়ে মানুষের উপর বিশ্বাস হারিয়ে বসবেন না। আর যদি কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সেটা সত্যও হয় তবে আমার জিজ্ঞাস্য হচ্ছে তাদের সাথে পাল্লা দিয়ে কি আপনি তাদেরকে নিবৃত্ত করতে পারবেন? কেননা, এ পথে তারাতো আপনার চেয়ে পুরাতন ও অভিজ্ঞ। মূর্খের সাথে নাকি তর্ক করতে হয় না, কারণ তার সাথে বিজয়ী হতে হলে তার মতই মূর্খ আচরণ করতে হয়। কিন্তু সে তার অভিজ্ঞতা দিয়ে বিজয়ী হয়ে যায়।
যে যে মত বা যে পথকেই বিশ্বাস করুণা কেন, প্রত্যেকের প্রতি আমার অনুরোধ আপনারা আপনাদের মত ও পথকে আন্তরিকতার সাথেই তুলে ধরুন। আপনি যে পথ বা যে মতকেই ভালোবাসুন না কেন সেটা যেন নিজের হৃদয়ের শতভাগ সমর্থিত হয়। তবে এর আগে যাচাই করে দেখুন আপনি সেটাকে শত ভাগ যাচাই-বাছাই করে গ্রহণ করেছেন কিনা কিংবা সেই যাচাই-বাছাইয়ে কোন ধরনের ঘাটতি আছে কি না। আপনার যাচাই-বাছাইয়ে ঘাটতি থাকলে সেটা আপনার কাছে ধরা নাও পড়তে পারে। কিন্তু অন্যের চোখে সেটা ধরা পড়বে। আপনার মত নিয়ে তখন কেউ দ্বিমত করলে আগেই উত্তেজিত না হয়ে দ্বিতীয়বার যাচাই-বাছাই করুন। প্রয়োজনে হার মানুন। দু:খ প্রকাশ করুন। দু:খপ্রকাশে নিজের কোন মানহানী ঘটে না। শুধুমাত্র অহ্ঙ্কারীরাই মানহানীর চিন্তা করে। তর্কে বিজয়ী হওয়ার জন্য তাৎক্ষণিক অজ্ঞতাপ্রসূত জবাব দিয়ে দেবেন না। আশা করি, ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে মত প্রকাশ করলে সেটা আমাদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি না করে বরং ঐক্যের দিকেই নিয়ে যাবে। তখন ভার্চূয়াল জগতে আমাদের সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় কাজে লাগবে। কেননা, আমাদের সকলের উদ্দেশ্যই কিন্তু জাতীয় কল্যাণ, নিজেদের উন্নতি। সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করে গুতো-গুতি করা নিশ্চয় কারো উদ্দেশ্য নয়। সকলকে ধন্যবাদ।
ফেসবুকে আমি
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



