somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আতা স্বপন
মানবিকতা যার মধ্যে আছে সেই আল্লাহকে পায়

আবেগ নিয়ে খেলায় আখেরে লাভটা কার?

২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ দুপুর ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের আবেগ বড়ই জটিল।আবেগ আপেক্ষিক। কারোর আবেগের সাথে কারোটা মিলে না। একে অন্যের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধাও দেখায় না। যার যার আবেগের জন্য সে যে কোন ঝুকি নিতে পারে। অন্য যখন একই রকম তার আবেগের জন্য ঝুকি নেয় তখন তাকে তিরস্কার করে ঐ ব্যক্তি।ভুলে যায় সে নিজে্ও একই কাজই করে। পার্থক্য দুজনের আবেগের বিষয় আলাদা। সবাই শুধু নিজের আবেগের ক্ষতিটা দেখেনা। অন্যের আবেগের ক্ষতি বড় আকাড়ে প্রকাশ করে। আবেগ আছে ধর্মীয়, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পারিপাশ্বিক নানামুখী। একটি আবেগ আরেকটি আবেগকে হেয় করে।সে ভাবে অপর আবেগ হলো ক্ষতি। আর নিজের আবেগ ক্ষতি হল্ওে তা চেপে যা্ওয়ার চেষ্টা করে।

মসজিদ বন্ধ।এটা একজন মুসলিমের আবেগ। সে মসজিদে যেতে চায়। কিন্তু দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখার কারণে যায় না।তার ধর্ম তাকে করোনার এ সময় রুকসাত বা ছাড় দিয়েছে। যা ঐচ্ছিক। মুলটা পালনই উত্তম। কিন্তু সে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার কারনে যায় না। এরা হলো তারা যারা আবেগকে সামলানোর চেষ্টায় রত।আবার এর ব্যতিক্রম্ও আছে এরা আবেগকেই প্রাধান্য দিয়ে সরকারী আইন তোয়াক্কা না করে মসজিদে যায়। তারা ছাড় গ্রহনে নারাজ। মুলটাই তারা গ্রহন করে।

এখন যারা ধর্ম কর্ম কম করে তারাতো ধমীয় আবেগকে পছন্দ করে না। তখন তারা এটাকে ফলা্ও করে প্রচার করে। যা একজন আলেমের জানাজার ক্ষেত্রে হল।

মুজিব বর্ষ অনুষ্ঠান । একটি রাজনৈতিক আদর্শিক আবেগ। এ আবেগ যাদের মনে আছে তারা ছোট হোক বড় হোক সবসময় চেষ্টা করেছে একটা অনুষ্ঠান করতে। তখন কিন্তু করোনার প্রকোপ এ দেশে সবেমাত্র ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু আবেগের কাছে সেটা পরাজিত হল। অনুষ্ঠান হলো কিন্তু তা ব্যপক আকরে হল না। আবেগকে কিছুটা হলেও সামলানোর চেষ্টা করেছে।কিন্তু যখন বঙ্গবন্ধুর খুনীর ফাসি হলো তখন সেই আবেগ এর বত্যয় হলো। করোনার আইনকে উপেক্ষা করা হল। খালেদা জিয়া মুক্তির সময়ও তাই হলো। লোকে লোকারন্য। যার কারণে অনেক মিডিয়া কর্মি সহ রাজনৈতিক কমীরা করোনার ঝুকিতে পড়েছেন।

নববর্ষ সামাজিক ও ঐতিহ্যগত আবেগ। এটা সবাই একসাথে প্রতি বছর পালন করে। কিন্তু এবার করোনার কারণে সরকারী আইন মেনে সেই অনুষ্ঠান হয়নি। কিন্তু আবেগের কারণে এর বত্যয় হয়েছে। ফেসবুকে দেখলাম একজন সরকারী মন্ত্রী তিনি বাসায় নববর্ষের অনুষ্ঠান করছেন। অথচ তারই ধর্মীয় আবেগের কারনে ব্রহ্মণ বারিয়ায় পুলিশের উপর এ্যাকশন নিয়েছেন। যদিও এখানে পুলিশের কোন ফল্টই ছিল না।এগুলো লোককে সামাল দেয়ার মত সোর্স তাদের নেই।

আবার ধর্মীয় আবেগ মেনে যারা দশ জন মিলে জুমার সালাত আদায় করছে তাদের এই আইন মানাকে ধর্ম যারা মানেননা তারা অনেকে ধার্মীকদের পরাজয় হিসেবে মনে করছেন। এবং তা ফলা্ও করে প্রচারের জন্য মসজিদে মিডিয়া কর্মীদের এত ভীর যে সেখানে করোনার সেফটি ডিসটেন্স ছিল না। দেখা যায় দশ জনের ছবি তুলছে পচিশ জন মিডিয়া কর্মী।

ত্রান দিচ্ছে এটা একটি সামাজিক আবেগ। কিন্তু এখানেও কেউ সেফটি ডিসটেন্স মেনে ত্রান দিলেও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে গাদাগাদি করে বিশাল জমায়েতে ত্রান দিচ্ছে। এটা হলো নিজেকে সামাজিক ভাবে প্রচারের একটি বিকৃত আবেগ।

গার্মেন্টস কর্মীদের নিয়ে যে গেম খেলা হলো এটা হল অর্থনৈতিক আবেগ। আইন মেন অনেক প্রতিষ্ঠানের মত গার্মেন্টসও বন্ধ রাখা হয়। গামেন্টস মালিকদের কেউ কেউ সরকারী সময় পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিন্ধান্তটি মানলেও বেশীর ভাগ গার্মেন্টস মালিক তা লংঘন করেন । তারা তাদের অর্থনৈতিক লোকশানের অজুহাতে তারা অতিরিক্ত লকডাউনের/কোয়ারেন্টাইনের যে সময়টি ছিল তা তারা মানেননি।ফলে যে সকল পোষাক শ্রমিক পূর্বের লকডাউন কালে গ্রামে চলে গিয়েছিল তারা লকডাউন ভেঙ্গে ঢাকায় আসতে বাধ্য হয়। দেখা যায় তারা দলে দলে হেটে ভ্যানে বা কখনো কোন যানে গাদাগাদি করে হলেও কর্মস্থলে এসেছেন। কিন্তু সরকার বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করলে গামেন্টস মালিকরা তখন গামেন্টস বন্ধ করে দেয় বিনা বেতনে। যদিও কেউ কেউ বেতন দিয়েছেন কিন্ত তা বলার মত কিছু না। এ পরিস্থিতে গামেন্টস কর্মীরা বেতনে দাবিতে গাদাগাদি করে আন্দোলন করে। কথা হলো এই যে গাদাগাদি করে দফায় দফায় করোনা ঝুকিতে পড়ছে মানুষগুলো । এক্ষেত্রে দায় কার? করোনার আইন ভংগ করেছে কারা? মালিকরা না শ্রমীকরা?

এইযে ত্রানের গাড়ি লুট হলো। এটা্ও একটি পরিবেশ পরিস্থিতির স্বীকার কিছু মানুষের পারিপাশ্বিক আবেগ। তারা করোনায় মরার ঝুকিকে তোয়াক্কা করেনি। তারা নাখেয়ে মরাকে বেশী মনে করেছে। তাই সরকারী সেফটি ডিসটেন্স লংঘন করে তারা দলবদ্ধ ভাবে ত্রান লুট করে। পেটের ক্ষুধার কাছে আইন আর করোনা পরাজিত হয়।

কথা হলো আবেগ অনেক আছে। কিন্তু সবার চুলকানীর কারন হলো ধমীয় আবেগ। অথচ আইন ভঙ্গ হয়েছে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ,সামাজিক পারিপাশ্বিক আরো নানা আবেগেও।মিডিয়া আর প্রশাসন যে পরিমান ধমীয় আবেগ প্রবন মানুষগুলোর দোষত্রুটি হাইলাইট করার চেষ্টা করছে অন্যান্য ক্ষেত্রে তার ছিটাফোটা রিএ্যাকশন ও কোন প্রকার প্রশাসনিক এ্যকশন নেই। বরং মিডিয়া এসবক্ষেত্রে এরিয়ে যাওয়ার বা আড়াল করার চেষ্টা করছে।

সরকারী আইন সে যেই হোক না মানলে সরকার এ্যাকশন নিবে সমান ভাবে। কোন পক্ষপাতিত্ব হলে তা একটি দেশের প্রসাশনিক ব্যালেন্সকে প্রশ্ন বিদ্ধ করে। ধমীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক আবেগ যেমনই হোক সরকারী আইন এর প্রতি সবার শ্রদ্ধা দেখানো উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৩:০৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মরীচকাি ও নক্ষত্র

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১০


মেয়েটি অত্যন্ত শান্ত ভঙ্গিতে টিস্যু পেপার দিয়ে ঠোঁটের কোণ মুছে নিল। তারপর সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে অবলীলায় বলল, "নীল, আমি প্রেগন্যান্ট!"
আমি তখন চায়ের কাপে সবেমাত্র একটা অসতর্ক চুমুক দিয়েছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×