somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেলের ভাত ও তরকারি - পার্ট ওয়ান :-*

২১ শে জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে এই ব্লগ। জেল, হাজত, লালদালান এই শব্দ গুলো আমরা শুনেছি। কিন্তু এই জেল, হাজত বা লাল দালান সম্পর্কে কি আমরা কিছু জানি ? বেশিরভাগেরই কোন ধারনাই নাই। আজ আপনাদের আমি জেলের গল্প শোনাব।
ভাবছি একদম প্রথম থেকে শুরু করব। First of all আসে মামলায় বিষয়টি। যে কোন ব্যাক্তি, প্রতিষ্ঠান অথবা পুলিশ অন্য কোন কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। পুলিশি মামলার ঘটনা বলব আজ।



পুলিশ , ডিবি , এসবি, র‍্যাব অথবা কোন আইন শৃংখলা বাহিনি একজন আসামীকে গ্রেফতার করার পরে কোন এক বা একাধিক মামলা দিয়ে কোর্টে চালান করতে পারে। এখানে একটি বিষয় বলে রাখি, আপনি যে কোন অপরাধই করেন না কেন, পুলিশের অন্যান্য জটিলতা না থাকলে ঘুষ প্রয়োগ করে ছাড়া পেয়ে জেতে পারবেন। B-) ঘুষের পরিমাণ অপরাধের মাত্রার উপর নির্ভর করবে। ;) গ্রেফতারের ক্ষেত্রে আরেকটি বিষয় পরিলক্ষিত হয় তা হল আজকাল নিরপরাধ মানুষকেও গ্রেফতার করে পয়সার ধান্দায় মামলা দিয়ে রিমান্ড চাওয়া হয়। :(( পুলিশের এই রিমান্ড আসলে টাকা আয়ের অন্যতম উৎস। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা দিয়ে রিমান্ড চেয়ে পরিবারের কাছে ফোন করে ভয় দেখানো হয়। এরপর পরিবার থেকে যদি পুলিশকে খুশি করা যায় তবে রিমান্ডে জামাই আদর করা হয়। আর টাকা পয়সা না পেলে নির্যাতন করা হয়। এই নির্যাতনের মাত্রা থানা ভিত্তিক আলাদা আলাদা রকমের হয়।

যে দিন গ্রেফতার করা হয় সেদিন আসামীকে থানা হাজতে থাকতে হয় রাতে। এরপর পুলিশ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তে আসতে পারলে পরের দিন এক বা একাধিক মামলা দিয়ে কোর্টে প্রেরন করবে। কোর্ট আপনার রিমান্ড মঞ্জুর বা না মঞ্জুর করতে পারে। আর জামিন না মঞ্জুর করা হলে আপনাকে কোর্ট থেকে প্রিজন ভ্যানে জেল হাজতে পাঠানো হবে।

কোর্ট থেকে জেল হাজতের গেটে পৌছতে শেষ বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে যায়। এরপর জেল গেটে নিয়ে প্রথমে আসামীর নাম এবং অন্যান্য তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। টাকা পয়সা থাকলে তা personal cash বা পিসি তে জমা দিয়ে দিতে হয়। এই ক্যাশ আসামী পরবর্তীতে ব্যবহার করতে পারবেন।
নাম নিবন্ধন শেষে চেকিং এর পালা। সারা শরীর এবং ব্যাগের জিনিস পত্র খুব ভাল ভাবে চেক করা হয়। যে সকল জিনিসপত্র জেলে অবৈধ সে গুলো ফেলে দেয়া হয়। যেমন রান্না করা খাবার, কোমরের বেল্ট, অলংকার, অপ্রয়োজনীয় কাগজ , পানি ইত্যাদি ইত্যাদি।

আসামীদের সংখ্যা যাচাই করে জেলের ভেতরে পাঠানোর পালা। জেল গেটের দ্বিতীয় গেট দিয়ে এক এক করে গুনে গুনে ভিতরে ঢোকান হয়। এরপর পাঁচজন পাঁচজন করে ফাইলে বসতে হয়। ফাইল হচ্ছে জেলের ভিতর সবচে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যাইহোক জেলের পরিভাষা গুলো পরে বলব। ফাইলে পুনরায় আসামীদের গুনে ভয়ানক আমদানিতে নিয়ে যাওয়া হয়। আমদানিতে আসামীকে একরাত থাকতে হয়। আর এই রাতরাই জেলের ভিতর মনে রাখার একটি বিষয়। নতুন সবার জন্যই জেলের প্রথম দিন এটি সে হিসেবে একটি ভয় কাজ করে। আর এই সুযোগ নিয়েই শুরু হয় জেলের দুর্নীতি। আমদানিতে নিয়ে শুধু শুধু আবার আপনাকে চেক করা হবে। মুলত এই চেকিংটা করা হয় নতুন আসামীদের নতুনত্বের সুযোগ নিয়ে কিছু খাবার বা জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়ার জন্য। দ্বিতীয়বার চেকিং শেষে রাতের খাবার দেয়া হবে। রাতের খাবার হচ্ছে খিচুরি খিচুরি খিচুরি। এক প্লেটে দুজন দুজন করে খাবার খেতে হবে, হাত ধোয়ার জন্য পানি দেয়া হবে। খাবারের পানিও দেয়া হবে। খাওয়া শেষ হলে শুরু হবে মূর্খ রাইটারদের প্যাচাল , যে প্যাচালে নতুন আসামীদের সহজেই কাবু করে টাকা আয়ের পথ উম্মোচন করা হয়।

রাইটার বা লেখক সকলকে গাদাগাদি করে একদিকে বসিয়ে তার বয়ান শুরু করেন। প্রথমেই বলেন জেলে যে সকল জিনিসপত্র অবৈধ সে গুলোর ব্যাপারে। এরপর সাধারন কিছু নিয়ম নীতির কথা বলে দেয়া হয় যাতে জেলের পরিবেশের ব্যাপারে ধারনা লাভ করা যায়। এখানেও রাইটার মহোদয় তার নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন। ইনিয়ে বিনিয়ে এমন ভাবে বলে যাতে আসামীরা ভয় পায়। জেলের ভেতরের বিরুপ পরিবেশের বর্ণনা দিয়ে এই খারাপ পরিবেশেও কিভাবে ভাল থাকা যায় তার পথ এবার বাতলে দেয়া হয়। টাকা!!!!

আসলে দুর্নীতিবাজ এই চক্রটির এটি একটি ব্যবসায়িক মার্কেটিং হচ্ছে এই বয়ান। এরপর একদিকে যারা টাকা দিয়ে ভাল থাকতে চান তাদের নাম লেখান হয় এবং অপরদিকে যারা টাকা দিতে পারবে না তাদের সাথে শুরু হয় খারাপ ব্যবহার। যারা নাম না লেখায় তাদেরকে শৈল্পিক উপায়ে কেচকি ফাইলে শোয়ান হয়। আর এতে সহায়তা করে চিফ রাইটারের শিস্যরা।

বাকিটা আসছে .।.।।
-- মাই ব্রো (তানভীর জিহাদ)
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০১৩ সকাল ৭:৫৭
৯টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তারেক রহমানের চীন সফর, অশ্বডিম্ব।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৭

বাংলাদেশী মিডিয়া সোসাল মিডিয়াতে তোলপার
তারেক রহমানের চীন সফরে ভারত উদ্বিগ্ন।
এখন তো দেখলাম অশ্বডিম্ব।
কোন অর্থায়ন চুক্তি নেই, নতুন কোন ঋন দিবে না
বহুল আলোচিত তিস্তা প্রকল্প নিয়ে কোন চুক্তি বা মামুলি সমঝোতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অপারেশন ইকারুস: জেনেভার ছায়া

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



বালি অপারেশন শেষ করে ঢাকায় পিবিআই সদর দপ্তরে যখন আরিয়ান, তানভীর ও বর্ষা ফিরে এলো, তখনো বাইরের আকাশ থমথমে। বালি থেকে উদ্ধার করা ৬০% ডেটায় একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুরাগের বুকে আমার ছোট ভাইদের লাশ ২০২৪-এর উপহার ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৩



২০২৪ আমাদের নতুন করে শত্রু মিত্র চিনতে শিখিয়েছে। আমি কোনো করুনা, সান্ত্বনা কিংবা বিচারের দাবি নিয়ে আজকের এই ক্ষুদ্র পোস্ট লিখতে চাই না।শুধু সময়ের স্বাক্ষী হিসেবে একটু আচর কেটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আম গেল ছালাও গেল

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌর বিদুৎ।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৮


আমি বিটিভি দেখতে ভালোবাসি। একদিন বিটিভিতে একটি জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন দেখেছিলাম। এটি কোনো বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন ছিল না। সেখানে তৎকালীন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী/মন্ত্রী সোলার বিদ্যুৎ সম্পর্কে সংক্ষেপে বলছিলেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×