একটা সাতশো-আটশো পৃষ্ঠার উপন্যাস মনকে যতটা নাড়াদিতে পারে, অনেকক্ষেত্রে পাঁচ-ছয় পৃষ্ঠার ছোটোগল্প তারচেয়ে চিন্তার জগত্কে অনেক বেশি আন্দোলিত করতে পারে। হ্যাঁ, উপন্যাসে কাহিণী থাকে বিস্তারিত, বর্ণনাও থাকে পুঙ্খানুপূঙ্খ, পটভূমি হয় বিশাল। সে তুলনায় ছোটোগল্প নিতান্তই ক্ষুদ্র। কিন্তু অনেকসময় যেমন সুঁচের একটা ছোট্ট খোঁচাই তীব্র যন্ত্রণার কারণ হয়, তেমনি ছোটোগল্পের ধাক্কাটাও হয় তীব্র। অন্যদিকে উপন্যাসের যন্ত্রণাটা ধীরে ধীরে সময় নিয়ে উপলব্ধী করা জায়।
হুমায়ূন আহমেদ তার উপন্যাস (আমরা যেগুলো হুমায়ূনের উপন্যাস বলি তার অনেকগুলোই আসলে উপন্যাসিকা), বিশেষ করে হিমু আর মিসির আলীর জন্য বেশি বিখ্যাত। উপন্যাসিক পরিচয়ের আড়ালে যেন তার গল্পকার পরিচয়টা একটু চাপাই পড়ে যায়। হুমায়ূন আহমেদের যে ছোটোগল্পগুলো আছে সেগুলো অসম্ভব রকমের ভালো। তার এমন কিছু ছোটোগল্প আছে যেগুলো শুধু বাংলা সাহিত্য না, বরংচ বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য রত্ন হবার যোগ্যতা রাখে। কিন্তু ভাবতে একটু আক্ষেপই লাগে যে হুমায়ূনকে শুধুমাত্র আমরা হিমু বা মিসির আলীর মধ্যে অনেকটাই আটকে রেখেছি। তাছাড়া, নিন্দুকের যে অভিযোগ, হুমায়ূন আহমেদের কাহিণীতে কোনো গভীরতা থাকে না, তার ছোটোগল্পের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ করার জন্য কোনো শক্ত মাটি পাওয়া যায় না।
অবশ্য এ কথা বলার কারণ সাম্প্রতিক সময়ে হুমায়ূন পড়ার ফলে না, বছর খানেক আগেই ক্লাস ফাঁকি দিয়ে হুমায়ূনের ছোটোগল্প সমগ্র শেষ করেছিলাম। আর মাত্র কিছুদিন আগে পড়লাম ওবায়েদ হকের "নেপথ্যে নিমকহারাম" + সুবোধ ঘোষের বাছাই গল্পসমগ্র + মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের "প্রাগৈতিহাসিক"। ছোটোগল্পের প্রতি বিশেষ ভালোলাগাটা এদের মধ্যদিয়েই শুরু।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ৮:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



