somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পের খোঁজে

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ২:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাস ষ্ট্যান্ডে দাড়িয়ে আছি এক ঘন্টার মতো। কোন বাস নেই। অফিস থেকে বাসায় ফিরব বলে একটু তারাতারি বের হয়েছি। কিন্তু তাতে কোন লাভ হল না। যেই লাউ সেই কদু অবস্থা। বাস সব গেল কই। অনেক ক্ষন বাস না আসায় ষ্ট্যান্ডে লোক জমে গেছে। ওদের ঠেলে বাসে উঠা যাবেতো। এসব ভাবছিলাম। কোথা থেকে যাত্রি বোঝাই একটি বাস এসে থামল। অপেক্ষমান যাত্রিদের মাঝে হুটপুটি লেগে গেল বাসে উঠার জন্য। না! উঠতে পারলাম না। বাসের গেইটা পর্যন্ত লোড। ঝুলে যাব তারও উপায় নেই। তবুও উঠার শেষ চেষ্ট করলাম না! পারলাম না। বাস ছেরে দিল।
হঠাৎ দ্রীম! দ্রীম! আওয়াজে হতচকিয়ে গেলাম। একটু দুরে কারা যেন বোমা মেরেছে সেই বাসটিতে। দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পেট্রল বোমা হবে হয়তো। আজকাল তো ককটেল বেকডেটেড হয়ে গেছে। প্রেট্রল বোমার জমানা । ঘটানার আকস্মিকতা আমাকে বাক্যহারা দিশাহারা করেদিল। কি হল এটা! মুহুর্তে বাসটি পুরে ছাই। আগুনের ভয়াবহতা আর মানুষের আত্ম চিৎকারে পুরো এলাকা হয়ে গেল যেন জাহান্নাম পুরী।
আমি মাঝে মাঝে টুকটাক লেখা লেখি করি । আজ কয়দিন হলো কিছু লিখতে পারছিনা। মাথায় কিছুই আসছে না। কি নিয়ে লিখি? কি নিয়ে লিখি? সারাক্ষন একটি হাসপাস হাসপাস ভাব। ঠিক এমন সময় এইভাবে এমন একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতা লিখে যে এ সমস্যার সমাধান হবে ভাবতে পারিনি। দৌড়ে ছুটে গেলাম পোড়া বাসটির কাছে।
আমার সামনে এতোক্ষন যে ছেলেটি বাসের জন্য অপেক্ষা করছিল। এইতো কিছুক্ষন আগে কেমন সুস্থ স্বাভাবিক ছিল। আমাকে অনেকটা ঠেলেই বাসে উঠে পরেছিল সে।একখন রাস্তায় কাতরাচ্ছে। তার শরীর আগুনে ঝলসে গেছে। আসে পাস থেকে লোকজন ছুটে এসেছে। কেউ জলন্ত বাসটি নেভানোর চেষ্টা করছে। কেউ বাস যাত্রিদের বের করছে। সবারই শরিরের কোন না কোন জায়গা ঝলসে গেছে। কি বিভৎস! কি ভয়ংকর! মানুষ এমন কাজ কিভাবে করে?
ডায়রীতে এতটুকই লেখা ছিল আর নেই। ডাইরিটা পাওয়া গিয়েছিল ঢাকা মেডিকেলের মর্গে এক বেওয়ারিশ ডেডবডির পকেটে। তার শরীরে ৮০% পুরে গিয়েছিল। সাংবাদিক হাসান দেশের নামকরা একটি পত্রিকার সাংবাদিক। শাহবাগে একটি বাসে বিকেলে কারা যেন পেট্রল বোমা ছুড়েছে। এ সংবাদ পেয়ে সে ছুটে আসে ঘটনাস্থলে। বাসটি আগুন তখন ফায়ার সার্ভিস নিভিয়ে ফেলেছে। যাত্রিদের উদ্ধার করা হয়েছে। কম বা বেশী সবাই আহত। কিন্তু নিহত শুধু একজন।
ডাইরীটার কিছু অংশ পুরেগিয়েছিল। পুরা ডাইরীটা হাতে নিয়ে ভাবছে হাসান। এ জগৎ কত বিচিত্রময়! যে গল্প সে একদিন রচেছিল, হয়তো তা সত্য হয়তোবা কাল্পনা। সে লেখক আজ নিজেই তেমন গল্পের ট্রাজিক চরিত্র হয়ে গেল।
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×