27মার্চ 1999 । সকাল 7 টা বিমান থেকে নামতে গিয়ে হঠাৎ দাড়িয়ে গেলাম । হায় একোথায় এলাম । প্রচন্ড ঠান্ডার ঝাপটায় মনে হলো আমি কোন এক হিমাগারে । নিজেকে সামলিয়ে এগিয়ে চললাম বিশ গজ দুরে দাড়ানো বাসে । মুহূর্তে শরীর রে উত্তাপ অনুভব করলাম । শীত প্রধান দেশ সম্পর্কে এর আগে ধারন ছিলনা । হিটরি চালু ছিল বাসে । যাই হোক, পাঁচ মিনিটের মধ্যে বাস এসে থেমেছে ইমিগ্রেশন বুথের সামনে । লাইনে দাড়িয়ে ভিসা নিচ্ছে সবাই । যাদের আগেই ভিসা নেওয়া ছিলো তাদের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রূত চলে যাচ্ছে । আমার আগে ভিসা নেওয়া ছিলনা ।শুধু একটা ইনভাইটেশন লেটার ছাড়া কিছু ছিলনা । ইমিগ্রেশন কর্মি একজন মধ্য বয়স্ক মহিলা তিনি আমায় ভিসা না দিয়ে একজন কর্মকর্তা ডেকে আমাকে তার সাথে যেতে বললেন । কর্মকতাটি আমাকে একটা রোমে নিয়ে গেলেন যেখানে অন্যান্য দেশের আর ও কিছু লোক আছে ।
যাই হোক অনেক যুক্তিতর্কের পর আমাকে তিন মাসের ভিসা দিয়ে বললেন, '' তোমকে স্বগতম তোমার ভ্রমন আনন্দময় হোক'' । অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ করে বিমান বন্দর থেকে বাইরে এসে আবারো ঠান্ডায় আমি কাবু । ঠক ঠক করে কাঁপছি । আগে ই সংগ্রহ করেছিলাম কোরিয় মুদ্রা 'ওন '। বক্স থেকে ফোন করলাম বড় ভাইয়ার বন্ধু কে কি জ্বলা উনি ফোন ধরেন না । অন্য এক জায়গায় ফোন করতেই ভেসে এলো মহিলা কনঠ । কোরিয়ান ভাষায় কথা বলছে । আমিতো মাথামুন্ডু কিছুই বুঝিনা ঐ বেটি দেখি ইংরেজি জানে না । নাম্বরটি ছিল এক বাঙালি ভাই কাজ করতো ঐ ফ্যাক্টোরির অফিসের । বার বার ফোন করছি দেখে মহিলা বাঙালি ভাইটিকে ডেকে ফোন দিলেন । তার সাথে কথ বলে কিভাবে তাঁর বাসায় যাব জেনে নিয়ে টেক্সিতে উঠলাম । এ খানে বলে নেওয়া ভালো যে কোরিয়াতে অবৈধ ভাবে থাকার কারনে রিসিভ করার জন্য এয়ার ফোর্টে যাবার লোক পাওয়া যায় না ।
টেক্সি তে উঠার আগে দেখলাম যে লোকটা আমার সাথে কথা বলেছিল সে ড্রাইভার নয় । অন্য একজন গাড়ী চালাচ্ছে এবং সে ইংরেজী জানে না বুঝতে পারলাম ঐ ব্যাটা টেক্সি ওয়ালাদের দালাল । টেক্সি শা শা করে এগিয়ে যাচ্ছে ভিতরে দুটি প্রাণী কেউ কথা বলছিনা । আমি চেষ্ঠা করলে ও ওকোন কথা বলেনা । ভাঝে মাঝে মোবাইলে কথা বলে । প্রায় একঘন্টা পর এক জায়গায় এসে আমাকে নামার জন্য ইশারা করল । আমার লোক নাই দেখে নামছিনা । কিছুটা রাগী ভাব ধরে বুঝালো এখানে আসার কথা বলা হয়েছে ওকে এবং বার বার মোবাইলে আমার লোকের সাথে কথা বলেছে । বাধ্য হয়ে নামলাম । ভাড়া আমার ঐ লোক দিবেন এয়ার পোর্টে থাকতে এ কথা উনি বলে ছিলেন । কারন কিছু ড্রাইভার আছে খারাপ ওরা নতুন লোক দেখে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে ।
আমাকে যেখানে নামানো হয়েছে এটা শহর ছেড়ে অনেক দুর । লোক চলাচল ও খুব একা নাই শুধু গাড়ী আসাযাওয়া করে । ড্রইিভার ভাড়ার জন্যে চাপাচাপি করছে । কত দিতে হবে মিটারে কত এসেছে কিছুইতো বঝিনা । এবার বেটা দেখি আমার পকেটে হাত দিতে চায় । ভয় পেয়ে গেলাম । সাথে পাঁচ হাজার ইউ এস আছে । যদি জোড় করে...... কোরিয়ান ওন ছিল এিশ হাজার = পঁয়এিশ ইউ এস । এগুলো দিলাম । বলে আর ও দিতে হবে । এবার সত্যি সত্যি পকেটে হাত ডুকাইয়া দিলো । আমি একশত ডলারের একটা নোট বাইর করতেই চোঁ মেরে নিয়ে আমাকে রেখে ব্যাটা চলে গেল ।
প্রচন্ড শীতে আমি কাঁপছি । আশে পাশে কোন বক্স নাই এখন কি করবো ভাবছি আর হাঁটছি । কিছু দুর যাওয়ার পর একটা তেলের পাম্প পেলাম ...........।
ব্যাস্ততা এবং ওয়ালর্ড কাপের কারনে অনিয়মিত । সে জন্যে দুঃখিত ।
চলবে ঃ
ছবি ঃ বিশ্ব বিখ্যাত কোরিয়ার '' জিনসেং '' ।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৭ ভোর ৬:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



