somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

বাবুই বাবু
সৃষ্টির সেরা প্রাণী আমি তবে নামে মাত্র, কর্ম এখন সম্পূর্ন রুপে প্রমান করে না। লেভেল লো, ডে বাই ডে আপডেটের প্রয়াসে আছি। দেখতে, বলতে, শুনতে, করতে চাই সেরা। তারপর সেরাদের সেরা। আমি ছাত্র, প্রকৃতি আমার শিক্ষক।

মা আমার পৃথিবী মা'ই আমার বেহেস্ত

২৬ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি জানি না মায়ের কোন সংজ্ঞা আছে কিনা। আমার মতে মায়ের সংজ্ঞা মা নিজেই। মায়ের ক্ষেত্রে কোন সংজ্ঞা প্রযোজ্য বলে মনে হয় না। মা এমন একটি শব্দ যাকে ভাঙ্গা ও যায় না গড়াও যায় না। মায়ের সম্মান দিতে হয়ত আমরা সবাই পারি না। আসলে আমরা কোন সন্তানই মায়ের অনভূতিটাকে বুঝতে চাই না। তবু ও মা আমাদের নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবেসে যান ।
আমার মা, আমি যখন খুব ছোট আশে-পাশে কিছু একটা হলে বুঝতে পারি ঠিক তেমনই সময়ের একটা ঘটনা: আমাদের বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে আমার দাদীর সাথে ঘুড়তে গেছি গিয়ে দেখি অনেক গুলো ছোট ছোট কুকুরের ছানা। আমার খুব ইচ্ছা হলো একটা কুকুরের ছানা বাসায় নিয়ে যাবো যেমন কথা তেমন কাজ একটা কুকুরের ছানা আমি কোলে তুলে নিলাম ঠিক তখনি মা এবং বাবা কুকুরটা তার বাচ্চাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো।আমাকে কামড়িয়ে রক্তাত্ত করে দিল। আমার দাদী কি করবে বুঝে উঠতে পারছিলনা। কোন এক ব্যক্তি মারফত আমার মায়ের কাছে খবর গেল। আমার মা খবর পেয়ে পাগলের মত ছুটে আসলেন। আমাকে জড়িয়ে ধরে ছোট বাচ্চার মত ফুফিয়ে ফুফিয়ে কাদতে লাগলেন আর আমার শরিরে চুমো খেতে লাগলেন। আমার মা আমাকে কোলে তুলে ঝড়ের গতিতে ডাক্তারের কাছে ছুটলেন।ডাক্তার ড্রেসিং, ইন্জেকশন এবং ঔ্রষধ দিয়ে বিদায় করে দিলেন। মায়ের চোখে ঘুম হারাম, বাসায় এসে আমার সেবা শুরু করলেন। আমার মা আমাকে ডাক্তার দেখিয়ে বসে থাকেনি আমাদের গ্রমে দিপতা কবিরাজ নামে একজন লোক ছিলেন। আমরা দাদা বলে ডাকতাম তাকে, দাদা আমাকে দেখে বললেন দাদু ভাই ভয়ের কিছু নাই আমি আছিতো, দাদা আমাকে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করলেন। আমার মা কে বললেন ৭ টা কুয়ার পানি খাওয়াতে হবে। কুয়া থেকে পানি তোলার সময় দাদার পড়া ডাল কুয়াতে ফেলতে হবে। আমার মা আমাকে কোলে তুলে কোথায় কুয়া আছে খুজতে শুরু করলেন একেক টা কুয়ার সামনে গিয়ে আমাকে কোল থেকে নামিয়ে কুয়ার ভিতরে ডাল ফেলে রশি লাগানো বালতি দিয়ে পানি তুলে গ্লাসে দিয়ে বলে বাবা বিসমিল্লাহ বলে পানিটুকো খেয়ে নাও, এই ভাবে আমাকে কোলে করে ৭ টা কুয়ার পানি আমাকে খাওয়ালেন। আর ১ মাস যাবৎ আমার মা রাত্রে একটু সময়ের জন্যও ঘুমায়নি। মা মাগো ও মা তুমি এতো ভালো কেন। মা ও মা তোমাকে অনেক মনে পড়ছে। মাগো তোমাকে যে এক মূহর্তের জন্যও ভূলতে পারি না। গরমের দিনে যেন মায়ের খোকা বাবু কষ্ট না হয় সেই জন্য সার রাত জেগে তালের পাখা দিয়ে বাতাস করতো, শিতের দিয়ে যেন শিতে কষ্ট না হয় মা আমাকে বুকের ভিতর জরিয়ে রাখতো। আমার আবার একটা খারপ অভ্যাস ছিল আমি রাত্রে না খেয়েই ঘুমিয়ে যেতাম, মা আমাকে মনের ভূলেও না খেয়ে রাত্রে ঘুমাতে দিত না। সকালে যখন স্কুলে যেতাম মা আমাকে গোসল করিয়ে শরিরে তৈল মেখে জামা-প্যন্ট পড়িযে নিজে হাতে খাবার খাওয়িয়ে স্কুলে দিয়ে আসতেন, বিকেলে স্কুল থেকে ফিরতে দেরি হলে মা আমাদের বাড়ির পাশে আম গাছের কাছে দাড়িয়ে ওই দূরে চাতক পাখির মত তাকিয়ে থাকতেন আমার খোকা বাবু কখন আসবে। আমাকে দূর থেকে দেখেই দেৌড়িয়ে এসে আমাকে কোলে তুলে নিয়ে বলতেন বাবা এতো দেরি হলো কেন আরো কত কি? মা বলো তোমার এতো আদর-ভালোবাসা কি করে ভূলে থাকি? মা গো ও মা আমি কি ঠিক ভাবে তোমার দেখা-শুনা করতে পারছি?? ২০০৬ সাল থেকে তোমার কাছ থেকে দূরে আছি যদিও ২-৩ মাস পর পর বাড়িতে গিযে তোমাকে দেখে আসি কিন্তু এই ২-১ দিন তোমাকে দেখে যে আমার কলিজা ঠান্ডা হয়না, মাগো জানো যখন বাজার থেকে বড় কোন মাছ বা মাংস কিনে আনি তোমার বউমা রান্নাকরে খাওযার জন্য ডাকে বিশ্বাস করো মা আমি ওই খাবার খাইতে পারি না আমার মুখের মধ্যে খাবার যায়না খাইতে বসে কেন যেন মনে হয় আমার কি যেন নাই, তখন আমার বুক ফেটে কান্না আসে।
শহরের এই যান্ত্রিক জীবনে চলার পথে যদি কখনো একটু অসুস্থ হয় তখন মাকে অনেক মনে পরে, বিধাতার কি খেলা যখন মাকে মনে পরে ঠিক তখনি মা আমাকে ফোন দিয়ে বলে বাব তোমার শরির টা ভালো তো, অনেকখন ধরে আমার যেন কেমন লাগছে আমার মন বলছে তোমার শরির অসুস্থ, আমি বলি না মা আমি ঠিক আছি তখন মা বলেন না বাব তোমার কিছু একটা হয়েছে। মাগো তুমি কেমনে বোঝ যে তোমার খোকার শরির অসুস্থ ও মা মাগো তুমি যে মিশে আছো আমার শিরায় শিরায়। মাগো তুমি কোথায় তোমাকে অনেক miss করছি মা। জানো মা তোমাকে রেখে শহরের এই যান্ত্রিক জীবন আমার এক মূহর্ত ভালো লাগেনা।
মাগো তোমার কথা যদি পৃথিবীর সব সাগরের পানি কালি বানাই পৃথিবীর সকল গাছ যদি কলম বানাই তবুও তোমার কথা লিখে শেষ করা যাবে না।শুধু এতাটুকো বলবো মা তুমি আমার পৃথিবী তুমিই আমার বেহেস্ত।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০১৪ দুপুর ১:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তোমার মুখের রেখা আঁকতে চেয়েছি।

লিখেছেন জায়েদ হোসাইন লাকী, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০



রাতটি ছিল নিকোটিনে ভেজা
ধোঁয়ার ভেতরে তোমার অবয়ব হঠাৎ উধাও হয়ে গেল
চাঁদ তখন লাল আর ঠিক আমার ফুসফুসের মতোই ক্লান্ত।
তুমি আলো হয়ে রইলে, আমি অবাধ্য আলোর ফসিল

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ - ছোঁয়া

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৬ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৭

আজ বৃষ্টি তাকে প্রথম ছুঁয়েছে। ওর স্পর্শে তার সমস্ত সত্তা যেন হীরের মত স্বচ্ছ স্ফটিকে ছেয়ে গেছে। বৃষ্টি বলেছে, সে আকাশের কাছে গিয়েছিল। মেঘের কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

×