
আড়িয়ল বিলে বিমান বন্দর চাই এক দাবীতে সোচ্চার মুন্সীগঞ্জ । পদ্মাসেতু হচ্ছে , অলেম্পিক ভিলেজ হচ্ছে , বিশ্বের সবচেয় ব্যয় বহুল সড়ক হয়ে গেছে , অত্যাধুনিক প্রানী জাদু ঘর হচ্ছে , সিঙ্গাপুরের আদলে পদ্মার হচ্ছে পার । এত কিছু দেখে লোভ সামলাতে পাড়ছেনা বিক্রমপুরের মানুষ । এখন তার বিমান বন্দর ও চায় । মুন্সীগঞ্জের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা জেকে বসেছে একের পর এক সম্মেলন করছে ,জনসাধারনও এখন দলমত নির্বিশেষে বিমানবন্দর চায় । আপনি দেখেননি কিন্তু আমরা দেখেছি আড়িয়ল বিল । দেখেছি খেটে খাওয়া মানুষের স্বপ্ন , দেখেছি বিশাল ধান খেতের ফাকে ফাকে লুকানো সোনালী ধানের শীষ , জায়গায় জায়গায় পুকুর আর সেই পুকুরের টাটকা মাছ ,দেখেছি বিশাল বিশাল মিষ্টি কুমড়া ৭০-৮০ কেজি ওজনের । আড়িয়ল বিলের এই বিশাল আকৃতির মিষ্টি কুমড়া ,ধান ,শস্য আপনাদের নজড় কাড়েনি কারন বিমান বন্দর আপনাদের চোখে ধুলো দিয়ে রেখেছে । মুন্সীগঞ্জের প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের আধার এই নিজ চোখে না দেখলে বুঝবেন না । একটা গানে কথা মনে পড়ল কবির সুমনের কতটা পথ, পেড়ুলে পরে মানুষ চেনা যায় , তেমনি কতটা পথ পেড়ুলে দুরে আড়িয়ল বিল দেখা যায়, প্রশ্নটাতো সহজ উত্তর ওতো জানা । বাংলাদেশের মাছ ও শাক সবজির এক বিশাল সমাহার এই আড়িয়ল বিল নিজ চোখে না দেখলে বুঝার উপায় নেই ।
আড়িয়ল বিলের এই অপার সৌন্দর্যে হাড়িয়ে যাবেন আপনিও । আপনি হয়ত জানেন না ""বাংলাদেশের প্রায় ২০ ভাগ মাছ ও শাক সবজির যোগান আসে এই আড়িয়ল বিল থেকে'' শিরোনামে ভিডিও রিপোর্ট করতে রওনা হল মুন্সীগঞ্জ টাইমস এর এডিটর ইন চিফ তানবীন সোবহান , সাব এডিটর সাইফুল আলম , প্রধান বার্তা সম্পাদক বর্ষন মোহাম্মদ , স্টাফ রিপোর্টার শুভ রায় , স্টাফ রিপোর্টার আরাফাত হোসেন ও শ্রীনগর স্টাফ রিপোর্টার মীর রাতুল । মুন্সীগঞ্জ শহর হতে মটর সাইকেলে টঙ্গীবাড়ী, শ্রীনগর পাড়ী দিয়ে লৌহজং উপজেলায় পড়েছে আড়িয়ল বিল, শহর থেকে মাঝ আড়িয়ল বিলের দুরত্ত্ব ১০০ কিমি প্রায় । বর্ষাকালে কানায় কানা আড়িয়ম নদীর রুপ নেয় । আড়িয়ল বিলের বিস্তির্ন এলাকা শুধু ফসলে ভড়া , জমির মাঝে মাঝে ছোট ছোট ডোবা ,ডোবায় দেশীয় মাছ ও নদীর মাছ, আছে সমুদ্রের মাছও । পেড়িয়ে যাচ্ছে সময় ধুধু সবুজে শ্যামলের মহোরে হাড়িয়ে যাচ্ছি আমরাও । শুনছি কৃষকের কথা , শুনছি গ্রামবাসীর কথা । কত রক্ত ঝড়েছে এই বিমান বন্দরের জন্য ,সবুজে শ্যামলে ঘেড়া এই উর্বর ভুমিকে বাচাতে । চাকচিক্যের আড়ালে সত্য লুকিয়ে যাচ্ছে , কৃষকের মনে আজ নতুন ভাবনা ঢুকেছে , পদ্মা সেতুতে যার জমি ছিলনা তারা জমি পেয়েছে , যার ছিলো তারা দ্বিগুন পেয়েছে । আমাদের আর গতর খেটে লাভকি । সকল কিছু বিষর্যন দিয়ে হলেও আমরা এখন বিমান্দ বন্দর চাই । তবে তাই হোক আল্লাহর মেহের বানী বাংলার মানুষ যা চেয়েছে তাই পেয়েছে বিমান বন্দরের আশাটাও আল্লাহ যাতে পুরন করে ।
ধরা যাক আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হলো , তারপর ৫০ বছর কেটে গেল কাচের তৈরি দেয়ালে অলেম্পিক ভিলেজ ,সিঙ্গাপুরের আদলে হলো পদ্মার পাড়, এপার্টমেট , রিয়েলস্টেটের রমরমা ব্যবসা ,পর্যটন স্পট , হলো কল কারখানা । সেই সময় বজ্রপাত হবে দেশের জাতিয় দুর্যোগ , কাচের তৈরি বড় বড় শিল্প কারখানা মুন্সীগঞ্জের আবহাওয়া পরিবর্তনে ব্যপক প্রভাব ফেলবে গ্রীন হাউজ প্রতিক্রিয়া দ্বিগুন, তিন গুন , চার গুন বেড়ে যাবে , বাতাসে তেজষ্ক্রি পদার্থের মাত্রা বেড়ে দেশের তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস হবে । গাছ মড়ে যাবে , পানি শুকিয়ে যাবে , বাঙ্গালী তখন ভাতে মরবে ,পানিতে মরবে , খ্যাদ্য হবেনা ,ফসল হবেনা । বেড়ে যাবে সসের দাম যেই কুমড়া দিয়ে সস বানানো হয় তার যোগান বন্ধ । গ্লোরিয়া জিন্স বসে আপনি সসের জন্য আলাদা ভেট ট্যাক্স দেবেন । পরিবেশের পাশাপাশি ফসলের দাম বেড়ে যাবে । ডালের দামে চাল খেতে হবে । তখন দেখা ছাড়া কিছু করার থাকবেনা । এটি আড়দে মিষ্টি কুমড়ার উপর উপর বসে ভাবছিলাম ,হয়ত কিছুই এমন থাকবেনা আর শুধু এই ব্লগে একটি মিষ্টি কুমড়া আত্নজীবনী হয়ে থাকবে ।
প্রতিবেদনটি দেখবেন আশা করিঃ https://www.youtube.com/watch?v=ZqUDCRDxC6k
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে মার্চ, ২০১৭ রাত ১১:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



