somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোরিয়ার ডায়রি ঃ ( 2য় খন্ড ) টেক্সি ড্রাইভারের প্রতারনার স্বীকার ।

০৯ ই এপ্রিল, ২০০৭ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

( পূর্ব প্রকাশের পর ) ঃ

27মার্চ 1999 । সকাল 7 টা বিমান থেকে নামতে গিয়ে হঠাৎ দাড়িয়ে গেলাম । হায় একোথায় এলাম । প্রচন্ড ঠান্ডার ঝাপটায় মনে হলো আমি কোন এক হিমাগারে । নিজেকে সামলিয়ে এগিয়ে চললাম বিশ গজ দুরে দাড়ানো বাসে । মুহূর্তে শরীর রে উত্তাপ অনুভব করলাম । শীত প্রধান দেশ সম্পর্কে এর আগে ধারন ছিলনা । হিটরি চালু ছিল বাসে । যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাস এসে থেমেছে ইমিগ্রেশন বুথের সামনে । লাইনে দাড়িয়ে ভিসা নিচ্ছে সবাই । যাদের আগেই ভিসা নেওয়া ছিলো তাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রূত চলে যাচ্ছে । আমার আগে ভিসা নেওয়া ছিলনা ।শুধু একটা ইনভাইটেশন লেটার ছাড়া কিছু ছিলনা । ইমিগ্রেশন কর্মি একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা তিনি আমায় ভিসা না দিয়ে একজন কর্মকর্তা ডেকে আমাকে তার সাথে যেতে বললেন । কর্মকতাটি আমাকে একটা রোমে নিয়ে গেলেন যেখানে অন্যান্য দেশের আর ও কিছু লোক আছে ।

যাই হোক অনেক যুক্তিতর্কের পর আমাকে তিন মাসের ভিসা দিয়ে বললেন, '' তোমকে স্বগতম তোমার ভ্রমন আনন্দময় হোক'' । অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে বিমান বন্দর থেকে বাইরে এসে আবারো ঠান্ডায় আমি কাবু । ঠক ঠক করে কাঁপছি । আগে ই সংগ্রহ করেছিলাম কোরিয় মুদ্রা 'ওন '। বক্স থেকে ফোন করলাম বড় ভাইয়ার বন্ধু কে কি জ্বলা উনি ফোন ধরেন না । অন্য এক জায়গায় ফোন করতেই ভেসে এলো মহিলা কনঠ । কোরিয়ান ভাষায় কথা বলছে । আমিতো মাথামুন্ডু কিছুই বুঝিনা ঐ বেটি দেখি ইংরেজি জানে না । নাম্বরটি ছিল এক বাঙালি ভাই কাজ করতো ঐ ফ্যাক্টোরির অফিসের । বার বার ফোন করছি দেখে মহিলা বাঙালি ভাইটিকে ডেকে ফোন দিলেন । তার সাথে কথ বলে কিভাবে তাঁর বাসায় যাব জেনে নিয়ে টেক্সিতে উঠলাম । এ খানে বলে নেওয়া ভালো যে কোরিয়াতে অবৈধ ভাবে থাকার কারনে রিসিভ করার জন্য এয়ার ফোর্টে যাবার লোক পাওয়া যায় না ।

টেক্সি তে উঠার আগে দেখলাম যে লোকটা আমার সাথে কথা বলেছিল সে ড্রাইভার নয় । অন্য একজন গাড়ী চালাচ্ছে এবং সে ইংরেজী জানে না বুঝতে পারলাম ঐ ব্যাটা টেক্সি ওয়ালাদের দালাল । টেক্সি শা শা করে এগিয়ে যাচ্ছে ভিতরে দুটি প্রাণী কেউ কথা বলছিনা । আমি চেষ্ঠা করলে ও ওকোন কথা বলেনা । ভাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলে । প্রায় একঘন্টা পর এক জায়গায় এসে আমাকে নামার জন্য ইশারা করল । আমার লোক নাই দেখে নামছিনা । কিছুটা রাগী ভাব ধরে বুঝালো এখানে আসার কথা বলা হয়েছে ওকে এবং বার বার মোবাইলে আমার লোকের সাথে কথা বলেছে । বাধ্য হয়ে নামলাম । ভাড়া আমার ঐ লোক দিবেন এয়ার পোর্টে থাকতে এ কথা উনি বলে ছিলেন । কারন কিছু ড্রাইভার আছে খারাপ ওরা নতুন লোক দেখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে ।

আমাকে যেখানে নামানো হয়েছে এটা শহর ছেড়ে অনেক দুর । লোক চলাচল ও খুব একা নাই শুধু গাড়ী আসাযাওয়া করে । ড্রইিভার ভাড়ার জন্যে চাপাচাপি করছে । কত দিতে হবে মিটারে কত এসেছে কিছুইতো বঝিনা । এবার বেটা দেখি আমার পকেটে হাত দিতে চায় । ভয় পেয়ে গেলাম । সাথে পাঁচ হাজার ইউ এস আছে । যদি জোড় করে...... কোরিয়ান ওন ছিল এিশ হাজার = পঁয়এিশ ইউ এস । এগুলো দিলাম । বলে আর ও দিতে হবে । এবার সত্যি সত্যি পকেটে হাত ডুকাইয়া দিলো । আমি একশত ডলারের একটা নোট বাইর করতেই চোঁ মেরে নিয়ে আমাকে রেখে ব্যাটা চলে গেল ।
প্রচন্ড শীতে আমি কাঁপছি । আশে পাশে কোন বক্স নাই এখন কি করবো ভাবছি আর হাঁটছি । কিছু দুর যাওয়ার পর একটা তেলের পাম্প পেলাম ...........।

ব্যাস্ততা এবং ওয়ালর্ড কাপের কারনে অনিয়মিত । সে জন্যে দুঃখিত ।

চলবে ঃ

ছবি ঃ বিশ্ব বিখ্যাত কোরিয়ার '' জিনসেং '' ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৬:৪২
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা - 'সত্য বলার সনদ'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮



রাত দুটায় রাকিবের ফোন বেজে উঠলো।

—ভাই, আপনার মুক্তিযোদ্ধা সনদটা কোথায়?

—কেন?

—একজন আমেরিকা-প্রবাসী ব্লগার বলেছেন, আপনি নাকি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা।

রাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,
—আমার সনদ তো আলমারিতে। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ রক্ত ঋণ

লিখেছেন ইসিয়াক, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৪




আমাদের পরিবারে সাব্বির নামটা উচ্চারণ করা নিষিদ্ধ । সাব্বির ভাইয়া আব্বুর প্রথম সংসারের একমাত্র সন্তান আর আমরা দুই ভাই -বোন তার দ্বিতীয় সংসারের।
সাব্বির ভাইয়ার মা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আর্কাইভ থেকে: আহ প্রিয়তমা, মিলনের গল্প জানো না

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:১৫



ফেলে আসা এক সড়কের কথা মনে পড়ে। হলুদ নিয়ন বাতির ম্লানাভ সন্ধ্যেবেলা। পলেস্তারা খসা বয়োজীর্ণ দেয়াল। দুয়েকটি রিক্সা। সিটের ’পর পা তুলে আঁটোসাটো ঝিমানো চালক। খেলা শেষে ঘরে ফেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×