somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হরতালে যাদের ‘কিনে’ না কেউ

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১২:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


‘ঠিকা’ হিসাবে প্রতিদিন সকালে যেসব শ্রমিক ‘বিক্রি’ হতেন, হরতালে তাদের অপেক্ষায় থাকতে হয়- কখন ‘কিনবে’ কেউ। কেউ আসে না। তাই রোজগারহীন দিন কাটে তাদের, যার সঙ্গে রাতের হিসেবটা যোগ হয় দুশ্চিন্তা হয়ে- কী খাওয়াবেন বউ-সন্তানদের!


রাজধানীর কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্টে ভোরে দলবেঁধে হাজির হন এসব শ্রমিক, যারা বিভিন্ন ধরনের কাজ করেন ‘ঠিকা শ্রমিক’ হিসাবে।
আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের পাশে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কোদাল আর টুকরি নিয়ে জটলা করে বসে ছিলেন এমনই ৩০-৩৫ জন শ্রমিক।
এদেরই একজন মো. হাজাক মিয়ার ক্ষোভ কোনো হরতালেই তাকে কেউ কিনেনি বলে।
শেরপুরের এই বাসিন্দা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এমনিতেই মাসের ৩০ দিন কাজ পাওয়া যায় না। এর মধ্যে হরতাল হলে কেউ কিনতেই আসে না।
হাজাক মিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় কিছুটা দূরে বসে থাকা এক শ্রমিক একটু উচ্চ স্বরেই বলেন, “কোন বিড়ির কোম্পানির লোক রে?”
হাজাক মিয়ার উত্তরে ‘উনি সাংবাদিক’ শুনেই আগ্রহ নিয়ে পাশে এসে বসেন সালাম। ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “আগের হরতালেও কেউ আমাদের কিনতে আসেনি। ওই দিন দুপুরের দিকে গুণে দেখলাম আমরা দেড়শর মত আছি। ভাবছিলাম মিছিল করে হরতাল দিয়ে দেই।”
আপনারা হরতাল দেবেন- প্রশ্ন শুনেই বলেন, “কাম না থাকলে চুলা জ্বলে না। এর মধ্যে পোলাপাইনের লেখাপড়ার খরচ আছে। কেমনে চলে বলেন।”
শ্রমিকরা জানান, প্রতিদিন সাড়ে তিনশ থেকে চারশ টাকায় কাজ করেন পুরুষ শ্রমিকরা। আর মহিলা শ্রমিকরা পান আড়াইশ থেকে তিনশ টাকা। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। দুপুরের খাওয়া খরচ নিজের।
সকাল ৮টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হয় বলে সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যেই তাদের নিতে আসেন অনেকেই। এজন্য ভোরেই তারা হাজির হন রাজধানীর সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে।
বেশির ভাগ পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে ঠিকা শ্রমিক হিসেবে কাজ করা সাজেদার ক্ষোভটা একটু অন্য রকম। পুরষদের চেয়ে টাকা কম পান বলে মনে দুঃখও আছে তার।
মধ্যবয়সী এই মহিলা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ঠিকা কাজ করি বলে অন্যের বাসার কাজ নেই না। কিন্তু যেসব দিনে কাজ পাওয়া যায় না সেসময় অনেক সমস্যা হয়।
কাজ না থাকলে কীভাবে সংসার চলে- প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, “খুব মনে করেন প্রবলেম। কেমনে যে কী করুম সেই চিন্তায় অস্তির থাকি।”
শেরপুরের মুক্তার হোসেন থাকেন আগারগাঁও এলাকার একটি মেসে। তিনি বলেন, “কাজ না করতে পারলে মাস চলে না। ঘর ভাড়া নিয়ে মালিকের সাথে কাইজ্যা হয়। এমোন করে আর চলে না।”
জীবিকার সন্ধানে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় আসা আব্দুল জলিল মিয়া বলেন, “সরকার নাকি দেশ জিডিটাল করছে। তাইলে আমগো চাকরি নাই ক্যান। একটা ছোট চাকরি থাকলেও তো ডেইলি সকালে আইসা এমুন কইরা বইসা থাকুন লাগত না।”

মিরপুর-১ নম্বর সেক্টরের ফুটওভার ব্রিজের নিচেও মঙ্গলবার সকাল থেকেই বসে ছিলেন কয়েকশ ঠিকা শ্রমিক। বিক্রি না হওয়ায় এদের অনেকেই সকাল ১১টার পরে চলে যান।
একটি গ্রুপে থেকে রংয়ের কাজ করেন জানিয়ে ফজলুল হক বলেন, হরতালে হাতেগোণা দু’একজন শ্রমিক কাজ পান। বেশিরভাগকেই বসে থেকে বাসায় ফিরে যেতে হয়।
“কেউ যদি একটু কম দামও বলত তাহলেও কাজ করা যেত। বসে থেকে লাভ কী? কিন্তু হরতালের দিন কেউ যে কিনতেই আসে না।”
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের মঙ্গলবারের হরতালে রাজধানীর মিরপুর-১৪ নম্বর সেক্টরেও অনেক শ্রমিককেই দেখা গেছে ‘অবিক্রিত’ বসে থাকতে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেড ইন বাংলাদেশ ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:২২


দেশপ্রেমের সংজ্ঞাটা আমাদের দেশে ঋতুভেদে বদলায়। তবে ২০২৪-এর জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা এক নতুন ধরনের সিজনাল দেশপ্রেম দেখলাম। একে বলা যেতে পারে "রিটার্ন টিকিট দেশপ্রেম"। যারা দেশে বিদেশে আরাম-আয়েশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের কৃষি আধুনিকায়ন রোডম্যাপ: একটি পূর্ণাঙ্গ নীতিপত্র রূপরেখা : পর্ব -১ ও ২

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১১


প্রস্তাবিত রূপরেখা: কৃষিকে জীবিকানির্ভর খাত থেকে প্রযুক্তিনির্ভর, জলবায়ু-সহনশীল
ও বৈশ্বিক বাজারমুখী বাণিজ্যিক শিল্পে রূপান্তরের জাতীয় কৌশল প্রস্তাবনা ।

বাংলার মাঠে প্রথম আলোয়
যে ছবি আসে ভেসে
কাঁধে লাঙল, ঘামে ভেজা মুখ
কৃষক দাঁড়ায় হেসে।

সবুজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি ধার্মিক না মানুষ?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০৮

ধার্মিক হওয়া কোনো কাজের কথা নয়।
ধার্মিক হওয়া সহজ। বিজ্ঞানী হওয়া সহজ কথা নয়। পিএইচডি করা সহজ কথা নয়। সেই তুলনায় কোরআন মূখস্ত করা সহজ। জন্মগত ভাবে আমি বাপ মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×