somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুহু

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নামটি শুনার পর দাদু যেন কোথায়
হারিয়ে
গেল,,
দাদুর জন্ম ব্রিটিশরা যখন
উপমহাদেশ ছেড়ে পালানোর
প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখন।
দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের শুরুর দিকে
দাদুর বাবা ছিলেন সরকারি
ব্রিটিশ অফিসার।
তৎকালীন ব্রিটিশ রেলওয়েতে
তিনি চাকরী করতেন,,
সে কারণে ওনাদের থাকতে হত
দার্জিলিং,,
বর্তমান ভারতের পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যর
একটি অংশ দার্জিলিং চায়ের জন্য
সে ব্রিটিশ আমল থেকে বিখ্যাত।
দাদু বাবা যেহেতু অফিসার
ছিলেন তাই ওনাদের আবাস স্থল ছিল
নির্জন একটি বাংলোতে।
দাদুকে দার্জিলিং এ একটি
মিশনারি স্কুলে ভর্তি করানো হয়,,
দাদুরা ছিলেন দুই ভাইবোন,
দাদুর বড় বোন আর দাদু।
দাদুর বোনের নাম ছিল কুহু।
কুহু ছিল দাদুর ৬ বছরের বড়।
কুহু ছিল একটি চঞ্চল স্বভাবের,
দার্জিলিং তখন অনেক উপজাতির
বাস ছিল তারা অনেক দেব দেবীর
পূজা করত,
একদিন রাতে কুহু জানালা দিয়ে
দেখতে পেল,,
দূরের পাহাড়ে আগুন জ্বলছে সে তা
দেখে সম্মোহিত হয়ে পড়লো সে
আগুনের দিকে অগ্রসর হতে লাগলো
দাদু তার দিদির পিছু চলতে
লাগলো দিদিকে জিঙ্গেস করল কয়
যাচ্ছিস??? কিন্তু কুহু কোন উত্তর না
দিয়ে সামনে অগ্রসর হচ্ছিল,,
.
দাদু অন্ধকারে একটি গাছের সাথে
ধাক্কা
খেয়ে জ্ঞান হারালো সকালে যখন
তার জ্ঞান ফিরলো তখন দাদু
নিজেকে তার বাড়ির বিছানায়
আবিষ্কার করল!
.
তিনি কুহুকে দেখতে পেলেন তিনি
বললেন দিদি গত রাতে তুই কোথায়
গিয়েছিলি??
সে বলল কোথাও যায় নি,,
দাদু তখন ছোট ছিল তিনি ভাবলো
হয়তো স্বপ্নে দেখেছিলেন এসব,,
কিন্তু গত কাল সে গাছের সাথে
ধাক্কার পর যে ক্ষতের সৃষ্টি
হয়েছিল তিনি তা লক্ষ করলেন!
পরদিন রাতে কুহু যেন কোথায় চলে
যায়।
তাকে খোজে পাওয়া যাচ্ছিল না
দাদুর বাবা যেহেতু সরকারি
অফিসার ছিলেন তাই ব্রিটিশ
পুলিশ দিনরাত তাকে খোজে
যাচ্ছিল কিন্তু তার কোন হদিস
পাচ্ছিল না,,
.
এরপর দিন ছিল অমাবস্যার ঘোর
অন্ধকার দাদু দেখতে পেল সে দূরের
পাহাড়ে আজও আগুন জ্বলছে,
দাদু সে আগুনের দিকে সম্মোহিত
হয়ে পড়লো আগুন তাকে কাছে
ডাকছে!
সে আগুনের দিকে অগ্রসর হতে
লাগলো।
কিছুদূর যাওয়ার পর হঠাৎ রাতের
আকাশে বিদুৎের জলকানিতে দাদুর
ঘোর ভাঙলো।
তিনি সামনে দেখতে পেলেন কিছু
লোক যারা খুব অদ্ভুত দেখতে অনেক
লম্বা দাড়ি চুল, হাতের নখ তারা
সবাই কুহুকে প্রতিমা রূপে বসিয়ে
পূজা করছিল।
একটি সাপকে বলি দিয়ে তা কুহুে
দিল তা সে খেতে শুরু করল,,
বড় একটি পাথরের ছুরি নিয়ে কুহুকে
বলি দেওয়ার একজন উদ্ধত হল ঠিক
তখনি একটি বিকট আওয়াজ হল সে
লোকটা মাটিতে লুটিয়ে পড়লো,,
পিছন থেকে দেখি কিছু লোক
আলো নিয়ে এদিকে আসছে কাছে
আসার পর দেখি বাবা আর পুলিশ আর
যে আওয়াজটি ছিল সেটা ছিল গুলির
আওয়াজ।
সে লোকগুলো দ্রুত জঙ্গলেরর ভিতর
লুকিয়ে পড়লো অনেক খোজার পর ও
তাদের খোজে পাওয়া গেল না।
জ্ঞানহারা কুহুকে নিয়ে দাদুরা
বাংলোতে ফিরলাে,,
কিন্তু তারপর থেকে কুহুর পাগলামি
শুরু হয়,
তাকে একটি রুমের ভিতর আটকিয়ে
রাখা হয়
,
ডাক্তার বলল ভারত বর্ষে কুহুর
treatment করা সম্ভব নয়,
তাকে treatment এর জন্য বিলেতে
(বর্তমানUK) পাঠাতে হবে।
দাদার আব্বু যেহেতু সরকারি বড়
অফিসার ছিলেন তাই বিলেত
পাঠাতে তেমন কষ্ট করতে হল না,,
দাদার আব্বু চাকরির কারণে যেতে
পারলেন না।
দাদা আর দাদার মা সাথে কুহুকে
নিয়ে তারা বিলেতে যাওয়ার
জন্য জাহাজে ওঠলো।
জাহাজের একটি কেবিনে দাদু
এবং দাদুর মা,
special কেবিনে রাখা হলো কুহুকে
জাহাজ দুইদিন ধরে চলছে,,
জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দরে পৌছে
যাত্রা বিরতি করল।
ঈতি মধ্য কুহুর পাগলামি চরম
পর্যায়ে পৌছালো,,
দাদুদের সাথে ছিল ডাক্তার সজীব
বড়ুয়া
তিনি দাদুদের সাথে কুহুকে নিয়ে
বিলেত যাচ্ছেন।
জাহাজ সিঙ্গাপুর বন্দর ত্যাগ
করেছে একদিন হল।
ঝড় ওঠলো সমুদ্রে,,
জাহাজ গিয়ে আটকা পড়ল একটি
জনমানব শূন্য দ্বীপের চরে।
সবার কপালে হাত এবার কী হবে!
ঈতি মধ্য আরেকটি খারাপ ব্যাপার
ঘটে গেল
কুহু জাহাজের ভেতর থেকে
পালিয়ে ঐ জনশূন্য দ্বীপের ভিতর
চলে গিয়েছে।
থাকে খোজার জন্য জাহাজের
নিরাপত্তা কর্মী ও আমি এবং
ডাক্তার সজীব রাইফেল নিয়ে দ্রুত
অজানা দ্বীপের ভিতরে প্রবেশ
করা শুরু করলাম।
বালির ওপর পায়ের চাপ অনুসরণ করে
কুহুকে খোজে পেতে কষ্ট হল না।
কিন্তু সেখানে আমাদের জন্য
অপেক্ষা করছিল সে লোকগুলো
যারা আগে কুহুকে বলি দিতে
চেয়েছিল।
পুনারায় তারা কুহুকে বলি দেওয়ার
জন্য তৈরি হচ্ছিল।
রক্ষীরা দ্রুত রাইফেল চালালেন
গুলির শব্দে সে দ্বীপের নীরবতা
ভেঙ্গে গেল।
আগের বারের মত সে লোকগুলো
জঙ্গলের ভিতর ভেনিস হয়ে গেল।
আমরা দ্রুত জাহাজে ফিরে এলাম।
জোয়ার আসার কারণে জাহাজ
আবার চলতে শুরু করল।
অবশেষে অনেক বিপদ সঙ্কটের পর
জাহাজ London গিয়ে পৌছালো,
এবং কুহুকে একটি mental hospital এ
admit করা হল।
কিন্তু admit হওয়ার পরদিন hospital এর
রুমের ভিতর তার' গলাকাটা আধ
খাওয়া লাশ পাওয়া যায় এবং
hospital এর জানালা ভাঙ্গা অবস্থায়
পাওয়া যায়।
কে মারল বা কিভাবে মারা গেল
সেই রহস্য পরে কেউ কোনদিন ভেদ
করতে পারেনি,
দাদু আজ অর্ধ শতাব্দী পর কুহুরর নাম
শুনে কান্নাকাটি করলেন....
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×