somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রমা

২৮ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সন্ধের পর বাসায় ফিরলাম , বৃষ্টি শেষে একটু শীত শীতও করছিল । ঘরে এসে দেখি খুব এলোমেলো হয়ে আছে , বুঝলাম কেউ এসেছিল হয়তো । ঘরে ঢুকেই ঘুম ঘুম পাচ্ছিলো ,কাপড় পরিবর্তন করে বিছানায় বসে থেকে থেকে ঘুমিয়ে গেলাম ! এরপর অনেক্ষণ পর হঠাৎ শব্দে জেগে উঠলাম , বুঝলাম বাইরে থেকে রমা ডাকছে । তারাহুরো করে দরজা খুললাম , খুলে দেখি রমার সাথে রমার কাজিন পরমা ও তার বাচ্ছা দুই সন্তান । রমা দাতদিয়ে ঠুট কামড়েঁ বললো, এতক্ষণ লাগলো ! কুড়ি মিনিট ধরে ডাকছিলাম ! ।
আমিঃ সরি, আমি না ঘুমিয়ে গিয়েচিলাম গো ! টেরপাইনি । এরপমধ্য পরমার বাচ্ছা দু'টো হুহু করে হাসছিলো , আর পরমা ওদের হাসি থামানোর চেস্টা করছিল , আর রমা কিছুক্ষন নিশ্চুপ হয়ে গেল এরপর ওর শরীর থেকে উর্ণা ছুরে আমার দিগে দিয়ে বললো, শরীরটা ডাকো , বাচ্ছারা হাসছে । পর মনে হলো , শুধু ছোট্ট আন্ডার পেন্টাই পড়ে আছি !দৌড়ে যেয়ে জামা পড়ে নিলাম । এরপর পরমার বাচ্ছারা দরজায় কিনারায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে আমাকে কিছুক্ষন পর পর দেখে আর দাত কেলিয়ে হাসেঁ , ওদের হাসি দেখে জিদ উঠেছিল মন চাচ্ছিল ওদের ধরে দু'ঘা বসিয়ে দিই । রমা ফ্রেশ হয়ে কাছে এসে বললো , ওরা আজ আসলো ওদের নিয়ে নিউ মার্কেটে গিয়েছিলাম পর পরমা এসে বললো, মানুষ বেড়াতে আসলাম তোমাদের বাসায় । আমি বললাম, ভালো করেচো কতদিন আসনি ,স্বামী সাংসারের চাপ বুঝি বেড়েগেছে? ফোন দিতে পারতে না , আমিও যেতে পারতাম নিউমার্কেটে ।
পরমাঃ রমাকে বলেছিলাম , তোমায় কল করার জন্য ।
আমিঃ নিশ্চয় ও বলেছে মোবাইলে বেলেন্স নেই ?
পরমা রমার দিকে তাকিয়ে রইলো ।
রমাঃ এত জানাতে হবে কেন শুনি ? আমার আপনজন আসছে , আমি বুঝবো সব , তুমি তোমার মত থাকো ।
পরমাঃ তোদের দাঁ-কুমড়াঁর সম্পর্ক হলো কবে থেকে ? এসে মানুষের বিষয় জানতে চাইলে উত্তরই দিচ্ছিলি না ।
রমাঃ আর বলো না এই মানুষটা আমারে জ্বালিয়ে মারলো ।
পরমাঃ কি হয়েছে বলতো ?
রমা নিশ্চুপ ।
পরমাঃ কি হয়েচে ,মানুষ ?
আমিঃ কিছু না , তোমার বোনই -----
রমাঃ ও আমার সব টাকা ছিনিয়ে নেয় , মাইনে পেয়ে টাকা নিজের কাছে রাখতে পারি না ।
পরমাঃ কেন?
রমাঃ আমি কি জানি ,
পরমাঃ এমন করছো কেন মানুষ, ওর পরীশ্রমের টাকা , যদি প্রয়োজন হয় মিউচুয়ালিই নিতে পারো কিন্তু একেবারে সব নিয়ে যাবে !
রমাঃ বুঝেছো দিদি, ওর সর্হ্য হয় না ! আমার দিন দিন প্রমোশন হচ্ছে তো , ওর থেকে আমি ওপর চলে যাবো না ?
আমিঃ তুমি রমা ! ওপরে যাচ্ছো তো ? ওপরে গেলে বুঝি , মানুষের তেজ বাড়ে, অযথা চেচ্যায় ? কথায় কথায় খোটাঁ দেয় ? তুমি তো কিছুদিন ধরে , আমি কতদিনধরে পাশে আছি কোনদিন বলেছিলাম আমারটা নিচ্ছো তুমি ? আমার, তোমার ! এই বিবাধেই সব যাচ্ছে ।
পরমাঃ বুঝেছি এবার ।
রমাঃ কিছু বুঝনি, ও আমার টাকা নিয়ে যা ইচ্ছে তাই করবে আমি মানবো না ।
আমিঃ কি করবে ?
রমাঃ থানায় যাবো ।
আমিঃ থানায় কেন, অপছন্দ হলে ছেড়ে দাও না ।
রমাঃ এক সহজে ছাড়বো না তোমায় ! বুঝেছো কি ?
পরমাঃ তোরা একে ওপরে দুরে সড়ে গেছিলস । একটা পরামর্শ দিই কোথা থেকে বের হয়ে আয় তোরা , ঠিক আগের মত হয়ে যাবে ।
আমিঃ কত বলেছি ওকে ।
পরশাঃ রমা , সত্যিই বলছি ।
রমাঃ আচ্ছা সে না হয় দেখা যাবে , শুনতো এবার আমার মাইনে কেন কেড়ে নেয় ও ?
আমিঃ আমার চেয়ে বেতন বেশি পাও বলে এত অহংবোধ বাড়চ্ছে আজকাল ।
রমাঃ তো বাড়বে না ?
আমিঃ এ জন্যই সব কেড়ে নিই ।
রমাঃ দেখেছো দিদি, ও পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করে ?
পরমাঃ আহ ,মানুষ ।
আমিঃ হাহাহাহা
রমাঃ দেখেচো কেমন ,প্যাচাঁর মত হাসে !
আমিঃ পাগলী !
রমাঃ আজ ,ভালো হয়েছিলতো প্রায় নগ্ন হয়ে দাড়িয়েচিলে ।
পরমাঃ ধাৎ, কিসে থেকে কি বলে !
আমিঃ আমি তো রমা ভেবেই ওভাবে দাড়িয়ে ছিলাম !
রমাঃ মানে কি ?
আমিঃ মানে , রমা -আমি তো পারস্পরিক আরো মুক্তরুপে একজন আরেকজনের পাশে থাকি ।
পরমাঃ আমি, গেলাম ! তোদের অযথা ঝগড়ার কোন-মাথা,মুন্ড নেই ।


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ২:৪৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছু খাতের চাকুরী বেতন-ভাতামুক্ত ঘোষণা করা যেতে পারে

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৮

এক সমীক্ষায় জানা যায়, বাংলাদেশে সরকারি চাকুরেদের প্রায় ৯১ শতাংশ ঘুষ গ্রহণ করে। এছাড়া, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনেকেও মনে করেন বাংলাদেশে দুর্নীতি নির্মূল সম্ভব নয়; যার অর্থ দাঁড়ায়, দুর্নীতিকে আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×