somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

#বনলতা (গল্প)

২৪ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক সন্ধে রাত্রিরে বনলতার ঘরে ঢুকলুম , যেয়ে দেখি বনলতা মেহগনি কাঠের খাটের ওপর শুয়ে আছে কাথাঁমুড়ি দিয়ে । এত-একটা জীর্ণঘর ,ষাট পাওয়ারের বাল্পের আলোটা আরো যেন লীন । বনলতার মুখের দিকে তাকিয়ে মনে হল ,কতদিন যেন ওর শরীরে পুষ্টি ঢুকেনি ! দেখতে পঞ্চাশ বছরের কোন মধ্যবয়স্ক নারীর মত লাগচে । জ্বর বুঝার জন্য কপালে হাত দিতেই বনলতা জেগে উঠলো , বার বার ঢুগ গিলে আমতা আমতা করে ইশারায় দেখালো ঐ চেয়ারটি টেনে কাছে বসো । এরপর একটু উঠেয়ই বসলো , আগে থেকে অনেক সতেজ দেখালো ওকে । কিছুক্ষন নিশ্চুপ থেকে বললো , তুমি আসলে কেন ? পাড়ার ভদ্রর লোকের ছেলে তুমি , জানলে দুর্নাম রটে যাবে না ?
-শুনলাম , খুব অসুস্থ তুমি !
বনলতাঃ তাইকি এসেচো ? ঠিক করে বলো ?
-হুম ।
বনলতাঃ এখনও রোজ এসে দাড়াও বাইরে ,প্রায়ই দেখি জানালার দিকে তাকিয়ে আছ , এখনও কি কোন আশা আছে ?
-তুমি জানালার ভেতর দিয়ে তো টেরপাও , কোনদিন জানালা খুলেঁ ডাকনিতো ?
বনলতাঃ শুন, তুমি আমার অনেক ছোট ।
-বড়রা বুঝি খুব ভালো ?
বনলতা আর নিশ্চুপ হয়ে গেল , পর থেমে থেমে বললোঃ কি করছো এখন?
-বেকার ।
বনলতাঃ ও ।
-কি হয়েচে তোমার ?
বনলতাঃ শরীরটা একেবারেই ভালো নেই । মাথা এখনো জিম জিম করচে ।
-তুমি যদি চাও তোমার কপাল আলতো করে টিপিয়ে দিই, ভালো লাগতে পারে ।
বনলতাঃ আমার শরীর ধরার ফন্ধী বুঝি ?
-কিছুটা নিশ্চুপ হয়ে গেলাম ।
বনলতাঃ মাকে ,গিয়ে বল বিয়ে করিয়ে দিতে , বেশ্যাদের পিছনে ঘুরে সময় নষ্ট করো না ,ফতুর হবে তুমি ?
-ফতুর ? আমার কিছু নেই তো ।
বনলতাঃ জানো এই জীবনে কতজনকে ফতুর করেচি ?
-কতজন কে ?
বনলতাঃ বহুজন কে , যখন রুপ লাবন্য আরো ছিল কতজন যে তাদের জমি -জমা , স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে আমার পিছন ঢালচে ! সেই অভিশাপেই পড়িচি মানুষ , সেই অভিশাপেই ! কতজনার সাংসারে আগুন ধরিয়েচি আমি , আর এখন ধুকে ধুকে মরেচি জীবনে সাংসার কি সেই স্বাদটাই পেলুম না, জন্মদিতে পারলুম না নিজের রক্তে গড়া সন্তানকে ।
-সব ,ঠিক হয়ে যাবে । এখনো সময় ফুড়িয়ে যায়নি , একটু গুছিয়ে নিজের মত সাজিয়ে নিতেই পার ।
বনলতাঃ হুম , এরপর তাই করবো ।
-করো, পারবে তুমি । মানুষ সব-সময় এক ভুল বার বার করে না ।
বনলতাঃ আচ্ছা তুমি আসো কেন এখানে ?
-তুমি , বনলতা বলে !
বনলতাঃ কেন, বনলতার মধ্য কি আলাদা ব্যাপার আছে ?
-ঐ তো, বনলতা সেন অফ নাটোর ! তোমাকে শুনিয়েছিলাম কবিতাটা , ওর সাথে তোমার মিল খুজি ।
বনলতাঃ সত্যিই কত সুন্দর কবিতা গো ।
-হুম ।
বনলতাঃ ওমন কোন নারী ছিল পৃথিবীতে ?
-হুম ছিল, এই যে তুমি যেমন আছ । আমাদের চারশাপঁ নিয়েই গল্প,কবিতা ।
বনলতাঃ বনলতা সেন তো কত পবিত্র বিষয় , ও তো আমার মত মাগী ছিল না ?
-বনলতা সেনও হয়তো ছিল !
বনলতাঃ মাগী ছিল ?
-হয়তো ।
বনলতাঃ দুর, মিথ্যা বলচো ! আমাকে শান্তনা দেবার জন্য বলচো এগুলো ।
-মিথ্যা নয় , সত্যিই ।
বনলতাঃ কেমন?
-বনলতা সেন ছাড়াও আরো কিছু কবিতা ছিল বনলতা সেন কে, সেখানে ভিন্ন রকম ভাবে এক একটি চরিত্র । একজায়গায় ছিল , অন্ধকারে বুকের ওপর খেলা করে যাও বনলতা সেন ।
-বনলতাঃ সেটা কি প্রমাণ ?
-অন্ধকারে শরীরের ওপর নিত্যতো তোমরাই জানো ! আর -মিলুদাও পতিতাপল্লীর পাশেই থাকতো সে খানেই হয়তো বনলতার সাথে সন্ধি হয়েছিল ।
বনলতাঃ হলেও , ঐ বনলতা সেনের সাথে আমার অনেক তফাদ ! সে কত ভালো ছিল, আমি কতজনের সাংসারে আগুন ধরালাম ।
- সবাই , সবার জন্য আন্তরিক না , এই যে তুমি যেমন আমার প্রতি ।
বনলতাঃ সত্যিই গো , সবাই তো এখানে আসে শরীর প্রয়োজনে , এসেই জাপিয়ে পড়ে । তুমি আসলে একটু শান্তিই পাই মানুষ, কত মজার মজার গল্প তুমি জানো , খুব ছোট্টবেলাতে হারিয়ে যাই কথা বলতে বলতে আবার ভাবি তুমি তো ছোট্ট যদি দুর্নাম রটে যায় ।
-পারস্পারিক সাহার্য্য পাওয়া বা নেয়ার মধ্য দুর্নাম নেই । আর আমি তো , বনলতা সেনকে খুজচ্ছি এতে প্রেম মিথ্যা নয় ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×