somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নামাজ মুমিনদের জন্য মেরাজস্বরূপ

১৬ ই জুন, ২০১৬ ভোর ৫:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেরাজ রজনীতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)
উম্মে হানী বিনতে আবু তালিবের ঘরে
ঘুমিয়েছিলেন। হঠাৎ হজরত জিবরাইল (আ.)
এসে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)কে মসজিদুল
হারামে নিয়ে যান। যেখানে তার বুক
বিদীর্ণ করে জমজম কূপের পানি দিয়ে সীনা
মোবারক ধৌত করে শক্তিশালী করেন।
এ ঘটনাকে ‘শাক্কুস সদর’ বলে। নবী (সা.)-
এর জীবনে অন্তত তিনবার এমনটা হয়েছে।
তারপর সেখান থেকে তিনি ‘বোরাক’
নামক এক ঐশী বাহনে চড়ে বায়তুল
মোকাদ্দাসে এসে সব নবীর ইমাম হয়ে দুই
রাকাত নামাজ আদায় করেন। তারপর তিনি
বোরাকে চড়ে ঊর্ধ্বে গমন করতে
থাকেন। একের পর এক আসমান অতিক্রম
করতে থাকেন। পথিমধ্যে হজরত মূসা
(আ.)সহ অনেক নবী-রাসূলের সঙ্গে
সাক্ষাৎ হয়। সপ্তম আসমানের পর হজরত
রাসূলুল্লাহ (সা.)কে বায়তুল মামুর
পরিদর্শন করানো হয়। এর পর
রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বচক্ষে জান্নাত ও
জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করেন।
বায়তুল মামুরে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)
জিবরাইল (আ.)কে রেখে তিনি ‘রফরফ’
নামক আরেকটি ঐশী বাহনে চড়ে
আল্লাহতায়ালার দরবারে হাজির হন।
কোনো কোনো বর্ণনায় আছে, মেরাজ
রজনীতে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)
আল্লাহতায়ালার এতটা কাছাকাছি
গিয়েছিলেন যে দু’জনের মধ্যখানে মাত্র
এক ধনুক পরিমাণ ব্যবধান ছিল। এখানে
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের
ওপর ৫০ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হলো।
পরবর্তী সময়ে পুনঃ পুনঃ আবেদনের
প্রেক্ষিতে আল্লাহপাক দৈনিক পাঁচ
ওয়াক্ত নামাজ উম্মতে মুহাম্মদির ওপর
ফরজ করেন, যা ইসলামের পাঁচটি রুকনের
অন্যতম রুকন বা ভিত্তি। আর এই নামাজই
মানুষকে যাবতীয় পাপাচার ও অনাচার
থেকে রক্ষা করে সত্যিকারের মানুষ
হিসেবে তৈরি করে।
হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) মেরাজ গমনের
বিষয়ে পবিত্র কোরআন ও হাদিসে
বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। এ ছাড়া
মুফাসসিররাও এ সম্পর্কে ব্যাপক তথ্য-
প্রমাণাদি পেশ করেছেন। যদিও মেরাজের
ঘটনা নিয়ে বিন্দুমাত্র সংশয়-সন্দেহ নেই।
আমাদের সমাজের অনেকেই মেরাজের
ঘটনার ক্ষেত্রে কোরআন-হাদিসের
রেওয়ায়েতের চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে
থাকে মেরাজের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক
বিশ্লেষণ। এটা আসলে এক ধরনের
হীনম্মন্যতা। কারণ মেরাজ সম্পর্কে
কোরআন ও হাদিসের প্রচুর বর্ণনা
এসেছে; এটাকে পাশ কাটিয়ে বৈজ্ঞানিক
বিশ্লেষণ নিয়ে মেতে থাকা ঠিক না। তবে
হ্যাঁ, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হতে পারে
কোরআন-হাদিসের সহায়ক।
কারণ কোরআন ও সহিহ হাদিসের অকাট্য
তথ্য একজন মুসলমান মানতে বাধ্য।
একজন খাঁটি মুসলমানের বৈজ্ঞানিক
দৃষ্টিকোণ থেকে মেরাজের সত্যতা
প্রমাণের অপেক্ষা না করে এ বিষয়ে
মনেপ্রাণে বিশ্বাস স্থাপন করার নামই
ইমান। তাই হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.)
মেরাজ গমনের কথা একজন অবিশ্বাসীর
মুখে শুনে হজরত আবু বকর (রা.)
তৎক্ষণাৎ বিশ্বাস করেছিলেন বলেই
হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে ‘সিদ্দিক’
উপাধি দিয়েছিলেন। মেরাজের মাধ্যমে
মহানবীকে (সা.) আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা
দান করা হয়, যেন মানুষ আল্লাহর
নিদর্শন উপলব্ধি করতে পারে এবং স্বচ্ছ
ধারণা অর্জন করতে পারে।
মহানবী হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
জীবনে ‘মেরাজ’ এমন সময় সংঘটিত
হয়েছিল যে সময়টি ছিল তার জীবনের
সবচেয়ে দুর্যোগময় মুহূর্ত। কোরাইশদের
দ্বারা মহানবী (সা.) এবং তার
অনুসারীদের সামাজিকভাবে বয়কট, প্রিয়
স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) ও একমাত্র
অভিভাবক চাচা আবু তালিবের ইন্তেকাল,
তায়েফবাসীর লাঞ্ছনা মহানবী (সা.)কে
মানসিকভাবে মর্মাহত করে। আর এমনই
সময়ে মহান আল্লাহর কাছ থেকে
আমন্ত্রণ এলো মেরাজের। মেরাজের
রাতে মহান আল্লাহতায়ালা তার প্রিয়
বন্ধুকে একান্ত সান্নিধ্যে নিয়ে আসেন।
আল্লাহ রাসূল (সা.)কে ইসলামের
বাস্তবায়ন রূপরেখা, ভবিষ্যতের
কর্মপন্থা এবং মুমিনদের জন্য
সর্বোত্তম ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ
নিয়ামতস্বরূপ দান করেন। সে জন্য বলা
হয়েছে, ‘আসসালাতু মিরাজুল মুমিনিন’
নামাজ মুমিনদের জন্য মেরাজস্বরূপ।
ইসলামের প্রত্যেকটি ইবাদতের বিধান
আল্লাহতায়ালা হজরত জিবরাঈল (আ.)-এর
মাধ্যমে মহানবী (সা.)-এর কাছে প্রেরণ
করেন। কিন্তু নামাজই একমাত্র ইবাদত যা
কোনো মাধ্যম ছাড়া আল্লাহতায়ালা
সরাসরি মহানবী (সা.)-এর ওপর ফরজ
করেছেন। সুতরাং আমাদের উচিত হলো
সমাজে নামাজ কায়েম করতে সচেষ্ট হওয়া।
এবারের শবেমেরাজে এটাই হোক আমাদের
একান্ত শপথ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৬ ভোর ৫:২৯
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×