somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ম্যারাথনের যুদ্ধের আংশিক ঘটনা

২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ম্যারাথনের যুদ্ধ হল ৪৯০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্র অ্যাথেন্সের মূল শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে ম্যারাথন নামের এক ময়দানে গ্রিক এবং পারসিকদের মধ্যে সংঘটিত একটি যুদ্ধ । অ্যাথেনীয় এবং তাদের মিত্র প্লাতায়ীয়রা এবং পারস্যের রাজা ১ম দরিয়ুশের সৈন্যদের মধ্যে এই যুদ্ধ ঘটে এবং যুদ্ধে গ্রিকদের জয় লাভ হয় । এবং এই গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধেই গ্রিসের উপর পারস্যের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রথম প্রচেষ্টা নস্যাৎ হয়েছিল ।


পারসিকেরা কেন গ্রীসে অভিযান চালিয়েছিল এবং কোন পরিস্থিতিতে ম্যারাথনের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল সে সম্পর্কিত আধুনিক জ্ঞান পুরোপুরি গ্রিক জনশ্রুতির উপর নির্ভরশীল । যেগুলি যুদ্ধের ৫০ থেকে ৬০ বছর পরে গ্রিক ইতিহাসবিদ হেরোদোতুস লিপিবদ্ধ করে গিয়েছিলেন । হেরোদোতুসের ভাষ্য মতে এশিয়া মাইনর অঞ্চলে ৪৯৯ বা ৪৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য সাম্রাজ্যের অধীন আয়োনীয় গ্রিক শহরগুলি বিদ্রোহ করেছিল । এবং সেই বিদ্রোহের সহায়তা করার প্রতিশোধ হিসেবে পারস্যের সম্রাট দরিয়ুশ গ্রিক শহর অ্যাথেন্স এবং এরেত্রিয়ার বিরুদ্ধে অভিযানে নামেন । হেরোদোতুসের মতে পারস্যের লক্ষ্য ছিল সমগ্র গ্রিস দখল করা । আক্রমণের আগে দরিয়ুশ সমস্ত গ্রিক শহরগুলিকে আত্মসমর্পণ করতে বলেন । অ্যাথেন্সের নির্বাসিত স্বৈরশাসক হিপ্পিয়াস এ সময় দরিয়ুশের অভিযান বাহিনীতে ছিলেন এবং তিনি হয়ত দরিয়ুশকে প্রভাবিত করে থাকবেন । ৪৯২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে দরিয়ুশের ভাতিজা এবং জামাই মার্দোনিউসের অধীনে একটি নৌবাহিনী উত্তর গ্রিসের থ্রাকে ও ম্যাসেডোনিয়া অঞ্চলে ঘুরে আসেন । তারা ম্যাসেডোনিয়াকে পারস্যের পদানত করতে সক্ষম হন । কিন্তু আথোস পর্বতের কাছে ঝড়ে পড়ে মার্দোনিউসের নৌবহর ধ্বংস হয়ে যায় ।


৪৯০ খ্রিস্টাব্দেরপূর্বে পারসিক সমরনেতা দাতিস এবং আর্তাফের্নেস এজীয় সাগর পাড়ি দেন এবং যাবার পথে সাইক্লাডিক দ্বীপপুঞ্জ দখল করেন । তারা এউবোইয়া দ্বীপে অবতরণ করেন এবং শক্তি দিয়ে ও বিশ্বাসঘাতকদের সহায়তায় সেখানকার কারিস্তুস ও এরেত্রিয়া শহরগুলিকে পদানত করেন । এ সময় আথেনীয়রা সাহায্য প্রার্থনা দিয়ে দৌড়বিদ ফেইদিপ্পিদেসকে স্পার্তা শহরে পাঠায় । এউবোইয়া থেকে পারসিকরা সহজেই অপ্রশস্ত সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ম্যারাথনের সমভূমিতে পৌঁছে । ম্যারাথনে যাবার অনেকগুলি কারণ ছিল । ম্যারাথন ছিল এউবোইয়া থেকে সমুদ্র পাড়ি দেবার সবচেয়ে সহজ গন্তব্যস্থল । এছাড়া হিপ্পিয়াস হয়ত আত্তিকার পূর্ব প্রান্তের অঞ্চলগুলির কাছ থেকে রাজনৈতিক সহায়তার আশা করেছিলেন। পারসিকেরা ম্যারাথনের সমভূমিগুলিকে তাদের ঘোড়সওয়ার সৈন্যদের জন্য আদর্শ বলে মনে করেছিলেন । পারসিকেরা ম্যারাথনে পৌঁছবার পরে কিছুদিন বিরতি দিয়ে ম্যারাথনের যুদ্ধ শুরু করেন । এর আগে অ্যাথেন্সের দশ সমরনেতার মধ্যে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা নিয়ে এক বিতর্ক তৈরি হয় । শেষ পর্যন্ত মিলিতিয়াদেসের যুক্তি যুদ্ধে যাবার পক্ষে তাদেরকে মত পরিবর্তন করে । মিলিতিয়াদেসের যুক্তি ছিল যুদ্ধ না করলে আথেন্সের ভেতরে বিভাজন এবং বিশ্বাসঘাতকতা বৃদ্ধি পাবে । অন্যদিকে যুদ্ধে জয়ী হলে গ্রিসের উপর আথেন্সের আধিপত্য নিশ্চিত হবে ।


প্রকৃত যুদ্ধের ঘটনাবলী সম্পর্কে নিশ্চিত জানা যায়নি । পারসিকদের ছিল অশ্বারোহী সেনাদল এবং গ্রিকদের এরকম কোন সেনাদল দেখতে না পেয়ে তারা বিস্মিত হয়েছিলেন । যুদ্ধে প্রায় ১০ হাজার গ্রিক অংশ নিয়েছিল । পারসিক সৈন্যের সংখ্যার ব্যাপারে কিছু দ্বিমত আছে । সমসাময়িক কবি সিমোনিদেসের দেয়া সংখ্যা ৯০ হাজার বিশ্বাসযোগ্য না । একটি আধুনিক হিসাব মতে ২৫ হাজার পারসিক সৈন্য যুদ্ধ করেছিলেন । যা ই হোক পারসিকেরা ছিল গ্রিকদের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি । কিন্তু তীব্র এই যুদ্ধশেষে পারসিকেরা বড় পরাজয় লাভ করে । ম্যারাথনের যুদ্ধের পর পারসিকেরা জাহাজে করে সৌনিওন অন্তরীপ ঘুরে আথেন্স শহর সরাসরি আক্রমণ করতে যায় । কিন্তু আথেনীয় সেনাবাহিনী সময়মত শহরে ফিরে আসে এবং পারসিকদের এই দ্বিতীয় আক্রমণও প্রতিহত করে । পারস্যের জাহাজগুলি শেষ পর্যন্ত অভিযানে ব্যর্থ হয়ে ফেরত চলে যান । পারসিকেরা আবার ৪৮০ ও ৪৭৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিস দখলের চেষ্টা চালিয়েছিল । সেই অভিযানে থের্মোপিলাইয়ের যুদ্ধ সালামিস এবং প্লাতাইয়ার যুদ্ধ সংঘটিত হয় ।

ছবিঃ ইন্টানেট থেকে সংগ্রহ ।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ১:২৩
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একলা আমি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৫

সব মানুষের ভিতর একটা একলা 'আমি' থাকে। যে আমি হাজার মানুষের ভিড়েও নিজের একাকিত্বকে আগলে রাখে। সেখানে একটা 'তুমি'ও থাকে। যে তুমি, চিরবিরহের। যে তুমি অনেক দূরের, যাকে চোখ দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×