কুবরিকের অন্যান্য ছবিগুলোর মতোই এই ছবিতেও রয়েছে অসামান্য শিল্প নির্দেশনা এবং দূর্দান্ত সিনেমাটোগ্রাফী। প্রথম দৃশ্যে ব্যারির পিতার মৃত্যূ থেকে শুরে করে পুরো ছবিতেই রয়েছে কিছু ট্রেডমার্ক শট। আলোর অসাধারণ ব্যবহার ছবিতে অষ্টাদশ শতাব্দীকে ফুটিয়ে তুলেছে চমৎকার ভাবে। আর ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডে ব্যবহার করা হয়েছে বাক, মোজার্ট, শ্যুবার্টের অসাধারণ কিছু সৃষ্টি।
ব্যারি লিন্ডন ছবির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে আইরিশ যুবক রেডমন্ড ব্যারিকে কেন্দ্র করে। সত্যিই কি মানুষ পারে নিজের ভাগ্যকে গড়তে? পুরো ছবিতে যেনো এই তত্ত্বকেই প্রশ্ন করা হয়েছে। ভাগ্যহারা যুবক ব্যারি কি করে আর্থিক সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জন করে আবার নিয়তির নির্মম পরিহাসে পরিণত হয় ভাগ্যের ক্রীড়ানকে।সহজ দৃষ্টিতে মনে হওয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ঘটনাগুলো কি করে পরবর্তিতে মানুষের ভাগ্যে বিশাল পরিবর্তন আনে তাই যেনো দেখানো হয়েছে এই চলচ্চিত্রে।ব্যারির জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো যেনো আমাদের জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। সমাজে উচ্চস্থানে পৌছার প্রতিযোগীতায় বিবেক হারানো মানুষের প্রতীক রেডমন্ড ব্যারি। হতভাগা যুবক থেকে সমাজের উচ্চস্তরের ভদ্রলোক হবার প্রতিযোগীতায় ব্যারি অনেককে হারালেও নিজেই যেনো হারিয়ে যায় একসময়। নিজেকে ভদ্রলোক প্রমাণ করা একমাত্র ঘটনাটাই ব্যারির জীবনে ঘটিয়ে দেয় সবচেয়ে বড় অঘটনের। ছবিটি কুবরিকের সবচেয়ে শিল্পিতভাবে তৈরী করা ছবিগুলোর একটি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মে, ২০০৭ রাত ২:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



