somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের লক্ষ্য-১

২৫ শে মে, ২০০৯ রাত ১২:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকের জীবনে অনেক আশা থাকে। অনেক কিছু হতে চায়। কিন্তু পারে না। বাস্তবতার নির্মম কষাঘাতে তাকে স্বপ্নের আকাশ থেকে নেমে আসতে হয় পৃথিবীর মাটিতে। অনেক কিছু হবার স্বপ্ন দেখে বোনা জাল ছিড়ে যায় শুকনো মাটির ছোড়া ঢিলে। আমিও স্বপ্ন দেখতাম কিছু হবার। ছোটবেলা ঘুরে বেড়াতাম ধানক্ষেতের আল দিয়ে, পাশের রাইছ মিলে খেলতাম রাইছ মিলের শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের সাথে, বিসিকের রাস্তার পাশ থেকে পছন্দসই পাথর কুড়াতাম নির্মীমান কোন ফ্যাক্টরীর স্তুপকৃত পাথরের স্তুপ থেকে। কিন্ডার গার্ডেনে পড়তাম। সারাদিন ঘুরে সন্ধাবেলায় অন্ধকারে বাসায় ফিরে বাবার হাতে মার খেতাম বা মার হাতে ঝাড়ুর বাড়ী খেতাম। কখনো চলে যেতাম বিলের পাশের ঝোপ জংগলে। পকেট থেকে পাথরের টুকরা বের করে ছুড়ে মারতাম অচেনা কোন ফলের দিকে। ফল কুড়াতাম।নাম না জানা জংলী ফুল সংগ্রহ করতাম। সেগুলো বাসায় নিয়ে আসতাম। আমি বড় হয়েছি একটা শিল্প এলাকায়। আমাদের বাসাটাকে বাসা না বলে ফ্যাক্টরী বলাই ভাল। কারন সেটা আসলেই একটা ফ্যাক্টরী ছিল। তার ভিতর দুটি রুমে আমরা থাকতাম। রাতদিন কাজ চলত। বাবা মা দুজনেই উদয়াস্ত পরিশ্রম করতেন। আমার কাজ ছিল স্কুলে যাওয়া আর স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে এসে ঘরে কিছু থাকলে খেয়ে বের হয়ে যাওয়া আর না থাকলেও কোন সমস্যা নেই। পড়াশুনার ধার দিয়েও যেতাম না। কোনমতে ক্লাসে পড়া দিতাম। ফার্ষ্ট জীবনেও হই নাই। কোনমতে ২য়, ৩য়, ৪র্থ এইসব হতাম। রেজাল্ট এর দিন আরেক দফা মার খেতাম। প্রায়ই বেঞ্চে কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। আমার এসব কোন গায়ে লাগত না। একবার ইংরেজী ক্লাসে লিলি আপার কাছে মার খেলাম। থ্রী তে পড়ি। প্রচন্ড মার খেলাম। বাসায় এসে জামা পরিবর্তনের সময় আমার খালা কিভাবে যেন দেখে ফেলল। আমাকে নেংটা করে সারা শরীরে বেতের দাগ গুনলো। প্রায় ৫০ টা দাগ। মা বাহিরে ছিল। বাসায় এসে আমার অবস্থা দেখে রাতের বেলা স্কুলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরের বাসায় নিয়ে গেল বিচার দিতে। উনাকে আমরা ডাকতাম এম ডি আপা। শুধু আমি না আরো অনেক ছাত্র-ছাত্রী আমার মত এরকম মার খেত লিলি ম্যাডামের হাতে। সবাই মারের দাগ লুকিয়ে চলত। তা পরদিন এম ডি আপা লিলি ম্যাডামকে বলল এভাবে মারবেন না। বরং কানে ধরে উঠবস করাবেন। তারপর থেকে লিলি আপা কানে ধরে ঊঠবস করাতেন। আমি ক্লাস সিক্সেও কানে ধরে উঠবস করেছি। আমার রেকর্ড ৫০০ বার। এভাবে মার খেতে খেতে আমার আমার ছোটবেলায় জীবনে লক্ষ ছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বড় হওয়া। কারন বড় হলে সন্ধাবেলায় বাসায় ফিরলেও কেঊ কিছু বলবে না। ছেলে ধরার ভয় নেই। সেই সময় ছেলেধরার খুব প্রকোপ ছিল। মোটামুটি একটা স্বাধীন জীবনের নিশ্চয়তা দেয় বড় হওয়াটা।

চলবে............
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০১২ রাত ১২:৩০
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×