somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের প্রথম চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র শিল্পের পথপ্রদর্শক আব্দুল জাব্বার খান

১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’ এর পরিচালক আব্দুল জব্বার খান ১৯৯৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় মৃতুবরণ করেন। বাংলা চলচ্চিত্রের এ পথপ্রদর্শক একাধারে অভিনেতা ও চিত্রনাট্যকারও ছিলেন।

আব্দুল জব্বার খান ১৯১৬ সালে মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার উত্তর মসদগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। হাজী মোহাম্মদ জমশের খানের আট সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। জমশের খান আসামের ধুবড়ীতে পাটের ব্যবসা করতেন। জব্বার খান শৈশবে সেখানকার স্কুলে ভর্তি হন। পর আহসানুল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল থেকে ১৯৪১ সালে ডিপ্লোমা পাস করে চাকরিতে যোগ দেন।
তিনি খুব কম বয়সে মঞ্চনাটকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

নবম-দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে তিনি নাটকের মূল চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। বিখ্যাত অভিনেতা ও পরিচালক প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘সিন্ধু বিজয়’ নাটকেও তিনি অভিনয় করেন। প্রমথেশ বড়ুয়ার সঙ্গে পরিচয় সূত্রে তিনি কলকাতায় তার বাসায় থেকে নাটক দেখতেন। প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘মুক্তি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে করতে পারেননি। পরে তিনি প্রমথেশ বড়ুয়ার ‘শাপ মুক্তি’ চলচ্চিত্রের জন্য নির্বাচিত হলেও বাবার অনুমতি না পাওয়ায় করা হয়নি। তবে সে সময় তিনি নিয়মিত মঞ্চনাটক করছিলেন। গৌহাটিতে পরিচালনা করেন ‘টিপু সুলতান’।

১৯৪৯ সালে ঢাকায় এসে সংগঠিত করেন ‘কমলাপুর ড্রামাটিক এসোসিয়েশন’। এ সংগঠনের উদ্যোগে তিনি ‘টিপু সুলতান’ ও ‘আলীবর্দী খান’ নাটক মঞ্চায়ন করেন। পরে তিনি ‘ঈশা খাঁ’ (১৯৫০), ‘প্রতিজ্ঞা’ (১৯৫১), ‘ডাকাত’ (১৯৫৩), ‘জগোদেশ’ (১৯৫৯) রচনা করেন।

দেশ বিভাগ পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের স্থানীয় সিনেমা হলগুলোতে কলকাতা ও লাহোরের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হতো। পশ্চিম পাকিস্তানের চলচ্চিত্র প্রযোজক এফ. দোসানি পূর্ব পাকিস্তানে চলচ্চিত্র প্রযোজনার ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য করলে জব্বার খান চলচ্চিত্রটি নির্মাণে উদ্যোগ নেন। ১৯৫৩ সালে আব্দুল জব্বার খান ‘মুখ ও মুখোশ’ (তার রচিত ডাকাত নাটক অবলম্বনে, পরবর্তীতে উপন্যাস) চলচ্চিত্রটির কাজ শুরু করেন। ১৯৫৪ সালের ৬ আগস্ট চলচ্চিত্রটি মহরত করেন হোটেল শাহবাগে।

পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর ইস্কান্দার মির্জা মহরতের উদ্বোধন করেন। এতে জব্বার খান মূল চরিত্রে অভিনয় করেন। তার ছেলেবেলার চরিত্রে অভিনয় করেন তারই ছেলে মাস্টার জুলু। স্থানীয়ভাবে কোনও ফিল্ম প্রোডাকশন স্টুডিও না থাকায় ছবির নেগেটিভ ডেভেলপের জন্য লাহোরে পাঠানো হয়। লাহোরের শাহনূর স্টুডিওতে পরিস্ফূটন কাজ সম্পন্ন হয়। ১৯৫৬ সালে ছবির কাজ শেষ হয়। কিন্তু তিনি ছবিটি নিয়ে প্রথমে ঢাকায় ফেরার অনুমতি পাননি। ফলে প্রথম প্রদর্শনী হয় লাহোরে। ঢাকায় ফিরে আসার পর ছবিটি প্রদর্শনীর বিষয়ে কোনও প্রেক্ষাগৃহের মালিকের কাছ থেকে আশানুরূপ সাড়াও পাননি। তবে এ অবস্থা কাটাতে বেশি সময় লাগেনি। অল্পদিন পরেই ‘মুখ ও মুখোশ’ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম এবং খুলনায় একযোগে প্রদর্শিত হয়। ছবিটির প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয় রূপমহল প্রেক্ষাগৃহে। প্রথম দফায় মুক্তির পর চলচ্চিত্রটি ৪৮,০০০ রুপি আয় করে।

এরপর পরিচালনা করেন- ‘জোয়ার এলো’ (১৯৬২), উর্দূতে ‘নাচ ঘর’ (১৯৬৩), ‘বনসারি’ (১৯৬৮), ‘কাচঁ কাটা হীরা’ (১৯৭০), ‘খেলারাম’ (১৯৭৩) প্রভৃতি চলচ্চিত্র।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আব্দুল জব্বার খান মুজিবনগর সরকারের চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও পরিবেশনার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জুরি বোর্ড, অনুদান কমিটি, সেন্সর বোর্ড, ফিল্ম ইনস্টিটিউট ও আর্কাইভে সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। ষাট দশকের প্রথম ভাগে গঠিত পাকিস্তান পরিচালক সমিতির অন্যতম সংগঠক তিনি।

তিনি ‘সমাজপতি ও মাটির ঘর’ নাটকে অভিনয় করে স্বর্ণপদক পান। বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ও চলচ্চিত্র শিল্পের পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি তেমন কোনও স্বীকৃতি পাননি। বিএফডিসিতে তার নামে একটি পাঠাগার রয়েছে।—সংগ্রহীত
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৯:৪৪
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×