somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুভূতির দাহ্য কথা......

৩১ শে জানুয়ারি, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মনটা প্রচণ্ড খারাপ।আসার সময় গুলিস্তান এ দেখলাম অনেকগুলো পোড়া বাসের সারি।তার মাঝে সেই বাস টাও আছে যেটা তে আমার যাতায়াত অনেকটা নিয়মিত।অনেক টা নিয়মিত বলছি এ জন্য যে ঐটা একটা লোকাল বাস।আমার অফিসে যাবার সময়ের সাথে ঐটার ছাড়ার সময় অনেকটা মিলে যায়।

ঐ বাস টাতে আমি থাকতে পারতাম বা পুরে মরে যেতেও পারতাম এটা ভেবে খারাপ লাগছে না।আমি ছিলাম না কিন্তু ঐ বাসটাতে আমার মতই কোন এক আজাদ হয়ত ছিল।হতে পারে সে এক পরিবারের স্বপ্ন বা আশার শেষ স্থল,ভবঘুরে একজন যে কিনা তার বাবার বকুনি খেত কিন্তু মায়ের অতি আদরের,কিংবা এক বাবা যে তার মেয়েটার কাছে জীবনের চেয়ে প্রিয়,এক স্বামী যার পথ চেয়ে তার স্ত্রী চোখের কোনে কাজল দিয়ে পথ চেয়ে বসে থাকে,কিংবা কোন পরিবাব্রের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।


উপরের সবগুলোই সত্যি হতে পারে, আবার আমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুলও হতে পারে।হয়তো কেও পুড়েনই,শুধু একটা বাস ই পুড়েছে।সাথে পুড়েছে তিনজন মানুষের ভাগ্য।ড্রাইভার,হেল্পার,কন্ডাক্টর।শুধু ভাগ্য বলছি কেন?ওরাও তো পুরে থাকতে পারে যারা আমাদের চোখে মানুষ বলে গণ্য হয়না।কত গালি কত বকা তবুও ওদেরকেই নিয়েই আমাদের যাত্রা।সবার শেষে ওরা আমাদেরই একজন।

ঐ বাস টাতে না গেলেও আরেকটা বাস এ যাতায়াত করব এটাই সত্যি।কারন আমাকে যেতেই হবে।বেচে থাকতে হলে জীবন জীবিকা জরুরি।কালকে থেকেই আবার যাবো।কোন মনির হয়েও যেতে পারি।বাবা মা লাশ খুজে পেতেও পারে নাও পারে।সে জন্যও বলার কিছু নেই।কিন্তু যদি অর্ধমৃত হয়ে বেঁচে থাকি সেটা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।হাসপাতালের বার্ন ইউনিট,অনেক পোড়া রোগী,তার মাঝে আমিও একজন,মানুষ পোড়া গন্ধ।পাশে মা বসে কাঁদছে,বাবা অস্থির হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়ে এপাশ ওপাশ ছোঁটাছুটি করছেন,কি করতে হবে ভেবে পাচ্ছেন না।এপর্যন্ত ভাবার পর থামতে হয়।আর ভাবার মত ক্ষমতা আমার নেই।

সবটুকু নিজের কথাই বললাম।এবার তাদের কথায় আসি যারা বলছেন এই আন্দোলন (মানুষ পুরানো) ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিবার আন্দোলন।তাদের কে বলি আপনারা মনিরের বাবা মাকে জিজ্ঞেস করুন যে তারা কি চায়?আগুনে পুরে মারা যাওয়া মানুষ গুলোর পরিবার কে জিজ্ঞেস করুন তারা কি চায়?যদি ভোটাধিকার চায় তবে আমিও আপনাদের সাথে রাস্তায় নেমে বলব 'জ্বালো জ্বালো আগুন জ্বালো' কিন্তু যদি তারা তা না চায় তবে আপনারা কি করবেন?নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি এটা সবাই বলছে।সেটা আমিও মানি।কিন্তু যেদিন সংসদে সংবিধান সংশোধনের বিল আনা হয়েছিল সেদিন আপনারা কোথায় ছিলেন?জনগনের প্রতিনিধি হয়ে কেন সেদিন আপনারা দাঁড়ান নি।আপনারা সাংসদ হয়ে সংসদে গিয়েছিলেন সুধুই বেতন ভাতা নেবার জন্য?আর আজকে আন্দোলন করছেন শুধুই ক্ষমতার লোভে?যদি জনতার জন্য আন্দোলন হয়ে থাকে সেটা জনগন কে মেরে হতে পারেনা।শেম তাদের জন্য যারা এই আন্দোলন কে সমর্থন করছেন।

একজনকে কিছু বলা বাকি আছে।সেটা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী কে। আপনি তো দেশের প্রধান মন্ত্রী।১৬ কোটি জনতার জানমালের দায়িত্ব তো আপনারই হাতে।আমাদেরকে বাঁচানো তো আপনারই দায়িত্ব।সেটা যেকোনো ভাবেই হতে পারে।যদি সন্ত্রাস থামাতে না পারেন তবে সন্ত্রাস কেই দেশ টা দিয়ে দিন।সন্ত্রাস থামানো কঠিন কোন কাজ না।আপনি শক্ত হন।সন্ত্রাসী কয়জন?ওদেরকে থামান।যাদের কে ধরা হয়েছে তাদের কে সারাদেশ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরিয়ে দিন।দরকার হলে স্টেডিয়াম এ নিয়ে পুরিয়ে দিন অথবা সবার সামনে ফাঁশি দিন।সেদিন আর কেউ প্রতিবাদ করবে বলে মনে হয়না। যদি না পারেন তবে যেখান থেকে ধরা হবে সেখানেই সোজাসুজি গুলি করে দিন।মানুষ মারলে মানবতা বিরোধী অপরাধ হয়,জানোয়ার মারলে হয়না কিছুই।

যাদের কথায় কথায় ধর্ম অনুভুতি তে আঘাত লাগে তারা আজ কোথায়?একটা কাগজে লেখা কোরআন শরিফে আগুন লাগলে যাদের ধর্ম অনুভুতি তে লাগে মানুষ পুরলে তাদের একটুও লাগেনা কেন?তাদের কি মানবতার অনুভুতি ভোঁতা হয়ে গেছে?মোমবাতি পুরালে ইসলাম নষ্ট হয় মানুষ পুরলে ইসলাম মজবুত হয় তাইনা?আপনাদের ধর্মীয় অনুভুতি কোথা দিয়ে দিবো ভেবে পাইনা। ধর্ম মানুষের জন্য এসেছে এটা মনে রাখুন।আগে মানুষ পরে ধর্ম এটা বোঝার চেষ্টা করুন।নয়তো আপনাদের ধর্মীয় অনুভুতি একদিন আর সোজা হয়ে দারাবে না।বউ চলে যাবে যার অনুভুতি শক্ত হয়ে দাড়ায় তার কাছে।

যা বললাম বা লিখলাম তার সবটুকুই আবেগের বা ক্ষোভের কথা।এর পরিনতি অনেক কিছুই হতে পারে,সেগুলো লিখে বক্তব্য আর বড় করব না।আমি খুবি নগণ্য একজন মানুষ।আমার দোয়া কবুল হয় কিনা সেটা জানা আমার মত নগণ্য একজনের পক্ষে সম্ভব না।তবুও দোয়া করি ঐসব মানুষের জন্য যারা এই নগ্ন হামলার শিকার।আর ঘৃণা তাদের জন্য যারা এই হামলা করছেন,করাচ্ছেন,সমর্থন দিচ্ছেন,বা থামাতে পারছেন না,বা নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন না তাদের জন্য।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×