somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অয়ন আহমেদ
শখ : লেখালেখি, ফটোগ্রাফি। প্রথম বই : বন্ধু মানে বোধহয়, প্রকাশকাল : ১৯৯৯। দ্বিতীয় বই : বৃষ্টি রেখেছে জলজ স্মৃতি, প্রকাশকাল : ২০১০।

একাল ও সেকাল (পর্ব-১)

২২ শে আগস্ট, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ আ লেখালেখি আরেকটি প্রজেক্ট শুরু হল। আমরা সবাই একটা সময়ের সাক্ষী । আমাদের বড় হয়ে যাওয়ার পিছনে অনেকগুলো গল্প থাকে। যেগুলো আজকের বড় হতে থাকা ছেলে মেয়ের কাছে অবাস্তব ও অলৌকিক মনে হতে পারে। তবু অনেক কিছু শেখার থাকে। জানার থাকে। সেসব কথাগুলো আমাদের সবার কাছে পৌছে দেওয়াটা খুব জরুরী। নতুন প্রজম্ম যাতে ভুল পথে চলে না যায় সে দিক নজর রাখা আমাদের দায়িত্ব।

একাল ও সেকাল (পর্ব-১)
-------------------------
প্রথমবার স্কুল পালালাম। আমার মত ছাপোষা ও ভীরু ছেলের মতন স্কুল পালানোটা রীতিমতন ভয়ঙ্কর কিছু। বাবা রোজ অফিস যাওয়ার পথে আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যান। আজ ক্লাসে ঢুকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলাম। শরীর যে খারাপ ছিল তাও না। আমার একটা নতুন বন্ধু হয়েছে ওর নাম নয়ন। আমাদের দু’জনের নামের সাথে মিল থাকায় সাতদিনের মাথায় গাঢ় বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। নয়নের কথা মতন স্কুল থেকে প্রথমবার পালালাম। নয়ন থাকত স্কুলের কাছের কলোনীতে। তাই পালিয়ে গিয়ে ওর বাসায় গেলাম। ওদের বাসাটা কেমন যেন অগোছানো। বেশীক্ষন থাকি নি। বেরিয়ে বাড়ী চলে আসলাম। মা আমাকে দেখে বকা দিলেন। পরে আদর করলেন, ছেলের বোধহয় শরীর ভালো না।

পরের দিন আমাকে ক্লাস শিক্ষক ডেকে বললেন, কাল স্খুলে আসো নি কেন? আমি দুরুদুরু কম্পনে বললাম, ”শরীর খারাপ করেছিল”। স্যার বললেন, কাল বাবার কাছ থেকে সাইন নিয়ে অনুপস্থিতির দরখাস্ত নিয়ে আসবে। জীবনের প্রথম মিথ্যা কথা বলা শুরু। নয়ন আমার পিছনে বসে মুচকি হাসছিল। আমার ভিতর অপরাধবোধ হচ্ছিল। তখন ঠিক করলাম আর পালাবো না। অতঃপর মাসখানিক পড়াশুনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলাম। একগাদা হোমওয়ার্ক। সামনে রোজা চল্লিশ দিনের একটা বড় বন্ধ আছে তাই অনেক পড়ার চাপ। স্কুল খুলে পরীক্ষা। স্কুল ছুটি শেষে আজকাল মা আসতে পারে তাই রোজ আমার প্রিয় কিছু সহপাঠিদের নিয়ে রেললাইন দিয়ে হাটতে হাটতে বাড়ী ফিরি।

আজ স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে। স্কুল ছুটির পর নয়ন বললো, আজ আমাদের বাড়ীতে তোর দাওয়াত। আমি অবাক হলাম, বলা নেই কওয়া নেই, হঠাৎ দাওয়াত। না করতে পারলাম না। একটু খারাপ লাগলো এই ভেবে মা রোজ আমার জন্যে খাবার বানিয়ে রাখে আমি বাড়ী ফিরে সেগুলো গোগ্রাসে গিলতে থাকি প্রতিদিন। নয়নদের বাড়ীতে ফোন ছিল না। আজ খাব না, এই কথাটা মাকে জানানো গেল না। মা আমার জন্যে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করবে। ভয় ঢুকে গেল। আমি আজ শেষবারের মতন নয়নের বাসায় গেলাম গিয়ে দেখি একদল ছেলে বসে সিগারেট খাচ্ছে। পাশে ছড়ানো ছিটানো বিরিয়ানীর প্যাকেট, কাঁচের বোতল ভর্তি কোক। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা ছেলে নেতিয়ে পড়ে আছে। পাশে সিরিঞ্জ পড়ে আছে। নয়ন আমাকে রেখে পাশের ঘরে গিযেছিল। আমি তখন বুঝতে পারলাম আমি ফেঁসে গেছি নেশাখোরদের ঘরে। ওদের বাড়ীটা এক তলা, আরো কয়জন আসবে বলে মূল দরজার ছিটকানী খোলা ছিল। আমি বাথরুমের কথা বলে পালিয়ে গেলাম। সেদিন যেভাবে স্কুল পালিয়েছিলাম। সেই পালানোর সুবাদে আজকে আমি শিক্ষিত মানুষ হতে পেরেছি। আমার মতন অনেকে আছেন যারা কখন পালাতে পারেন না, চান না তখন তাদের জীবন থেকে ছুটি নিতে হয়। তাদের পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়।

আজ যারা বাবা-মা, অভিভাবক তাদেরকে আমি অনুরোধ করব, আপনার ছেলেমেয়ে কাদের সাথে মিশছে তাদের সম্পর্কে খবর রাখুন। তাদের বাড়ীতে যান। তাদেরকে অভিভাবকসহ বাড়ীতে দাওয়াত করুন। নিয়মিত স্কুল শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। ছেলে মেয়েদের সাথে সব কিছু শেয়ার করুন। ওদেরকে কথায় কথায় বকতে যাবেন না। বন্ধু হয়ে যান। দেখবেন ওরা আপনাকে গর্বিত করবে দারুন কিছু করে।

অয়ন আহমেদ
২২ই আগষ্ট, ২০১৩

ayondiary.wordpress.com
ayonphotography.wordpress.com
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পিনাকী ভট্টাচার্য কেন দেশে আসে না, জানেন?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৯


Pinaki Bhattacharya - পিনাকী ভট্টাচার্য তিনিঞ্চি কেন দেশে আসে না জানেন? তার পাসপোর্টই তাকে সে অনুমতি দেয় না। Meghna Alam থেকে প্রাপ্ত এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে তার পাসপোর্টে স্পষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের সেই এন্টিনিয়ার।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৮

কিছু স্বপ্ন, কিছু স্মৃতি এবং নানীর বাড়ি



আমি বেশ কিছুদিন ধরে একটি বিশেষ ধরনের স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্নের কথায় যাওয়ার আগে কিছু পেছনের গল্প বলা প্রয়োজন।

ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকে অনার্স... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×