somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বপ্ন চুরি হয়ে গেছে।সাহায্য দরকার..............................

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৩:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি একটি পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করি তিন বছর ধরে।আমার অনার্স শেষ হওয়ার আগেই জয়েন করেছিলাম কেমিস্টের সহকারী হিসেবে।মূলত অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা।এরপর ঐখানেই কাজ করে যাচ্ছি।আমার অনার্স শেষ হয়েছে,মাস্টার্স শেষ হয়েছে (কেমিস্ট্রি )।রেজাল্ট ও পেয়ে গেছি।এরপর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা হাতে রেখে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে যাচ্ছি।খুব বেশি হতাশ হয়ে পরেছি ইদানিং।

প্ল্যান্ট কেমিস্ট আশা দিয়েছিলেন যে ঐখানেই আমার রেখে দেবেন।মানে পোস্ট খালি হলে আমার নিয়োগ।একসময় বুঝতে শিখলাম যে এটা একটা জলজ্যান্ত মিথ্যা কারন ঐখানে কেমিস্টের পদ একটাই।ততদিনে সেই মহান বেক্তিও বুঝতে পেরেছেন যে আমি বিষয় টা বুঝতে পারছি।এরপর থেকে আর ঐ ধরনের কথা বলেন না।

আমার মাস্টার্স শেষ হবার আগে ওনার কাছে একটা প্রস্তাব এসেছিল একজন কেমিস্ট চেয়ে।তখন তিনি আমাকে বোঝালেন যে আমি যেন আগে আমার মাস্টার্স শেষ করি,এরকম প্রস্তাব তিনি মাঝে মাঝেই পান।কাজেই আমার হতাশ হবার কিছুই নেই।আমি হতাশ হইনি।

এরপর আমার মাস্টার্স শেষ হল।বললেন রেজাল্ট এর জন্য অপেক্ষা করতে।আমি প্রহর গুনতে শুরু করলাম।রেজাল্ট এ দেখলাম ফার্স্ট ক্লাশ পেয়েছি।প্রচণ্ড আনন্দ পেলাম।অনার্স এ সেকেন্ড ক্লাশ পেয়েছিলাম বলে বাবা মা কষ্ট পেয়েছিল তাই এই রেজাল্ট আমার জন্য ভীষণ দরকারি ছিল।
আমি তখনো হতাশ ছিলাম না।কিন্তু রেজাল্ট হবার পর আজ প্রায় কয়েকমাস হতে চলল আজও কোন অফার পেলাম না।যদিও কেমিস্টের কাছে আমি জয়েন করার পর অফার আসছিল মাত্র একটাই।তবুও একটা চাঁপা স্বপ্ন ছিল যে একটা অফার আসবে কিন্তু আজ সেটা আসেনি।কিন্তু এরপরও আমি হতাশ হইনি।

আমার হতাশার শুরু কয়েক মাস আগে থেকে।আমি কখনও ব্যাংক এ জব করতে চাইনি কারন আমি জানি যে আমি ব্যাংক এর ব ও জানিনা।জীবনে সৎ থাকতে চেয়েছি তাই সরকারি জবের প্রতি আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই(আমি বলছিনা যে সরকারি জব যারা করে তারা অসৎ)।আমি কেমিস্ট্রি তে অনার্স মাস্টার্স করেছি তাই স্বপ্ন দেখি একজন কেমিস্ট হবার।আমি বিশ্বাস করি আমি কেমিস্ট হলে আমি প্রতিষ্ঠান কে কিছু দিতে পারব আর প্রতিষ্ঠান ও আমাকে কিছু দিতে পারবে।এ জন্যই মূলত কেমিস্ট হবার ইচ্ছা পোষণ করি।কিন্তু বাস্তবতা হল এই যে আমি যেসব জায়গাতে আবেদন করছি তারা কেও ইন্টার্ভিউ এর জন্য ও ডাকছে না।এমনও হয়েছে যে একি জায়গাতে আবেদন করেছি।তারা অভিজ্ঞতা কে প্রাধান্য দিবে বলেছে,আমি তিন বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে ডাক পাইনি।কিন্তু আমারি এক বন্ধু যার কোন অভিজ্ঞতা নেই সে জব টা পেয়ে গেছে।

আমি এই পাওয়ার প্ল্যান্টে কাজ করছি একটি কেমিক্যাল কোম্পানির হয়ে, যারা এই প্ল্যান্টে কুলিং টাওয়ার এর কেমিক্যাল সাপ্লাই করে।আমার কাজ হওয়ার কথা ছিল শুধু কুলিং টাওয়ার এর রক্ষণাবেক্ষণ বা ওয়াটার ট্রিটমেন্ট।কিন্তু আসার পর দেখলাম যে এখানের যে হাই প্রেসার বয়লার আছে সেটার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট সহ আমাকে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।আমি এটাকে খুব আগ্রহ সহকারে নিয়েছিলাম,কারন আমার এখানে আশার উদ্দেশ্য আসলে শেখা।আমি বিশ্বাস করি আমি সেই মহান কাজ টা খুব আগ্রহ নিয়েই শিখেছি।

আমার এখানে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ নেই,যেখানে আবেদন করছি কেও ডাকছে না,কোম্পানি অফার দিচ্ছে মার্কেটিং করতে কিন্তু আমি এদের কেমিকেলের মার্কেটিং করতে আগ্রহ পাচ্ছিনা,রোযার ঈদের আগেই পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে(বাবা অসুস্থ),২০১৬ সালের শুরুতে বিয়ে করতে হবে(নয়তো প্রেমিকাকে হারাতে হবে)।আমার এখানে যা বেতন পাই তাতে নিজের কোনমতে চলে যায়।কিন্তু এতো গুলো করতে হবে দেখে মনে হচ্ছে যে হয়তো ছেঁড়া কাথার নিচে শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন দেখছি।

জানি এই সমস্যা আমার একার না।আমার মতো কয়েক লাখ ছেলে মেয়ে এমন সমস্যায় পড়ে আছে।কিভাবে এখান থেকে বাঁচা যায় সে পথ খুঁজছে।কিন্তু বড় সমস্যা হল আমার বড় কোন মামা খালু নাই।যারা আছে তারা নিতান্ত ক্ষমতা হীন।আমার কি হবে আমি জানিনা।এতগুলো সমস্যা নিয়ে কতদিন ভাল থাকব তা জানিনা।

আমি জানি যে সামুতে অনেক বড় ভাই আছেন।তারা বিভিন্ন জায়গাতে ছড়িয়ে আছেন।কেও কি আমাকে একটু সাজেস্ত করবেন যে কিভাবে আবেদন করলে অন্তত ইন্টার্ভিউ তে ডাকবে।এই লিঙ্ক এ দেখলে আমার সিভি টা দেখতে পারবেন।কেও যদি আগ্রহ নিয়ে সাজেস্ত করেন তবে কৃতজ্ঞ থাকবো।

আমি দীর্ঘদিন যাবত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট নিয়ে কাজ করছি।যদি দ্রুত কিছু করতে না পারি তবে হয়ত এই অভিজ্ঞতা বিসর্জন দিয়ে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্তেতিভ হয়ে কাজ করতে হবে।এতে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলেও নিজের খুব প্রিয় মানুষ টিকে হারাতে হবে আমি সেটা সিউর।

এমতাবস্তায় যদি কোন ভাই থাকেন যে এই বিপদগ্রস্তকে এই দুরবস্থা হতে বের হওয়ার পথ দেখান তবে আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকবো।

৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×