
লেখার বিষয় প্রধানত দুইটা।
এক. চায়নার সামরিক উচ্চাকাংখা
দুই. তাতে বাংলাদেশের লাভ অথবা ক্ষতি

পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার সামরিক উচ্চাকাংখা সম্পর্কে জানতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে তাদের সামরিক বাহিনি সম্পর্কে। চায়না পৃথিবীর ইতিহাসে একটা আলাদা এবং স্বাধিন চেতা একটা জাতি ছিল সেই শুরু থেকেই। তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব এবং চিন্তা চেতনা ছিল। ছিল নিজেদের মতকরে সবকিছু গরে তোলার আকাঙ্খা।

চায়নার ইতিহাস অনেক লম্বা। দেশটি মুলত আধুনিক বিশ্বের নজরে আসে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরে। যখন মাও সেতং দেশটির হাল ধরেন এবং বিদ্রোহ শুরু করেন। তৎকালিন সময়ে মাও সেতং এর বিদ্রোহি সামরিক সংগঠনকে ডাকা হত পিপলস লিবারেশন আর্মি নামে। খুব কমপ্লিকেটেড একটা ইতিহাস নিয়ে এই সেনাবাহিনিটির উৎপত্তি। প্রাথমিক ভাবে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্দেশ্য ছিল চায়নার রাজনৈতিক ভাবে স্টাবলিশমেন্ট এবং একটা ওভার পপুলেটেড দেশের অর্থনৈতিকে স্টাবল করা।

বিষয়টাতে তাদের সাফল্য এতটাই চমৎকার ছিল যে তারা সামরিক দিক দিয়ে এগোতে শুরু করে। এরই হাত ধরে তারা ১৯৬৪ সালে প্রথম পারমানবিক বোমার সফল পরিক্ষা চালায় এবং একরকম জোর করেই জাতিসংঘের স্থায়ি পরিষদের নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করে নেয়।

পিপলস লিবারেশন আর্মির শাখাগুলোও একটু ডিফারেন্ট। তাদের সেনা, নৌ এবং বিমান শাখা ছারাও তাদের সেকেন্ড আর্টিলারি কোর নামক আলাদা একটা শাখা আছে। যেখানে এক লক্ষাধিক সদস্য আছে। এটি একটি মিসাইল এবং রকেট স্পেশাল বাহিনি। এই কোরটাই মুলত পারমানবিক অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রন করে। ধারনা করা হয় এদের কাছে এত বিপুল পরিমানে মিসাইল আছে যে তা দিয়ে আলাদা একটা যুদ্ধ করতে পারবে তারা। আর কোন ফোর্সের প্রয়োজন হবে না। তাদের এই ফোর্স ৬ টা আলাদা ব্রিগ্রেডে ভাগ করে পুরো দেশে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।

উচ্চকাংখা বলতে যেটা বুঝানো হয়েছে সেটা পুরোটাই স্ট্রটেজিক। চায়নার সামরিক বাহিনির এয়ার ফোর্স এবং নেভি ফোর্স পুরোটাই স্বনির্ভর। এয়ার ফোর্সের সামরিক ভিশন বলতে বর্তমানে তাদের নিজস্ব এয়ার সুপেয়রিয়রিটি ফাইটার, বম্বার, ক্যারিয়ার, ড্রোন, ফাইটার ড্রোন এবং অবশ্যই সুপাল কোয়ালিটি ফোরথ এবং ফিফথ জেনারেশন Chengdu J-20। যা অলরেডি প্রোডাকশনে চলে গেছে। এয়ার ফোর্সের এই স্বনির্ভরতা তাদের আর্সেনাল বা বিমানের সাথে বহন করা বোমাগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাবিলিটও আছে। মানে কোন কিছুই বাইরে থেকে তারা কিনে না।

চায়নার নেভির সামরিক ভিশনের মধ্যে আছে আরো পাচটি বিমান বাহি রনতরি নির্মান করা। অলরেডি তারা এটার কজা শুরু করে দিয়েছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট করেছে চায়নার একটা গোপন সামরিক স্থাপনাতে এই রনতরি গুলোর নির্মান কাজ চলছে পুরো দমে। মুলত ফিফথ জেনারেশনের বিমানগুলোকে বহন করার জন্যই এই রনতরি গুলো। প্রত্যেকটি রনতরির সাথে থাকবে একটি আলাদা ব্রিগ্রেট যেখানে ডেস্ট্রয়ার থাকবে এবং থাকবে অত্যান্ত হাই কমব্যাট ক্যাপাবিলিটির সাবমেরিন। এবং এই সব জাহাজই থাকবে প্রথমেই বর্ননা করা মিসাইল ফোর্সের আওতায়। মানে তাদের বিচরন থাকবে সব স্থানে। এই পুরো পরিকল্পনাকে চায়নার ব্লু ওয়াটার এমবিশান বলে। পুরো সাগরকে একাই নেতৃত্ব দেয়ার পরিকল্পনা। এর মধ্যে আবার তারা লাস্ট যে ডাবল সাইডেড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারের ডিজাইন দেখাইছে তাতে আমেরিকান সামিরক বিশ্লেষকরাও ব্যাপক চিন্তিত।

চায়নার আর্মি বা গ্রাউন্ড ফোর্সের মধ্যে আলাদা ট্যাংক ডিভিশন হচ্ছে আর একটা মারাত্মক ফোর্স। বাংলাদেশের ব্যাবহৃত ট্যাংকগুলো চায়নার নিজস্ব নির্মিত ট্যাংক। অত্যান্ত উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষমতার সম্পন্ন এই ট্যাংকগুলো আধুনিক বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। এছারাও সামরিক বাহিনির প্রত্যেকটি অস্ত্র তারা নিজেরাই তৈরি করছে নিজেদের প্রযুক্তিতে। আর তাদের মিসাইল ফোর্সের কথা তো শুরুতেই বলেছি।

তাই সামরিক দিক থেকে সামনের দিকে চায়না পৃথিবীর বুকে একটা অত্যান্ত পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভুৎ হতে যাচ্ছে। এতটাই ভয়ানক পরাশক্তি যে এই অঞ্চলে তাদের কাছে কৈফিয়ত বহির্ভত কোন কাজ হবেও না তারা হতে দেবেও না।

এর পরে আসি লেখার পরের ধাপে। প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশ এর সাথে চায়নার সামরিক বাহিনির কি সম্পর্ক??
এখানেই চমৎকার একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। এই দিকদিয়ে বাংলাদেশ ভারতের একেবারে পেটের মধ্যে একটা অঙ্গরাজ্যের মতন। কৌশলগত দিক দিয়ে ভারত-চায়না যতই গলায় গলায় ভাব দেখাক বাস্তবে বিষয়টা অনেক কমপ্লিকেটেড। সেই ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে চায়না ভারতের যে পরিমান যায়গা দখল করে নিয়েছে তার দুঃখ এখনও ভারত ভুলে নাই। যে কোন বিষয়ে এই দুইদেশের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। ভারত বর্তমানে এই অঞ্চলে চায়নাকে টক্কর দেয়ার জন্য উঠেপরে লাগতেছে। ভারত মহাসাগরে আমেরিকারে ডাইকা আনতেছে। এই পুরো অঞ্চল একক নিয়ন্ত্রনে চালানোর চেস্টা করতেছে। বিষয়টা আপনার আমার কেমন যেন লাগলেও চায়নার মোটেই পছন্দ হইতেছে না।

আর এখানেই বাংলাদেশের আগমন। চায়নার উদ্যেশ্য হচ্ছে ভারতকে একটা স্থানে আটকাইয়া ফেলা। তারা সেটা প্রথম করেছে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে রিনোভেশনের কাজ করে পুরো গোয়েদার বন্দরটাকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। ফলে সেখানে খুব সহজেই একটা নেভাল ইউনিট থাকতে পারবে। এর পরেই তারা শ্রিলংকার বন্দর নিয়ে নিয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে সেখানে একটা নেভাল ফ্লিট থাকতে পারবে। এখন যদি আপনারা আমার দেয়া ছবিটার দিকে খেয়াল করেন। খুব সহজেই দেখতে পারবেন তারা যদি কোন ক্রমে কক্সবাজারের দিকে একটা বেইজ করতে পারে। তাহলেই কেল্লা ফতে। যখন এই তিনটা সামরিক স্থাপনার থেকে চায়নার জাহাজ গুলো চলাচল করবে প্রায় প্রতিদিনই ভারতিয়দের জন্য একটা করে নাকে ক্ষতের মত হবে।

বিষয়টা খুব একটা কমপ্লিকেটেড না। এটার জন্য আপনাকে শুধু আপনার বন্দরটা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তাও একটা কন্ট্রাকের মাধ্যমে পুরো বন্ধরে তাদের ইনভেস্টমেন্ট এবং রক্ষনাবেক্ষন করতে দেয়ার সুযোগ দেয়া লাগবে। ফলে তারা পুরো এলাকাটিকে তাদের নৌবাহিনির জন্য একা বেইজ করার সিস্টেমে রিনোভেশন করে নেবে।

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে কি হতে পারে এটার আগের এবং পরের আফ্টার ম্যাথ। প্রথমত এটা করলে এই বন্দরের ভারতের জাহাজ গুলোর অবাধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের পুর্বের রাজ্যগুলোতে পন্য পরিবহনের সমস্যার কারনে উক্ত রাজ্যগুলোর অর্থনিতি বাংলাদেশের পন্য আমদানি নির্ভয় হয়ে পরবে। এর পরে আছে বাংলাদেশের বন্দরের পন্যখালাসে বর্তমানের দির্ঘসুত্রিতার অবসান হবে। ফলে খুবদ্রুত পন্যখালাস হলে দেলে অর্থনিতি আরো দ্রুত প্রসারিত হবে।

সামরিক দিকথেকে সুবিধা হচ্ছে আপনার পুরো উপকুলে একটা বিদেশি কাউয়া ঢুকার আগে পারমিশন নিয়া ঢুকবে। আগে জিজ্ঞেস করবে আসবো কিনা?? অনুমতি দিলে ঢুকবে না হলে বাইরে দিয়ে চলে যাবে। ভিতরকার রাজনিতি পুরোপুরি ভাবে ভারত বিরোধি শক্তির নিয়ন্ত্রনে চলে যাবে। কারন হচ্ছে রাস্ট্রক্ষমতা সাধারন সামরিক শক্তির উপরই ডিপেন্ড করে। যেটা হারে হারে টের পাচ্ছে বার্তমান বিএনপি-জামাত জোট। সামরিক বাহিনির প্রত্যেকটি অস্ত্র চায়না থেকে আসবে। বর্ডারে একটা গুলি চললে ১০ টা ফেরত দেয়ার মত গুলি আপনাকে চায়নাই দেবে। আর তখন বর্ডারে এমনিতেই গুলি করার আগে ভারতীয় সামরিক বাহিনি ১০ বার ভাবতে বাধ্য হবে। হতেই হবে। কেউই আপরাইজিং একটা সামরিক শক্তির সাথে সংঘর্ষের কথা ভাববে না। যেখানে স্বয়ং আমেরিকা যাদেরকে নিয়ে চিন্তিত সেখানে ভারত তো দৌরের উপরে থাকে। উত্তর কোরিয়ার মত দেশকে তারা একাই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ তো তাদের সামনে কিছুই না।

আমার লেখাটা হয়ত গুছিয়ে লেখা হয় নি। অনেক তথ্য মিসিং আছে। হয়ত অনেকে লেখাটা পরে হাসবেন। অনেকে হালকা রাগও করতে পারেন যারা বিষেশ করে ভারতকে নিজেদের হোমল্যান্ড মনে করেন। তবে পুরো লেখাটা একেবারে আমার ব্যাক্তিগত মতামত। ধন্যবাদ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





