somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সর্বপ্রথম ইসলাম ধর্ম প্রচারক বাবা আদম ও প্রথম মসজিদ

১৪ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বাবা আদম মসজিদ। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার দরগাবাড়ি গ্রামে এর অবস্থান। বাংলাদেশের প্রথম ইসলাম প্রচারক বাবা আদম এই মসজিদটি তৈরি করেন হিজরী ৮৮৮ অনুযায়ী ১৪৮৩ সালে। ৬ গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদটির নির্মাণশৈলী মনোমুগ্ধকর। ভবনটির দৈর্ঘ্য ৪৩ ফুট, প্রস্থ ৩৬ ফুট। দেয়ালগুলো প্রায় ৪ ফুট চওড়া। ভিতের উপরের অংশ গাঁথা হয়েছে সুরকি ও পাতলা ইট দিয়ে। স্থাপত্য রীতি অনুযায়ী ইমারতটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। সামনে খিলান আকৃতির একটি প্রবেশপথ রয়েছে। আর এর দু’পাশে রয়েছে সমান আকারের দু’টি জানালা। প্রবেশপথের উপরে ফারসী অক্ষরে খোদাই করে কালো পাথরের ফলক লাগানো হয়েছে। মূল দেয়াল থেকে সামনের দিকে খানিকটা এগিয়ে এসে চার কোণায় ৪টি সত্মম্ভ্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো ষড়ভুজবিশিষ্ট। খিলান দরজা সত্মম্ভের পাদদেশে, মাঝে এবং পুরো ইমারতের ছাদের কার্নিশের তলা দিয়ে পাতলা ইট কেটে মুসলিম স্থাপত্যকলার ঐতিহ্যবাহী নঙ্া ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া প্রবেশপথের দু’পাশে সামনের দেয়ালে ইটের ফলকের সুদৃশ্য কারম্নকাজ করা। এ রকম কারম্নকাজ রয়েছে উত্তর-দক্ষিণ দিকের দেয়ালেও।
শুধু সামনের দিকে দরজা-জানালা ছাড়া দু’পাশে জানালা না থাকায় মসজিদটির ভেতরের পরিবেশ রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনেও বেশ আবছাময়। সামনের দরজা-জানালাগুলোতে চওড়া কাঠের ফ্রেমের পালস্না লাগানো। সব মিলিয়ে সুরক্ষিত দুর্গের মতো মনে হয় স্থাপনাটিকে। তার কারণ সম্ভবত এই, ইবাদতে মগ্ন থাকার সময় মুসলিস্নরা যাতে কারও হামলা বা আক্রমণের কবলে না পড়েন সে জন্যই এমন সুরম্য দুর্গের মতো করে নির্মাণ করা হয়েছে ইমারতটি।
বাবা আদম, যাঁর নামানুসারে এই মসজিদটি তিনি সুদূর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৫৬৯ হিজরী অনুযায়ী ১১৭৩ সালে তৎকালীন বিক্রমপুর পরগনার রামপালে এসেছিলেন ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য। রামপালের দরগাবাড়ি এলাকায় তিনি অবস্থান করে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরম্ন করেন। তখন এ জনপদে সেন রাজাদের রাজত্বকাল চলছিল।
বিক্রমপুরের মহাপরাক্রমশালী রাজা বলস্নাল সেনের নেতৃত্বে হিন্দু সমাজে ইসলাম ধর্ম প্রচারকে কেন্দ্র করে সুসংহত বাবা আদমের সঙ্গে বলস্নাল সেনের যুদ্ধ বাধে। ওই ধর্মযুদ্ধে বাবা আদম শহীদ হন। এ যুদ্ধের বিষয়ে এলাকার লোকমুখে এখনও অনেক কিংবদনত্মি ছড়িয়ে আছে। একটি কাহিনী এ রকম_ বলস্নাল সেন যুদ্ধে যাওয়ার সময় তার পোষা কবুতর সঙ্গে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন এবং বাড়ির স্ত্রী-কন্যাদের বলে আসেন, যদি কবুতর ফেরত চলে আসে তাহলে বুঝতে হবে যুদ্ধে তাঁর পরাজয় ঘটেছে এবং মহিলারা সবাই যেন তখন আগুনে আত্মাহুতি দেয়। কিন্তু ঘটনা ঘটল অন্য রকম। যুদ্ধে রাজার জয় হলো। ফিরতি পথে একটি পুকুরে রাজা যখন শরীরে লেগে থাকা রক্ত, ধুলা, ময়লা ধুয়ে নিচ্ছিলেন তখন হঠাৎ করে কবুতরটি উড়ে যায় রাজ প্রাসাদের দিকে। রাজা সমূহ সর্বনাশ ঠেকাতে উর্ধশ্বাসে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েও শেষ রক্ষা করতে পারেননি তাঁর পরিবারকে। তাঁর পেঁৗছানোর আগেই কবুতরটি চলে আসায় অনত্মঃপুরবাসিনীরা যুদ্ধে রাজার পরাজয় হয়েছে ভেবে আত্মাহুতি দেন। তবে এটি নিছকই জনশ্রম্নতি। বাবা আদমের শহীদের তিন শতাব্দী পর ১৪৮৩ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। সুলতান জালালউদ্দিন ফতেহ শাহের শাসনামলে মালিক কাফুর মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের ভেতরের মেহেরাবটির দু’পাশে আরও দুু’টি দেয়ালে খোদাই করা র্যাকের মতো রয়েছে। ইট বিছানো মেঝে। মোট ছ’টি কাতারের ব্যবস্থা। মাঝখানে কালো পাথরের বিশাল আকৃতির দু’টি সত্মম্ভ উঠে গেছে ছাদ পর্যনত্ম। মূলত এই পাথরের সত্মম্ভ দু’টিই ছাদের গম্বুজগুলোর অধিকাংশ ভার বহন করে আসছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। মসজিদটিতে এখনও নিয়মিত নামাজের জামাত হয়ে থাকে। ভেতরে স্থানের স্বল্পতার কারণে সামনের প্রাঙ্গণে কংক্রিট ঢালাই করে আরও সাতটি কাতারের জন্য প্রয়োজনীয় স্থান করা হয়েছে এবং প্রাঙ্গণসহ মসজিদ ভবনটি নিচু লোহার গ্রিল দিয়ে ঘেরা।
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ পুরাকীর্তি হিসেবে বাবা আদমের মসজিদটিকে অধিভুক্ত করেছে, তবে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এর আর কোন সংস্কার কাজ হয়নি বলে উলেস্নখ করেন প্রবীণ এলাকাবাসী শিক্ষক গিয়াসউদ্দিন ভূইয়া। মিরকাদিম পৌর মেয়র মোহাম্মদ হোসেন রেনু জানান, তত্ত্বাবধায়কের সময় উদ্বোধনের আগমুহূর্তে মুক্তারপুর সেতুটির নামকরণ এই বাবা আদমের নামেই করা হয়। সরকারীভাবে তথ্য বিবরণীও প্রকাশিত হয় বিভিন্ন পত্রিকায়। কিন্তু পরে আবার তা পরিবর্তন করে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-৬ নামে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম ইসলাম প্রচারক বাবা আদমের স্মারক প্রাচীন মসজিদটির নির্মাণ কৌশল দেখার মতো। কিন্তু এ ব্যাপারে কৌতূহলী করতে সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ জরম্নরী। প্রত্মতত্ত্ব বিভাগ সাইনবোর্ড লাগিইে খালাস। কোন রকমের ভূমিকা নেই এই বিভাগের।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:২৪
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৫

ট্রাম্পের উপর ওভার ট্রাম্প!

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি সমীকরণ তৈরি হয়েছ- সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে একটি সদস্য রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×