মেঘ
আজ অনেক দিন পর তোমাকে মনে পড়ল। যখন একাকী নির্জনে বসে ভাবী নিজের ভবিষ্যত কিংবা স্মৃতি যখন খুব করে কাদায় তখন তোমাকে ভীষণ রকম মনে পড়ে। আর ভাবতে থাকি তোমাকে তোমাকে একমনে। আমি টেরও পাইনা। কি কি কারণে তোমাকে মনে পড়ে কিংবা কি কি কারণে তোমাকে মনে পড়েনা তা আজ আর মনে নেই। তবে এইটুকু জানি আমার আর কোন স্মৃতি নেই, কোন গোপন কিছু যা অনেক অনেক বছর পরে কোন দুঃখময় দিনে মন খারাপ হলে গোপনে চোখের জল ফেলব--তুমি ছাড়া।
তাই হয়তো পুঁজিবাদের লালন করা গোপনে গোপনে। দুঃখ জমা করা নিজের ব্যাংকে, ভবিষ্যতের জন্য। মেঘ তুমি এখন দূর দ্বীপবাসিনী কেউ। দূর পরবাসী । আমার জীবন থেকে আমার মনন থেকে। আর কোনদিন হয়তো তোমাকে দেখবো না আর। তাই হয়তো চিঠি লিখে তোমাকে বিভিন্ন রকম নামে সম্বোধন করে নিজেকে শান্তনার আশ্বাস দেই। কিংবা কল্পনায় শান্তির পায়রা উড়াই। কিন্তু দুঃখ-কষ্টবোধ এরকম যে জীবনে কোনদিন লুকোনো যায়না। প্রকাশ পাবেই। পায়ই।
মনে পড়ে মেঘ কলেজের রঙীন চশমা পড়া দিন। প্রজাপতির দিন, হাওয়াই রঙের সঙ্গে মিতালী করে বেঁচে থাকার। আমরা কি খুব বন্ধু ছিলাম তখন। নাকি তখনও নির্ভরতা খুঁজতাম পরস্পরে। নাকী জীবন এরকমই। পরস্পরের নির্ভরতা পরস্পরে মাখামাখি করে বেঁচে থাকা। তুমি বোধহয় অন্যরকম ছিলে। একটু কেমন যেনো , ওই যে থাকে না একটু কেমন যেনো...স্বার্থপর কিংবা একটু অন্য ধরণের কেউ কেউ......তুমি বোধহয় এইসব ব্যাপারে কোনদিনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে না আমার সঙ্গে.....যদি না আমি তোমাকে বলি যে থাক থাক এমন দুর্দিনে কি আর দরকার ছিলো নিজেকে এরকম সমর্পণ করে? তুমি খুব সহজে দ্বৈতসত্তা ধারণ করতে পারতে, তাইনা। আমি ওটা পারিনা , পারা বোধহয় ভালো ছিলো তাহলে হয়তো সুখি হতে পারতাম কিংবা সুখে থাকতে পারতাম। কিন্তু তাহলে তো খাটি নিখাদ অমল এইসব শব্দ অভিধানের পাতা থেকে উঠে যেত।
মেঘ তোমার বোধহয় আমাকে ঠিক বিশ্বাস হতোনা। অথবা ভালোবাসাময় আমাদের দিনগুলো তোমাকে খুব একটা আনন্দ দিতোনা। তাই হয়তো এমন নির্বাসন দণ্ড দিলে? কিন্তু আমি জানি মেয়েরা খুব নির্ভরতা খুঁজে, স্বার্থের একটা দেয়াল টাঙ্গানো থাকে মেয়েদের রাজ্যে। কিংবা মেয়ে বলেই হয়তো বিধাতা পুরুষ তোমাকে অন্য রকম গড়েছিলেন। অন্য ধাতুতে।
ভালো থেকো মেঘ।
মেঘলা আকাশ
মেঘের কাছে চিঠি : ০১
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১০ রাত ৮:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


