somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক অ্যাকাউন্টের জন্য ১০টি ‘না’

১১ ই জুন, ২০১৬ রাত ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন শুধু পরস্পরের মধ্যে সংযোগ স্থাপনই করছে না, বরং চাকরি, কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যবসা–রাজনীতি সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলেছে। সুতরাং এটা এখন শুধু আপনার ব্যক্তিগত জীবনের অংশই না, এটা আপনার পেশা জীবনেরও অংশ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক। আর এই মাধ্যমকে কাজে লাগাতে পারেন যদি না আপনি নিচের কাজগুলো অনুসরণ করেন।

১. আপনার প্রকৃত নাম পরিবর্তন করবেন না

ফেসবুকে অনেক সময় অনেকে নকল নাম বা রূপক নাম ব্যবহার করে থাকেন। এমনটি উচিত নয়। কেউ যদি আপনার নাম জিজ্ঞেস করে আপনি নিশ্চয় বলবেন না, আপনার নাম নীল দরিয়ার মাঝি, সাগর পাড়ের কন্যা, আমি কষ্টে আছি অথবা উড়ন্ত ছেলে। কারণ এগুলো আপনার নাম নয়। একজন চাকরিদাতা বা ব্যবসায়ী যদি আপনার সম্পর্কে ধারণা নিতে সার্চ ইঞ্জিনে আপনাকে খোঁজেন তবে এমন নাম তাদের আপনার সম্পর্কে ভালো ধারণা দেবে না। এমন নামকরণ ফেসবুকের নীতিমালার বাইরে। যে কেউ অভিযোগ করলে আপনার অ্যাকাউন্টটি তারা বন্ধ করে দিতে পারে। তাই নাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি নাম দুই অংশের হয় তবে প্রথম ও শেষ নাম ব্যবহার করুন। যদি তিন অংশের হয় তবে মধ্য নামও ব্যবহার (মধ্য নামের initial ব্যবহার করতে পারেন) করুন। নিজ ভাষা অথবা ইংরেজিতে নাম লিখতে পারেন, কিন্তু এমন অক্ষর ব্যবহার করবেন না যেটা বুঝতে অসুবিধা হয়।

২. শিরোনাম ব্যতীত ছবি পোস্ট করবেন না

এমনটি হতে পারে আপনি বোনের সঙ্গে ছবি পোস্ট করছেন কিন্তু কোনো শিরোনাম লেখেননি। আপনার বন্ধুরা হয়তো আপনাকে চেনে, কিন্তু আপনার বোনকে চেনে না। এ রকমের ছবিতে আপনার বন্ধুদের মন্তব্য আপনাকে বিব্রত করতে পারে। এ জন্য এ ধরনের ছবি পোস্ট করার আগে অবশ্যই শিরোনাম যোগ করবেন। এতে ছবি পোস্টের উদ্দেশ্য বোঝা সহজ হয়। ছবি নিজেই যদি শিরোনাম হিসেবে কাজ করে তাহলে হয়তো শিরোনামের প্রয়োজন নেই।

৩. শুধু লাইক পাওয়ার জন্য কাউকে সংযুক্ত করবেন না

শুধু লাইক পাওয়ার জন্য এমন কাউকে ছবি বা পোস্টে সংযুক্ত করবেন না যিনি এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত নন। আপনি জানেন না এতে তিনি আনন্দিত হবেন, না বিরক্ত হবেন। যদি সংযুক্ত করা জরুরি মনে করেন তবে পূর্ব অনুমতি নিয়ে নেবেন।

৪. ব্যক্তিগত কথাবার্তা ওয়ালে পোস্ট করবেন না

ব্যক্তিগত কথাবার্তা আদানপ্রদানের জন্য ফেসবুক অথবা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতে মেসেজ অপশন আছে। এ জন্য ব্যক্তিগত কথাবার্তা ওয়ালে পোস্ট না করে মেসেজ করবেন। যেমন; আপনি আপনার বন্ধুর কাছে টাকা পাবেন, আপনি এই টাকাটা চাওয়ার জন্য তার ওয়ালে লিখতে যাবেন না। প্রয়োজনে কল অথবা মেসেজ করবেন।

৫. চেইন স্ট্যাটাস পোস্ট করবেন না

আপনিও হয়তো এমন ইমেইল পেয়ে থাকবেন—কেউ আপনাকে নির্দিষ্ট ইমেইল পাঠিয়ে বলল, এই ইমেইলটি আরও ১০ জনকে পাঠাতে হবে অন্যথায় আপনার ভয়ানক বিপদ হবে। সেরকম ফেসবুকের নিউজ ফিডে কিছু ছবি বা লেখা দিয়ে বলা হলো আপনাকে লাইক ও শেয়ার করতে হবে, না হলে বিপদ হবে। অথবা বলা হলো আপনি যদি মুসলমান/হিন্দু বা অন্য কিছু হন, লাইক করুন, আমিন লিখুন, শেয়ার করুন। এ রকম চেইন স্ট্যাটাস পোস্ট করবেন না। এটা একরকম মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা। যদি সামাজিক সচেতনতা বিষয়ক কিছু হয় তবে মানুষকে সাধারণ অনুরোধ করবেন।

৬. অপরিচিত লোকদের বন্ধু হওয়ার অনুরোধ করবেন না

অনেকের হয়তো এমন ধারণা আছে যে, ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা যার যত বেশি তার জনপ্রিয়তার তত বেশি। এ কথা হয়তো সত্য, বাস্তব জীবনে যত বেশি মানুষ আপনাকে চেনে আপনি তত বেশি পরিচিত। কিন্তু ফেসবুকে সম্পূর্ণ অজানা মানুষকে যোগ করার মাঝে নয়। যদি কাউকে কোনো না কোনোভাবে চেনেন এবং মনে করেন তার সঙ্গে যোগ হলে উভয়ই উপকৃত হতে পারেন তবে ব্যক্তিগত অনুরোধ করবেন।

৭. ভুয়া সংবাদ পোস্ট করবেন না

ফেসবুক হলো ভুয়া সংবাদের অন্যতম উৎস। এখানে সবাই সাংবাদিক। এখানে সংবাদ পরিবেশনে সবাই মুক্ত। তাই যেকোনো সংবাদভিত্তিক পোস্টের আগে যাচাই করে নেবেন সংবাদটি সঠিক উৎস থেকে আসছে কিনা। মনে রাখবেন একটি ভুল সংবাদ ১০টি স্বাভাবিক জীবনের ওপর ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।

৮. ভুল ব্যক্তিগত তথ্য প্রধান করবেন না

ধরুন, একটি চাকরির জন্য আপনার জীবনবৃত্তান্ত চাইল, আপনি নিশ্চয় আপনার জীবনবৃত্তান্তে ভুল তথ্য প্রধান করবেন না। অনেক চাকরি আছে যেগুলো ফেসবুকের আইডি দিয়ে লগইন করে আবেদন করতে হয়। সুতরাং আপনার তথ্য যদি ভুল থাকে তবে চাকরিদাতা আপনার সম্পর্কে ভুল তথ্য পাবে যেটা আপনার জন্য কক্ষনোই মঙ্গলজনক নয়। এ ছাড়া ভুল তথ্য মানুষকে আপনার সম্পর্কে খারাপ ধারণা দেবে। তাই সকল তথ্য (পেশাগত, শিক্ষাগত, ব্যক্তিগত) সঠিক ও সমসাময়িক রাখুন।

৯. অশালীন মন্তব্য করবেন না

হয়তো ফেসবুক মন্তব্যের জন্য উন্মুক্ত এক জায়গা। কিন্তু মনে রাখবেন আপনার মন্তব্য আপনার ব্যক্তিত্বের পরিচায়ক। আপনার মন্তব্য থেকে মানুষ আপনার সম্পর্কে ধারণা নেবে। কথা বলার স্বাধীনতার ও সীমাবদ্ধতা আছে। আপনার মন্তব্য যদি কাউকে ব্যথা দেয় কিংবা কারও সম্মানহান
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৬ রাত ৩:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×