somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"কাল সারারাত বৃষ্টি হয়েছিলো" (ধারাবাহিক পর্ব-১)

১৬ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রজত— উপস্থিত প্রিয় সুধী শ্রোতাবৃন্দ, আমার আজকের এই ছোটো আয়োজনে আপনাদের সবাইকে আমার পক্ষ থেকে হৃদয়ভরা সাদর আমন্ত্রণ। আমি রজত। উচ্চতা ১৭৩ সেন্টিমিটার, গায়ের রঙ ঈষৎ কালো, রক্তের গ্রুপ ‘ও’ প্রজেটিভ, পাল্স 84 mnt, বিশেষচিহ্ন ডানকানের উপরের দিকে লম্বালম্বিভাবে ছোটো একটা কাটা দাগ আছে। নেশা অবশ্য একটা আছে। আর সেটা হল কবিতা। আজকে আপনারা শুনবেন আমার কথা, আমার জীবনের কথা, আমার প্রেমের কথা। জানি সেসব শুনতে হয়ত কারো কারো ভালো লাগবে ; আবার হয়ত-বা কারো মোটেই ভালো লাগবেনা। কিন্তু সেসবে আমার কিছুই যায় আসে না। কেননা সমস্ত ধরনের উপেক্ষা অপমান অবহেলাকে সহ্য করেই আমি গতকাল, পরশু ও তরশু রূপাকে ভালোবেসেছিলাম। আজও বাসি। আর আগামিকাল, পরশু এবং তরশুও এই রূপাকেই একইরকমভাবে রাশহীন-উদ্দাম ভালোবেসে যাবো। আর তার বিনিময়ে বাকি সারাটা জীবন যদি শুধু শূন্য বুকেতে সোনার বরণ গুচ্ছ গুচ্ছ দুঃখ বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় তো বেড়াবো।

জানেন, রূপাকে দেখার আগে পর্যন্ত আমি ভাবতাম সারা পৃথিবীতে অহরহ কতশত প্রেম ঘটে চলেছে ; তবে এতদিনেও কেন কেউ আমার জীবনে আসছেনা ? আর মনে মনে কেবলই বলতাম, হে ঈশ্বর এবার অন্তত কাউকে পাঠান ; যার পঞ্চমুখী বর্ণময় আবেগি-আগমনে এই পোড়খাওয়া খাঁ-খাঁ হৃদয়কে আমিও উল্লেখ করতে পারি কানাকানি প্রেমের ব্যস্ত বেসামাল মহকুমার হিসাবে। যার সর্বোব্যাপী ও সর্বগ্রাসী জাঁকজমকপূর্ণ আগমনে ভিতরের সবকটা আজন্মের বন্ধ দরজা শেষমেষ আবার খুলে যাবে ক্যাঁচ ক্যাঁচ শব্দ তুলে। সীমাহীন সুখের বাক্স-ভরতি সুশ্রী-শুভকাঙ্ক্ষী বাতি হাতে না হোক ; অন্তত চরম সর্বনাশের বারোটা বাজা চলমান লাভা নিয়েই একজনকে পাঠান। তবুও পাঠান। আমার যে আর একা একা ভালো লাগে না। বলাবাহুল্য, অবশেষে তাঁর সেই হাইকোর্টে আমার সেই উত্তাল জোরালো-ঐতিহাসিক আর্জি একদিন ঠিকই মঞ্জুর হল। তবে সেটা প্রথম প্রার্থনার হাহাকারভরা উচ্চারণ শুনে না ; বরং দ্বিতীয় প্রার্থনার হুবহু বেপরোয়া ভয়ংকর অস্থিরতা দেখেই— তিনি রূপা নামের একটি মেয়েকে আমার কাছে পাঠালেন।

রূপা, এমন একটি বিখ্যাত-মায়াবি-মধুর নাম যা শোনামাত্রই আমাকে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ডিস্টাব হতে হয়। রূপা হল সেই মেয়েটা যার নামে আমার রক্তের ভিতর দ্রুত পুরুষ হয়ে ওঠার মতো সেইসব সুরভিত সুনামি আসে ; আর আমার বাহির-ভিতরজুড়ে সৃষ্টি হয় দারুণ দারুণ সানুনয় দুর্দশা। রূপা আমার সাতকাহন ভালোবাসার নাম। রূপা আমার পাসপোর্ট-ভিসা ছাড়াই প্রবাস থেকে সংগ্রহ করা এক আকাশ খুশির পসরা। রূপা হল দাঁতে দাঁত চেপে সকল ধরনের ধকল সইতে পারায় মহান মন্ত্র। সম্মোহনের অসমাপ্ত দুপুর ; চারদিক ছেয়ে, বহুদূর থেকে ছুটে আসা অসংখ্য খুশি ; অথৈ সোহাগব্যথা। রূপা, এমন একটি প্রস্ফূটিত লাজুক কমল যাকে হৃদয়ের ভিতরে অনেক দূর অব্দি বহুযত্ন করে রেখে তালা ঝুলিয়ে চাবিটিকে ফেলে দিই, বহুদূরের কোনো অজানা গ্রহে। রূপা এমন একটি হাইড্রোজের কবিরাজি নাম যার জন্য কতরকমভাবে বাঁচব ; আর বাঁচতে না পারলে সই, শুধু তার জন্যই খরস্রোতে খুব-খারাপভাবে মরব। সেই রূপার মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে থাকা রেশমি সুবাসই আমাকে সর্বদা বিভোর করে রাখে। এই রূপাই আমার সারাটাজীবনের সবটুকু বানভাসি কামনা-বাসনা আর উপাসনা।

স্বাতী নক্ষত্রের দেশে আমার উপাসনা ৩৩৩৩৩৩৩৩ (পুরুষ কণ্ঠ)
*****
একবুক দূরে, নীল স্বাতী নক্ষত্রের দেশ।
আর সামনের দিকে পা বাড়ালেই
আবহমানকালের সেই হৃদয় মোচড়ানো মাথাব্যথা এবং মরীচিকা।
কলেজে আমার তখন কাকতাড়ুয়া তৃতীয়বর্ষ ;
উপাসনা রায় আরো দু’বছরের পিছনের ঝোপের বিন্দুতে দাঁড়িয়ে
দু’চোখে দ্বীপ রেখে সাজানো লতা-পাতায় চিত্রার্পিতা হতে চায়।

এরপর থেকেই ক্রমশ দ্রুত মূর্তিমতী হয় ; নিঃসঙ্গতার নদী।
সম্ভব হয় ; নক্ষত্র জয়।
যখন— হঠাৎ একদিন অকল্পনীয় সত্যি হয়ে স্বাক্ষর হয় :
‘তার কস্টলি-আকাশে আমার আস্কারা পাওয়া উড়াল নেমন্ত্রণ’।

তখন, সে শরীর উপুড় করা একটি পাতলা-নীল বর্ণচোরা খাতা।
তখন, আমি খুব সহজেই—
সেই খাতার পাতার উপর ভিনদেশী রক্তে-ভাবুক নৌকার মতো
অনভিজ্ঞতার কাঁটা-কম্পাস নিঙড়ে নিজেকে ভাসাই।

সেই জলকন্যা তখন :
ঝর্ণামাপিক বৃষ্টিসমাচার হয়ে আবারও এতটাই বেপরোয়া কস্তূরীমৃগ ;
তার উপদ্রুত অঞ্চলে পা না রেখেই আমি হই ইত্যাকার উত্তরীয়।
যদিও লাইভ-কাস্ট ছায়াময় ঘরে সে সুগন্ধের মতো বর্ধিত অস্থির।
বাতাসের বংশীঠোঁটে শুকনো পাতার মতো বারবার অবারিত উড়ে যায়।
তবুও একদা—
হঠাৎ বৃষ্টিতে হারিয়ে যায় সবকটি সবুজ-সোনালি উপত্যকা।

তারপর সময় সময়ের মণ্ডপে এসে ; ঘোর পিশাচী হয়।
আজ পুরোপুরি মুখ ফিরিয়ে, কোনাকুনি হাঁটে উপাসনা সান্যাল।

আমি আজো তেমনই ভেসে থাকি ;
হলুদ নির্জন পাতামোড়া প্রচ্ছদের ভিতর
ভাঙা, চিড়-খাওয়া শব্দের না হয়ে ওঠা কিছু মৃত-পঙ্‌তিমালায়।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে || সহেলিয়া ও সোনারুর কণ্ঠে নতুন ভার্সন

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ০২ রা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:৩০

আমার দিনগুলি আর ফিরবে নারে
যারে হারাইয়াছি মায়ের কোলে
আর কি ফিরা পাবো তারে

মন যে আমার কান্দে সদাই
ফিরা যাইতে সোনার শৈশবে
হায়রে কোথায় আমার ঘুড্ডি নাটাই
খেলার সাথি কই সবে

কে যে আমায় নিত্যি ডাকে
ঘুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন ব্লগার

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:০৯

যখন একজন ব্লগার
টরন্টো সময়ঃ সন্ধ্যা ৭ঃ০৩ ২রা অক্টোবর ২০২৬
বাংলাদেশ সময়ঃ ভোর ৫ঃ০৩ ৩রা অক্টোবর, ২০২৬

...বাকিটুকু পড়ুন

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫

৩৬ জুলাইয়ের বিপ্লবের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তনটা বোধহয় সরকারে নয়- আমাদের আচরণে!

আমাদের মধ্যে বৃহত্তর একটা অংশের বদ্ধমূল বিশ্বাস- আইন মানতে হবে না, নিয়ম মানা বোকামি, সরকারের সবকিছুই মানুষের মৌলিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইমাম মাহদী আসার আগে নেতৃত্ব দাবী করা সকল দলই গোমরাহের পথে আছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৭

সেক্যুলার দলকে সমর্থন ততো দিন পর্যন্ত দিয়ে যেতে হবে, যতো দিন ইসলামী দলগুলো 'যোগ্য' না হয়ে উঠছে।
বাংলাদেশের কোন ইসলামী দলই দেশ চালাতে সক্ষম নন।

ইসলামে বলা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেগা মিয়া

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০



সকাল ৭ টা। আশ্বির্নের মাঝামাঝি।
হাজী শারাফত আলীর ছেলে মন খারাপ করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন। রাতে তার ভালো ঘুম হয়নি। তার ভাই বোনদের কথা মনে পড়লেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×