somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখী হতে হলে ১৬টি উপায় মেনে চললেই আপনি সুখী হতে পারবেন।

১৭ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুখ! সুখী হতে আমরা কত
কি-ই না করে থাকি। যখন নিজেকে অসুখী
ভাবতে শুরু করি, তখন হতাশ হয়েই গেয়ে
উঠি, ‘সুখ তুমি কি বড় জানতে ইচ্ছে করে’।
কেউ কেউ বলেন, সুখটা আসলে আপেক্ষিক।
তবে আর যা হোক গানও কিন্তু আছে,
‘সবাই তো ‍সুখী হতে চায়, কেউ সুখী হয় কেউ
হয় না’। তাহলে কি সুখী হওয়াটা খুবই কঠিন!
না। সুখী হওয়াটা মোটেও কঠিন কোন কাজ
নয়। সুখী হতে হলে আপনার ইচ্ছেটাই যথেষ্ট।
কিছু জিনিস মেনে চলতে পারলে আপনিও বুক
টান করে বলতে পারবেন, ‘আমি খুব সুখী’।
তাহলে কি করতে হবে আপনাকে? খুব বেশি
কিছু নয়। সুখী হতে হলে ১৬টি উপায় মেনে
চললেই আপনি সুখী হতে পারবেন। আর তা
জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট। তাহলে কি সে
উপায়? আসুন পড়ে জেনে নিই।

১। আপনি জানেন কি, কৃতজ্ঞতা বোধ মনের
শান্তি অনেক বৃদ্ধি করে? তাই সর্বত্র
কৃতজ্ঞ হোন। কোনো কাজের জন্য
অন্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ জ্ঞাপন
করতে মোটেও ভুল করবেন না। এটি আপনার
মনের সুখ অনেক বেশি বৃদ্ধি করবে।

২। সুখ নষ্টের অন্যতম দুটি কারণ হলো
অতীত ও ভবিষ্যৎ। তাই সুখী হতে চাইলে এই
দুটি নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন। মনোযোগী
হোন বর্তমানে। মনে রাখবেন, অতীত
কিংবা ভবিষ্যতের চেয়ে বর্তমান কিন্তু খুব
গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অতীতে কী হয়েছে,
ভবিষ্যতে কি হবে, এ নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট
করার কোন মানে নেই। ভাবুন বর্তমানটাকে
কিভাবে সুন্দর করা যায়।

৩। কে আপনাকে উৎসাহিত করল, কে করল
না, তা নিয়ে বসে থাকবেন না। নিজেই নিজের
জন্য অনুপ্রাণিত হোন। এক্ষেত্রে খুব
খেয়াল করে ভেবে দেখুন, কোনো বিষয় যদি
আপনার সুখের অন্তরা হয়, তবে তা এখনই
ত্যাগ করুন। আমাকে পারতেই হবে, এমন
সংকল্প দৃঢ় করুন।

৪। মানুষের জীবনকে অনেক বেশি সুন্দর করে
তোলে উদারতা। তাই উদার হোন। মনের
শান্তি বাড়াতেও উদারতা খুব চমৎকার কাজ
করে।

৫। ভালো থাকার জন্য হাসির কোনো
বিকল্প নেই। তাই বলে, অন্য কেউ আপনার
হাসির কারণ হলে এরপর যে হাসতে হবে, এমন
কোনো কথা নেই। নিজের জন্যও হাসি
দেওয়া যায়। আর এই হাসি যে কোনো
গুরুগম্ভীর পরিস্থিতিও সামলাতে চমৎকার
কাজ করে। হাসি মানুষের সুখ বৃদ্ধি করে।
সুস্থ রাখতেও সহায়ক হাসি। তাই বেশি করে
হাসুন এবং সুখী হোন।

৬। স্থির হোন। স্থির হওয়াটা সুখী হওয়ার
মুল একটি উপাদান। তাই বুদ্ধিমানরা যা
করেন স্থির হয়েই করেন। যেমন, বুদ্ধিমান
মানুষ সবখানে যুদ্ধ করতে যান না।
এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় স্থানটি বেছে নেওয়া
খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার মানসিক
শান্তিও বাড়াবে।

৭। যা কিছু করবেন না কেন, তা নিয়ে
পরিকল্পনা করুন। এবং সেক্ষেত্রে আপনার
অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। তবে মনে
রাখবেন, অভিজ্ঞতা কখনোই হঠাৎ করে
তৈরি হয় না। দীর্ঘদিন ধরে প্রচেষ্টার পর
অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়। আর এখানে
পরিকল্পনা করে বিষয়টি অর্জন সম্ভব হলে
মনে সুখের মাত্রা অনেকাংশে বেড়ে যায়।

৮। যত যা হোক, পুরনো বন্ধুদের সাথে
যোগাযোগ রক্ষা করুন। দেখবেন, পুরনো
বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হলে কতোই না ভালো
লাগে! এ কারণে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে
যোগাযোগ রাখুন এবং তাদের সহায়তায়
মনের সুখ বাড়িয়ে নিন।

৯। কাউকে সহয়তা করতে ভুলবেন না। তবে
সহায়তা করুন নিঃস্বার্থে। দেখবেন অন্যকে
যদি আপনি নিঃস্বার্থে সহায়তা করেন, তবে
এতে আপনার মানসিক প্রশান্তি বৃদ্ধি পাবে।
এটি অবশ্য আপনাকে দীর্ঘমেয়াদে সুখী করে
তুলবে।

১০। হঠাৎ করে কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ
করতে পারলে আপনার তা অর্জন করা
সম্ভব নাও হতে পারে। তাই লক্ষ্য নির্ধারণ
করুন অর্থবহ। তাই লক্ষ্য নির্ধারণের
ক্ষেত্রে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন। কারণ
আপনি যদি লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, তবে
সেখানে সুখ আপনার নখ-দর্পণে।

১১। বিনোদন থেকে দূরে সরে যাবেন না। এতে আপনার
মনের শান্তি অনেকাংশে বাড়িয়ে দেবে।

১২। নিয়মিত হাঁটুন। সুস্থ্ থাকার জন্য
শরীরও ঠিক রাখা প্রয়োজন। আর সুস্থ
শরীরের সাথে মনেরও একটা গভীর সম্পর্ক
থাকে। তাই প্রয়োজনের তাগিদেই একটু হেঁটে
নিন।

১৩। ক্ষমা হচ্ছে অন্যতম একটি মহৎ গুণ।
অন্যকে ক্ষমার মাধ্যমে পাওয়া যায়
অনাবিল আনন্দ। তাই ক্ষমা করতে শিখুন।
এতে আপনার মনের শান্তি বাড়বে।

১৪। নিজেকে নিজেই চিঠি লিুখন। তবে চিঠিটা
লিখবেন অতীতে আপনাকে। বর্তমান আপনি
কেমন? বর্তামানে কি কি অভিজ্ঞতা হল
আপনার? তা জানিয়ে চিঠি লিখুন। এতে
আপনার আগের আপনির অবস্থানকে জানিয়ে
দিন যে, আপনি আর আগের মতো নেই।

১৫। আমাদের অনেকেরই অনেক অভিযোগ
থাকে। তাই সাবধান হোন। যখন তখন
অভিযোগ করবেন না। কিছুটা হলেও
অভিযোগ ভুলে যান। তুলে রাখুন অন্য
কোনো সময়ের জন্য।

১৬। পারেন তো নিয়ম করে সূর্যাস্ত
দেখুন। সূর্যাস্ত মানে কিন্তু একটি দিনের
শেষ। একদিন শেষ মানে আপনার জীবন থেকে
একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি। তাই সূর্যাস্ত
দেখুন এবং এ বিষয়টি নিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে
নিন। বর্তমান সময়কে সুখী হিসেবে গড়ে
তুলতে উপায় অনুসন্ধান করুন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নজির

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:০২

নজির
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

সুখ নাই, আনন্দ নাই, নাই শান্তি
একলা চলতে চলতে উদাসী
আত্মভোলা, মনভোলা, বেখেয়ালি
প্রতিমুহূর্ত লাগে যেন গোধূলি!
আমার ব্যক্তিত্বে, চিন্তা, চেতনায়
কেউ আটকায় না, হয় না আকৃষ্ট!

নিঃসঙ্গ বিষাদযুক্ত ঘুরতে ঘুরতে
হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বাস আর সংগ্রামই একদিন সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করবে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০২



আওয়ামী লীগের ইতিহাস কোনো সহজ পথে হাঁটেনি। রক্ত, ত্যাগ আর সংগ্রামের ভেতর দিয়ে এই দলের জন্ম, আর সেই জন্মসূত্রের গৌরব আজও অক্ষুণ্ণ- ণ্কারণ ইতিহাস সাক্ষী, এই দল কখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×