somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উপহাস

২৮ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চোরটি ধরা পড়েছে। কিছুক্ষন আগে প্রসাধন সামগ্রীর দোকানে চুরি করতে গিয়ে একেবারে হাতেনাতে। আশেপাশের জনতা উৎফুল্ল, উল্লসিত। আমিও একজন দর্শক হিসেবে যারপরনাই আনন্দিত। কোমরে রশি বেঁধে তাকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় একটি খোলা জায়গায়। সেখানে অসংখ্য লোক চোরটিকে একনজর দেখার জন্য ঘিরে ধরে।
একজন অতি-উৎসাহী তাকে জিজ্ঞেস করে, ‘অই, নাম কি?’
চোরটি ভীত-সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে জবাব দেয়, ‘আবুল কাশেম।‘
লোকটি এবার নাক সিঁটকে বলে ওঠে, ‘অ, কাশেইম্যা চোরা?’
সাথে সাথে উপস্থিত জনতার মাঝে হাসির ঢেউ খেলে যায়। চোরটি ভীত চোখে সবার কাছে করুণা ভিক্ষা চায়। বিড়বিড় করে কি আওড়ে চলে সে নিজেও জানেনা।
কয়েকটি লোক এগিয়ে এসে মোটা রশি দিয়ে চোরটির হাত-পা বেঁধে ফেলে। চারপাশের সব মানুষের উৎসুক দৃষ্টি তার দিকে। কারো কারো ঠোঁটে অবজ্ঞার হাসি।
যুবকদের মধ্যে একজন এসে বলা নেই, কওয়া নেই, চোরটির মুখে বসিয়ে দেয় প্রচন্ড এক ঘুষি। চারদিকে হৈ হৈ হর্ষধ্বনি ওঠে। ভিড়ের মধ্য থেকে মাঝবয়েসী একজন লোক বলে ওঠে, ‘এইভাবে হইবো না, হেরে ডান্ডা দিয়া পিটাইয়া হাড্ডিমাংস সব এক কইরা দেও।‘
চোরটি অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকে। ঠোঁট ফেটে তার রক্ত গড়িয়ে পড়ে।
তখনই বুকের কোথায় যেন চিনচিনে একটা ব্যথা অনুভব করি। আশপাশের মানুষগুলোর প্রতি তীব্র ঘৃণা জেগে ওঠে। না, চোরটির প্রতি দয়াপরবশ হয়ে নয়। আমাদের দেশে পুকুর চুরি যারা করে, সেসব কালোবাজারী, ঋণখেলাপীদের সামনে নতজানু এসব মানুষের ন্যায়বিচারক সাজার নাটক দেখে ঘৃণায় চোখ-মুখ কুঁচকে আসে আমার।
আমার একার মুখ খোলার উপায় নেই। খুললে আমাকেও চোরের সঙ্গী সাজানো হবে। তাই আমি চোরটির উপর আশপাশের মানুষগুলোর এলোপাতারি পিটুনি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখি, দেখি মানবতার প্রতি চরম উপহাস।
একদিন মানবতাও কি এভাবে আমাদের প্রতি উপহাস ছুড়ে দেবে? লুপ্ত মানবতা কি দুর থেকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসবে?


০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×