somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চায়নার সামরিক উচ্চাকাঙ্খা এবং বাংলাদেশের রাজনিতি

০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লেখার বিষয় প্রধানত দুইটা।

এক. চায়নার সামরিক উচ্চাকাংখা

দুই. তাতে বাংলাদেশের লাভ অথবা ক্ষতি


পিপলস রিপাবলিক অফ চায়নার সামরিক উচ্চাকাংখা সম্পর্কে জানতে হলে আগে আপনাকে জানতে হবে তাদের সামরিক বাহিনি সম্পর্কে। চায়না পৃথিবীর ইতিহাসে একটা আলাদা এবং স্বাধিন চেতা একটা জাতি ছিল সেই শুরু থেকেই। তাদের নিজস্ব অস্তিত্ব এবং চিন্তা চেতনা ছিল। ছিল নিজেদের মতকরে সবকিছু গরে তোলার আকাঙ্খা।


চায়নার ইতিহাস অনেক লম্বা। দেশটি মুলত আধুনিক বিশ্বের নজরে আসে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পরে। যখন মাও সেতং দেশটির হাল ধরেন এবং বিদ্রোহ শুরু করেন। তৎকালিন সময়ে মাও সেতং এর বিদ্রোহি সামরিক সংগঠনকে ডাকা হত পিপলস লিবারেশন আর্মি নামে। খুব কমপ্লিকেটেড একটা ইতিহাস নিয়ে এই সেনাবাহিনিটির উৎপত্তি। প্রাথমিক ভাবে কমিউনিস্ট পার্টির উদ্দেশ্য ছিল চায়নার রাজনৈতিক ভাবে স্টাবলিশমেন্ট এবং একটা ওভার পপুলেটেড দেশের অর্থনৈতিকে স্টাবল করা।


বিষয়টাতে তাদের সাফল্য এতটাই চমৎকার ছিল যে তারা সামরিক দিক দিয়ে এগোতে শুরু করে। এরই হাত ধরে তারা ১৯৬৪ সালে প্রথম পারমানবিক বোমার সফল পরিক্ষা চালায় এবং একরকম জোর করেই জাতিসংঘের স্থায়ি পরিষদের নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করে নেয়।


পিপলস লিবারেশন আর্মির শাখাগুলোও একটু ডিফারেন্ট। তাদের সেনা, নৌ এবং বিমান শাখা ছারাও তাদের সেকেন্ড আর্টিলারি কোর নামক আলাদা একটা শাখা আছে। যেখানে এক লক্ষাধিক সদস্য আছে। এটি একটি মিসাইল এবং রকেট স্পেশাল বাহিনি। এই কোরটাই মুলত পারমানবিক অস্ত্রগুলো নিয়ন্ত্রন করে। ধারনা করা হয় এদের কাছে এত বিপুল পরিমানে মিসাইল আছে যে তা দিয়ে আলাদা একটা যুদ্ধ করতে পারবে তারা। আর কোন ফোর্সের প্রয়োজন হবে না। তাদের এই ফোর্স ৬ টা আলাদা ব্রিগ্রেডে ভাগ করে পুরো দেশে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করে রাখা হয়েছে।


উচ্চকাংখা বলতে যেটা বুঝানো হয়েছে সেটা পুরোটাই স্ট্রটেজিক। চায়নার সামরিক বাহিনির এয়ার ফোর্স এবং নেভি ফোর্স পুরোটাই স্বনির্ভর। এয়ার ফোর্সের সামরিক ভিশন বলতে বর্তমানে তাদের নিজস্ব এয়ার সুপেয়রিয়রিটি ফাইটার, বম্বার, ক্যারিয়ার, ড্রোন, ফাইটার ড্রোন এবং অবশ্যই সুপাল কোয়ালিটি ফোরথ এবং ফিফথ জেনারেশন Chengdu J-20। যা অলরেডি প্রোডাকশনে চলে গেছে। এয়ার ফোর্সের এই স্বনির্ভরতা তাদের আর্সেনাল বা বিমানের সাথে বহন করা বোমাগুলোর ম্যানুফ্যাকচারিং ক্যাপাবিলিটও আছে। মানে কোন কিছুই বাইরে থেকে তারা কিনে না।


চায়নার নেভির সামরিক ভিশনের মধ্যে আছে আরো পাচটি বিমান বাহি রনতরি নির্মান করা। অলরেডি তারা এটার কজা শুরু করে দিয়েছে। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা রিপোর্ট করেছে চায়নার একটা গোপন সামরিক স্থাপনাতে এই রনতরি গুলোর নির্মান কাজ চলছে পুরো দমে। মুলত ফিফথ জেনারেশনের বিমানগুলোকে বহন করার জন্যই এই রনতরি গুলো। প্রত্যেকটি রনতরির সাথে থাকবে একটি আলাদা ব্রিগ্রেট যেখানে ডেস্ট্রয়ার থাকবে এবং থাকবে অত্যান্ত হাই কমব্যাট ক্যাপাবিলিটির সাবমেরিন। এবং এই সব জাহাজই থাকবে প্রথমেই বর্ননা করা মিসাইল ফোর্সের আওতায়। মানে তাদের বিচরন থাকবে সব স্থানে। এই পুরো পরিকল্পনাকে চায়নার ব্লু ওয়াটার এমবিশান বলে। পুরো সাগরকে একাই নেতৃত্ব দেয়ার পরিকল্পনা। এর মধ্যে আবার তারা লাস্ট যে ডাবল সাইডেড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারের ডিজাইন দেখাইছে তাতে আমেরিকান সামিরক বিশ্লেষকরাও ব্যাপক চিন্তিত।


চায়নার আর্মি বা গ্রাউন্ড ফোর্সের মধ্যে আলাদা ট্যাংক ডিভিশন হচ্ছে আর একটা মারাত্মক ফোর্স। বাংলাদেশের ব্যাবহৃত ট্যাংকগুলো চায়নার নিজস্ব নির্মিত ট্যাংক। অত্যান্ত উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষমতার সম্পন্ন এই ট্যাংকগুলো আধুনিক বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। এছারাও সামরিক বাহিনির প্রত্যেকটি অস্ত্র তারা নিজেরাই তৈরি করছে নিজেদের প্রযুক্তিতে। আর তাদের মিসাইল ফোর্সের কথা তো শুরুতেই বলেছি।


তাই সামরিক দিক থেকে সামনের দিকে চায়না পৃথিবীর বুকে একটা অত্যান্ত পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভুৎ হতে যাচ্ছে। এতটাই ভয়ানক পরাশক্তি যে এই অঞ্চলে তাদের কাছে কৈফিয়ত বহির্ভত কোন কাজ হবেও না তারা হতে দেবেও না।


এর পরে আসি লেখার পরের ধাপে। প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশ এর সাথে চায়নার সামরিক বাহিনির কি সম্পর্ক??

এখানেই চমৎকার একটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অবস্থান। এই দিকদিয়ে বাংলাদেশ ভারতের একেবারে পেটের মধ্যে একটা অঙ্গরাজ্যের মতন। কৌশলগত দিক দিয়ে ভারত-চায়না যতই গলায় গলায় ভাব দেখাক বাস্তবে বিষয়টা অনেক কমপ্লিকেটেড। সেই ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে চায়না ভারতের যে পরিমান যায়গা দখল করে নিয়েছে তার দুঃখ এখনও ভারত ভুলে নাই। যে কোন বিষয়ে এই দুইদেশের মধ্যে ঝামেলা লেগে যায়। ভারত বর্তমানে এই অঞ্চলে চায়নাকে টক্কর দেয়ার জন্য উঠেপরে লাগতেছে। ভারত মহাসাগরে আমেরিকারে ডাইকা আনতেছে। এই পুরো অঞ্চল একক নিয়ন্ত্রনে চালানোর চেস্টা করতেছে। বিষয়টা আপনার আমার কেমন যেন লাগলেও চায়নার মোটেই পছন্দ হইতেছে না।


আর এখানেই বাংলাদেশের আগমন। চায়নার উদ্যেশ্য হচ্ছে ভারতকে একটা স্থানে আটকাইয়া ফেলা। তারা সেটা প্রথম করেছে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে রিনোভেশনের কাজ করে পুরো গোয়েদার বন্দরটাকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে। ফলে সেখানে খুব সহজেই একটা নেভাল ইউনিট থাকতে পারবে। এর পরেই তারা শ্রিলংকার বন্দর নিয়ে নিয়েছে। খুব সুন্দর ভাবে সেখানে একটা নেভাল ফ্লিট থাকতে পারবে। এখন যদি আপনারা আমার দেয়া ছবিটার দিকে খেয়াল করেন। খুব সহজেই দেখতে পারবেন তারা যদি কোন ক্রমে কক্সবাজারের দিকে একটা বেইজ করতে পারে। তাহলেই কেল্লা ফতে। যখন এই তিনটা সামরিক স্থাপনার থেকে চায়নার জাহাজ গুলো চলাচল করবে প্রায় প্রতিদিনই ভারতিয়দের জন্য একটা করে নাকে ক্ষতের মত হবে।


বিষয়টা খুব একটা কমপ্লিকেটেড না। এটার জন্য আপনাকে শুধু আপনার বন্দরটা তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। তাও একটা কন্ট্রাকের মাধ্যমে পুরো বন্ধরে তাদের ইনভেস্টমেন্ট এবং রক্ষনাবেক্ষন করতে দেয়ার সুযোগ দেয়া লাগবে। ফলে তারা পুরো এলাকাটিকে তাদের নৌবাহিনির জন্য একা বেইজ করার সিস্টেমে রিনোভেশন করে নেবে।


এখন দেখার বিষয় হচ্ছে কি হতে পারে এটার আগের এবং পরের আফ্টার ম্যাথ। প্রথমত এটা করলে এই বন্দরের ভারতের জাহাজ গুলোর অবাধ অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে তাদের পুর্বের রাজ্যগুলোতে পন্য পরিবহনের সমস্যার কারনে উক্ত রাজ্যগুলোর অর্থনিতি বাংলাদেশের পন্য আমদানি নির্ভয় হয়ে পরবে। এর পরে আছে বাংলাদেশের বন্দরের পন্যখালাসে বর্তমানের দির্ঘসুত্রিতার অবসান হবে। ফলে খুবদ্রুত পন্যখালাস হলে দেলে অর্থনিতি আরো দ্রুত প্রসারিত হবে।


সামরিক দিকথেকে সুবিধা হচ্ছে আপনার পুরো উপকুলে একটা বিদেশি কাউয়া ঢুকার আগে পারমিশন নিয়া ঢুকবে। আগে জিজ্ঞেস করবে আসবো কিনা?? অনুমতি দিলে ঢুকবে না হলে বাইরে দিয়ে চলে যাবে। ভিতরকার রাজনিতি পুরোপুরি ভাবে ভারত বিরোধি শক্তির নিয়ন্ত্রনে চলে যাবে। কারন হচ্ছে রাস্ট্রক্ষমতা সাধারন সামরিক শক্তির উপরই ডিপেন্ড করে। যেটা হারে হারে টের পাচ্ছে বার্তমান বিএনপি-জামাত জোট। সামরিক বাহিনির প্রত্যেকটি অস্ত্র চায়না থেকে আসবে। বর্ডারে একটা গুলি চললে ১০ টা ফেরত দেয়ার মত গুলি আপনাকে চায়নাই দেবে। আর তখন বর্ডারে এমনিতেই গুলি করার আগে ভারতীয় সামরিক বাহিনি ১০ বার ভাবতে বাধ্য হবে। হতেই হবে। কেউই আপরাইজিং একটা সামরিক শক্তির সাথে সংঘর্ষের কথা ভাববে না। যেখানে স্বয়ং আমেরিকা যাদেরকে নিয়ে চিন্তিত সেখানে ভারত তো দৌরের উপরে থাকে। উত্তর কোরিয়ার মত দেশকে তারা একাই সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ তো তাদের সামনে কিছুই না।



আমার লেখাটা হয়ত গুছিয়ে লেখা হয় নি। অনেক তথ্য মিসিং আছে। হয়ত অনেকে লেখাটা পরে হাসবেন। অনেকে হালকা রাগও করতে পারেন যারা বিষেশ করে ভারতকে নিজেদের হোমল্যান্ড মনে করেন। তবে পুরো লেখাটা একেবারে আমার ব্যাক্তিগত মতামত। ধন্যবাদ।
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×