somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বেচ্ছায় কারাবরণ

১৫ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সৌভাগ্যক্রমে আমি একটা ভাল চাকুরী করি মরুভূমিতে, বিশেষ সুবিধাগত কারনে ৩-৪ মাস পরপর প্রিয় মাতৃভূমিতে আসা যাওয়া করি, বিগত বছর গুলোতে সব সময় বিকাশ নামে একজন ড্রাইভার আমাকে এয়ারপোর্টে আনা নেয়ার কাজ করতো, প্রতি ট্রিপে ৪ হাজার টাকা ভাড়া +৫০০ টাকা বকশিস, পথে চা–সিগারেট খানাপিনা দেদারছে খরচ করি তাঁর জন্য, শুধু মাত্র আনন্দময় নিরাপদ ভ্রমনের জন্য!

পরাধীন হয়ে ভিন দেশের লাক্সারি কলোনিতে বাস করে ২৪ঘণ্টা রোডরাইজ, ডজি, বেনটলে, জাগুয়ার গাড়ি দাবড়ানো সাদা চামড়ার জনতা দেখে দেখে এয়ারপোর্টে নামলেই স্বজনদের জন্য অপেক্ষমাণ লোকজন দেখলে আমার খুব মন জ্বলে! বেশীর ভাগই গেরামের ছেলে মেয়ে, রোদে পোড়া চামড়া, শ্যাম্পুবিহীন রুক্ষ চুল, মনে হয় কত দিনের তৃষ্ণার্ত মুখ! তেমনি বিকাশের কংকালসার দেহ দেখলে মায়া লাগতো, চমৎকার ড্রাইভিং করে বিকাশ! গাড়িতে বসিয়েই বলবে, আপনি ঘুমান দাদা! আমি আস্তে আস্তে যাই! আহ্লাদে গর্বে নিরাপদ একজন চালকের পশ্চাতে বেশীর ভাগ সময় আমি ঘুমিয়ে যাই! এমনও হয়েছে বাসার গ্যারেজে আমার প্রিয় মেয়েটা গাড়ীর দরজা খুলে আমার কানে কানে বলছে বাবা এসে গেছ!! আহা, ২ঘণ্টা ঘুমের জার্নি!

যাই হোক বিকাশ আক্ষেপ করে বলে ‘দাদা যদি দিনারের দেশে যেতে পারতাম! আপনি কত ঘনঘন দেশে আসেন যান, টাকা পয়সা এটা সেটা নানানতান কথা জিগায়! যদিও কয়েক ঘণ্টার জন্যই সে আমার ড্রাইভার, কিন্তু আমার আচরণ সব সময় বন্ধুর মত, এটা আমার ব্যাক্তিগত অভ্যাস! কাউকে এখনো আলাদা করতে পারি না! এমনকি বাসার দারোয়ান অন্য সবাইকে স্যার ডাকলেও আমারে কয় দাদা! আমি মাঝে মাঝে দারোয়ানের টুলে বসে ভাগাভাগি করে বিড়ি খাই! এই জন্য বাসায় ঠাঠানিও কম খাইনি!

বিকাশের বিদেশ আসার আগ্রহ দেখে আমি তাঁকে জিগাইতাম কত টিকে বর্তমানে? সে কয় মাসে ১২-১৫ হাজার বেশী কষ্ট করলে! বললাম ভালই তো? মরুভূমিতে যেয়ে ড্রাইভারি করলে এমনই পাবে, দেশে আছো পরিবার পরিজন নিয়ে ভালই আছ! বিদেশে ড্রাইভারি করা কষ্ট! দেশেই থাক!

মরুভূমিতে বাসাবাড়িতে কাজের বুয়া, ড্রাইভার, গার্ডেনার, সব ফিলিফিন্স, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক! ইদানিং কিছু আফ্রিকান নান দেখা যায়! মাঝে মাঝে অনেকের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়, এই সব পেশা যা বুঝি আগের দিনের “দাস” প্রথা! মরুর এক বাসায় যদি ১০ জন পরিবারের সদস্য থাকে ১০ জনই পরিবারের মালিক/কর্তা বনে যায়, তাঁদের অত্যাচারে বাসায় কর্মরত কামের বুয়া, ড্রাইভার, গার্ডেনার অনেকেই কেঁদে কেটে চোখের পানি ফেলে রাত দিন! মেয়েদের অবস্থা করুন...! পিলিপাইনি-ইন্দনেশিয়ার মেয়েদের বাগে পাইলে বাপ-বেটা এক বিছানায় মিলেমিশে বন্ধু হয়ে যায় মরুর আঁধারে!

আবার অনেকের সাথে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে ভাল কথাও শুনি, অনেক মালিক আছেন প্রচুর ভালবাসে ঘরের চাকর-বাকরদের! সকাল ৬টায় উঠে রাত ১২টার পরেও বাসা বাড়ির কামের লোক বিছানায় পিঠ লাগাতে পারে না! খাওয়া দাওয়ার কষ্টতো আছেই, কারন আপন দেশের আপন স্বাদের রান্না মরুভূমির ঘরে ঘরে হয় না! এখানে ‘দুম্বা বিরিয়ানি’ চিকেন মসবুস, কিব্বা, কোপ্তা টমেটো পেস্ট দিয়া, খোবুজ ( আটা রুটি) জনপ্রিয়! মাছে ভাতে বাঙালীর অবস্থা বুঝেন একবার!

কেউ কেউ ভাল আছে! প্রাইভেট আর পাবলিক সেক্টরের কাজ আর সুযোগ সুবিধার ভিন্নতাও আছে। যাই হোক, আমি মরুভূমির বাসা বাড়িতে চাকুরীর কষ্টের কথা বিকাশকে বুঝিয়ে বলি!

গত মাস খানেক আগে একটি ফোন পাই, হ্যালো বলতে ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, নাম বলতেই আমি চিনে যাই! ভাবলাম এই লোক এখানকার নাম্বার কই পেল? জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে কেটে অস্থির, কিভাবে এলো সব খুলে বলল, বিকাশের অবস্থা এখন বাসায় বন্দি জীবনের মত! কেন আইলাম...? মনে হচ্ছে আমার সবকিছু শেষ!

যেহেতু আমার কাছে আগেই শুনেছে এই সব পরিস্থিতি সেজন্য কিছু কষ্ট চাপিয়ে গেল, আমি সান্ত্বনা দিলাম, কইলাম জেলখানায় মানুষ কিভাবে থাকে! মনে করো তুমি কয়েদী! ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে স্বেচ্ছায় কারাবরণ করেছো!



উতপ্ত বালিতে বেদুইনের বাস



বালি ঝড়ে ঊত্তাল মরু
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৮:০৭
৮টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×