somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

" বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ ও বৈদেশিক রির্জাভ আটক এবং আফিম চাষ বন্ধ " কিভাবে বের হবে তালেবানরা এ অর্থনৈতিক সংকট থেকে ? বিকল্প কোন জিনিষ টেকসই হতে পারে আফগান অর্থনীতির জন্য ? (তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট -৬ )।

০৩ রা অক্টোবর, ২০২১ দুপুর ২:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছবি - বিবিসি

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকা এবং পশ্চিমা বিশ্বের অবমাননাকর পশ্চাদপসরণ এবং কাবুল থেকে বিশৃঙ্খল প্রস্থান করার পর তালেবানরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের মাধ্যমে পাশ্চাত্যের যে বিভাজনের ডঙ্কা বেজে উঠেছে, সেটি হলে আমেরিকানরা সত্যিকার অর্থে পাশ্চাত্যের এবং দুনিয়ার নেতৃত্ব হারাবে। সে ক্ষেত্রে নতুন নতুন নেতৃত্ব বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এগিয়ে আসবে। শক্তিশালী মুসলিম দেশগুলোও নিজেদের মধ্যে আলাদা বলয় তৈরি করে বিশ্বব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে । আর এ অবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন ও এর ইংরেজিভাষী বন্ধু দেশগুলোর বের হবার আশায় এবং তালেবানদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য তালেবানদের সাথে চরমভাবে অসহযোগীতার চর্চা শুরু করেছে যা পাশ্চাত্যের দ্বিমুখীতার পরিচয় বহন করে। যদিও তারা আলাপ-আলোচনা এবং বাধ্য হয়েই আফগানিস্তান ছেড়ে গিয়েছে তবে তারা যাওয়ার পর এমন পরিস্থিতি তৈরী করতে চাচছে যাতে করে তালেবানরা দেশ শাসনে সফল না হয়। এত দিন বৈরী বহিঃশক্তি সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে আফগানিস্তানকে দুর্বল করেছে, এখন তারাই হাতে নিয়েছে অর্থনৈতিক অস্ত্র, যাতে ইসলামী আমিরাত আফগানিস্তান মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে না পারে। তালেবানের বিরুদ্ধে সরব কিছু যুদ্ধবাজ পক্ষকে সহায়তা দিয়ে আফগানিস্তানে একটি অস্থিতিশীল আবহ জিইয়ে রাখার চেষ্টাও করছে সাম্র্রাজ্যবাদী শক্তি।


এ যেন অনেকটা এরকম - " আমরা পারিনি তাই ছেড়ে দিলাম তবে এমন পরিস্থিতি তৈরী করব যাতে তোমরা কিভাবে সফল হও তাও দেখে নিব" টাইপের । আর তার জন্যই তালেবানদের সাথে সহযোগীতার পরিবর্তে সর্বক্ষেত্রে অসহযোগীতা তথা বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ ও বৈদেশিক রির্জাভ আটক এবং তাদের স্বীকৃতি না দেয়া সহ এমন সব পদক্ষেপ নিচছে যাতে করে তালেবানরা দেশ শাসনে সফল না হয়।আর এসব সমস্যা থেকে বেরিয়ে তালেবানরা কিভাবে দেশ শাসনে সফল হতে পারে তাই এখন সারা দুনিয়ার কৌতুহল ও দেখার বিষয়।

আফগানদের বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ ও বৈদেশিক রির্জাভ আটক এবং আফিম চাষ বন্ধের পটভূমি

কাতারে তালেবানদের সাথে দীর্ঘদিন এবং দফায় দফায় বৈঠক ও চুক্তির পরেই যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা ও নাগরিকদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।আর সেই আলোচনা ও চুক্তি যখন আমেরিকা তালেবানদের সাথে করে তখন তারা জানতই যে তালেবানরাই হতে যাচছে আমেরিকা পরবর্তী আফগানদের শাসক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯৫০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে আমেরিকা। ফলে তালেবান সরকার গঠন করলেও নিজ দেশের প্রায় হাজার কোটি ডলারের তহবিল হাতে পাচ্ছেন না। এসব অর্থ নিউ ইয়র্কফেডারেল রিজার্ভ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত আছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও ঘোষণা দিয়েছে, আফগানিস্তানকে যে অর্ধ মিলিয়ন ডলার দেয়ার কথা ছিল, তা বাতিল করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মনোভাবও একই। মার্কিন সেনাদের কাবুল ত্যাগের আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেইক মাস ঘোষণা দিয়েছিলেন, যদি তালেবান দেশটি দখল করে নেয় এবং শরিয়াহ আইন প্রবর্তন করে, তবে আমরা এক পয়সাও দেবো না। ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় প্রতিরোধে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের আহ্বানে সম্প্রতি আফগানিস্তানের জন্য সহযোগিতা কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। কনফারেন্সটিতে জাতিসঙ্ঘ, রেডক্রস ও বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ অর্থ জাতিসঙ্ঘের তত্ত্বাবধানে ব্যয় করা হবে।

আবার তালেবানরা নিজেদের নিজেদের দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করতে সারা দেশে নিষিদ্ধ করতে চাচছে আফিম চাষ।আফগানদের প্রধান অর্থকরী ফসলই বলা হয় আফিমকে এবং আফিমের উপর নির্ভর করেই আফগান তথা তালেবানদের জীবন অনেকটা আবর্তিত হয়। এখন তালেবানরা হঠাৎ করে দরিদ্র আফগান ও আফিম চাষীদের বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা না করে আফিম চাষ বন্ধ করলে তা তাদের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই মনে করেন বেশীরভাগ বিশ্লেষকরা।আবার একদিকে বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ ও আমেরিকার বৈদেশিক রির্জাভ আটক এবং কৃষকদের আফিম চাষ বন্ধ করে চরম অর্থনৈতিক সমস্যায় জর্জরিত তালেবানরা কিভাবে আফগান শাসন পরিচালনা করবে তথা ভংগুর আফগান অর্থনীতিকে সামলে কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিবে তাই এক বিশাল প্রশ্ন ?

আর্থিক আবরোধ,বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ ও অর্থনৈতিকে সমস্যার প্রকৃতি -

আফগানিস্তানের নতুন শাসকগোষ্ঠী তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর দেশটি চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। আশরাফ গনি সরকারকে হটিয়ে পুরো দেশের ওপর তালেবান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আটকে দিয়েছে।ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে জমা থাকা আফগানিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছাড় না করার নির্দেশ দিয়েছেন বাইডেন ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আফগানিস্তানের নয়শ কোটি ডলারের সম্পদ জমা আছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ লাখ ডলারের স্বর্ণ আর ত্রিশ কোটি ডলার সমমূল্যের আন্তর্জাতিক মুদ্রা।এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তানে মারাত্মক তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সাথে জিনিসপত্রের দাম আস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আজমল আহমাদি জানান, আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে ক্যাশ টাকা নেই বললেই চলে। আর স্থানীয় ব্যাংকগুলোতে যে পরিমাণ মুদ্রা জমা আছে তা দেশ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয়। এ অবস্থা চলতে থাকলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী মারাত্মক পরিস্থিতির শিকার হবে বলে জানান আহমাদি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র জার্মানিও আফগানিস্তানে তার আর্থিক সহায়তা স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। এ অবস্থায় শাসনকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের চেয়ে অনেক কম অর্থকে পুঁজি করে তালেবানদেরকে তাদের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চিত বিরাট চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আর দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মার্কিনীদের আটকে দেয়ার ফলে আফগানবাসী অর্থের অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হবেন বলে সবাই আশংকা করছেন।

যদিও ইতিমধ্যে তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আফগানিস্তানের জনগণকে মানবিক সাহায্য এবং আর্থিক সহায়তার জন্য লাইসেন্স জারি করেছে। ইউএস ট্রেজারি অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের পরিচালক আন্দ্রেয়া গাকি এক বিবৃতিতে বলেন, "ট্রেজারি আফগানিস্তানের জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার প্রবাহ এবং তাদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণকারী অন্যান্য কার্যক্রম সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ "। তারপরেও মার্কিন ডলারের ঘাটতিতে আফগানবাসী আর্থিক অবমূল্যায়ন ও মুদ্রাস্ফীতির সম্মুখীন হবে। এতে দরিদ্ররা আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের চোখে তালেবানরা 'সন্ত্রাসী গোষ্ঠী' হওয়ায় (আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর) ওই রিজার্ভ পাওয়া তাদের জন্য খুব কঠিন হবে। এটা ঠিক, ‘তালেবানরা সামরিকভাবে জিতেছে। এখন তারা দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছে। কিন্তু এটা সহজ কাজ নয়"।আর দেশ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট অর্থের বিকল্প নেই। তালেবানরাও সেটি জানে যে আফগানিস্তানের জন্য বৈদেশিক সহায়তার ভীষণ প্রয়োজন।

মূলতঃ পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে একটি বোঝাপড়া অনুসরণ করে গত ২৪/০৯/২০২১ শুক্রবার সন্ধ্যায় এই সুবিধাসমূহ ঘোষণা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনকে বলেন, পাকিস্তান সবসময় বিশ্বাস করে যে, এই চার দেশ আফগানিস্তানে টেকসই শান্তির জন্য একটি কার্যকর প্লাটফর্ম প্রদান করতে পারে। চারটি দেশের মধ্যে দু’টি-পাকিস্তান এবং চীনের আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং অন্য দু’টি দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে দীর্ঘ সামরিক অভিযান ও দখলদারীতে জড়িত ছিল।


ছবি -গালফ নিউজ

আফিম চাষ বন্ধে নির্দেশনা তালেবানের

বৈশ্বিক আফিম ও হেরোইন সরবরাহের ৮০ শতাংশেরও বেশি আসে আফগানিস্তান থেকে। বিপুল অংকের এ মাদক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ প্রধানত তালেবানদের হাতে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মধ্যেই আফগানিস্তানের আফিম বাণিজ্যের পরিমাণ দেশটির মোট জিডিপির ৬ থেকে ১১ শতাংশের মধ্যে দাঁড়ায়। ওই বছরেই আফগান মাদক বাণিজ্যের আকার দেশটির পণ্য ও সেবার বৈধ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকেও ছাড়িয়ে যায়। একই দপ্তরের সাম্প্রতিক আরেক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০১৯ সালেও আফগানিস্তানে পপি (আফিম) চাষ হয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার হেক্টর জমিতে। এরপর গত বছর দেশটিতে আফিম আবাদি এলাকার পরিমাণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। ২০২০ সালে আফগানিস্তানে আফিম চাষ হয়েছে মোট ২ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দেশটি থেকে অবধারিতভাবেই বিশ্বব্যাপী আফিম ও হেরোইনের সরবরাহ বাড়তে যাচ্ছে। তার মানে হলো, দারিদ্র পীড়িত আফগানদের অথনৈতিক কর্মকাণ্ড অনেকটাই আফিমের চাষ এবং বাজারজাতের উপর নির্ভরশীল।

এখন তালেবানরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পর তাদের দেয়া ওয়াদা অনুসারে আফগানিস্তানে আফিম চাষ বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে । সম্প্রতি রাজধানী কাবুল দখলের মাধ্যমে পুরো দেশ নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা হিসাবে এই উদ্যোগ নিল তালেবানরা। খবরটি দিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল।এরই মধ্যে তালেবান নেতারা স্থানীয় চাষিদের আফিম চাষ বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন। যেসব এলাকায় অনেক বেশি আফিম চাষ হয় ওইসব এলাকার চাষিরা এই তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন গণমাধ্যমটিকে। তালেবানদের এই উদ্যোগে আফগানিস্তানজুড়ে কাঁচা আফিমের দাম বেড়ে গেছে।সাম্প্রতিক সময়ে আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কান্দাহার প্রদেশে গ্রামাঞ্চলের লোক সমাবেশে তালেবান প্রতিনিধিরা বলা শুরু করেছেন, এখন থেকে আফিম চাষ নিষিদ্ধ হবে। আফগানিস্তানের যেসব এলাকায় আফিম চাষ বেশি হয়, কান্দাহার তার অন্যতম। স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো আফিম।

আফগানিস্তানের বর্তমান আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও পরিস্থিতি

বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটির বর্তমান জনসংখ্যা তিন কোটি ৯০ লাখ। সহজ করে বলা যায়, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের একভাগ ।২০ বছর ধরে সংঘাতে লিপ্ত দেশটির কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবলের প্রয়োজন মেটাতে যে শিক্ষাব্যবস্থার দরকার সেটিও নড়বড়ে৷ জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ২০২০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আফগানিস্তানে সাক্ষরতার হার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪৩ ভাগ । নারী ও শিশু শিক্ষায়ও বেশ পিছিয়ে দেশটি ৷ ইউনেস্কোর পরিসংখ্যান বলছে, দেশটিতে বর্তমানে ৩৭ লাখ শিশু রয়েছে যারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ৷ এ শিশুদের শতকরা ৬০ ভাগ মেয়ে বলে জানায় প্রতিবেদনটি ৷আর স্কুলে গেলেও তারা যে খুব ভালো মানের শিক্ষা পাচ্ছে এমনটাও নয় ৷ জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন বলছে, দেশটির বিভিন্ন স্কুলে নিয়োজিত শিক্ষকদের শতকরা ৪৮ ভাগই শিক্ষাদানে যথেষ্ট যোগ্য নন ৷ সেই সাথে পর্যাপ্ত স্কুলের অভাব আর অবকাঠামোগত ঘাটতি তো আছেই ৷ এসব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদনশীল খাতের জন্য যে দক্ষ জনবল প্রয়োজন সেই ঘাটতি তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর খুব দ্রুত যে পূরণ করতে পারবে এমন নয় ।

আবার দেশটির ৯০ শতাংশ মানুষ দরিদ্রসীমার নিচে বাস করে। ৩০ শতাংশ খাদ্য অনিরাপত্তায় ভুগছে। তাই হঠাৎ করেই পপি চাষ বন্ধ করলে তালেবানদের মাঝারি মানের কমান্ডার এবং যোদ্ধাদের আয়ে ধস নামবে। নিষেধাজ্ঞা ছাড়াই তালেবানকে এখন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। বেকার হয়ে পড়েছে বহু সেনা সদস্য। যুক্তরাষ্ট্র যাদেরকে বেতন দিত। কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও তালেবানদের জন্য কঠিন হবে। আর এতসব সমস্যার মাঝে -

এখন যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তালেবান এবং বিশ্ববাসীর সামনে, " বৈদেশিক সাহায্য ছাড়া,বৈদেশিক রির্জাভ আটকে যাওয়া এবং আফিম চাষ বন্ধেের ফলে কিভাবে দেশ চালাবে তালেবানরা বা আফগান অর্থনীতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবে বা উঠতে পারে এ সংকট "?

এবার আমরা দেখি আফগানদের সামনে বিকল্প আর কি কি ব্যবস্থা আছে এ সমস্যা থেকে বের হবার -

১।আফগানিস্তানের কৃষিখাত ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি

দেশটির অর্থনীতি বর্তমানে এক জরাজীর্ণ দশা পার করছে ৷ চার কোটি মানুষের এ দেশটিতে মাথাপিছু দৈনিক আয় দুই ডলারের কম ৷ বিশ্বব্যাংক বলছে, দেশটির মাথাপিছু জিডিপি পাঁচশ ডলার, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অনেক নিচে। আফগানিস্তানের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো কৃষি ও কৃষি থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা । প্রতিবেশী পাকিস্তান, ভারত ও আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশ তাদের বড় বাণিজ্যিক সহযোগী। এ দেশগুলোতে আফগানিস্তান থেকে শুকনো ফল ও মসলাসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে ।দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতির বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে৷ আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে অন্যের উপর নির্ভরশীল ও নড়বড়ে উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংক জানায়, আফগানিস্তানের জনবল দেশটির কম উৎপাদনশীল কৃষিখাতে নিয়োজিত ।
অর্থাৎ বলা যায় যে, গত কয়েক দশকেও কৃষিখাত ছাড়া আর নতুন তেমন কোনো উৎপাদনশীল খাত দাঁড়ায়নি যা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী রাখবে।


এদিকে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও তুলনামূলক কম বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে ৷ আর চলমান অস্থিরতায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে নতুন করে বিনিয়োগ করতে কতোটা আগ্রহী হবে সে বিষয়েও যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে। বার্লিনের ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক টিলমান ব্র্যুক ডয়চে ভেলেকে জানান, আফগানিস্তানে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ খুব কম। তার মতে, বিদেশি সৈন্যদের উপস্থিতি না থাকার ফলে যে নিরাপত্তা ঘাটতি তৈরি হবে সে কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা আগের থেকে আরো সীমিত হয়ে পড়বে।

২। বিদেশি সাহায্য

দেশটির অর্থনীতি ব্যাপক এবং অনেক বেশি মাত্রায় বিদেশি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল। আর তাই আন্তর্জাতিক সমর্থন ছাড়া তালেবানদের জন্য পরিস্থিতি মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযাযী, ২০১৬ সালে থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১৫শ কোটি ডলারের অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়৷ হিসেব অনুযায়ী, সরকারি ব্যয়ের ৭৫ ভাগই বিদেশি সাহায্য থেকে মেটানো হয়।আর তাই সাহায্য নির্ভর এ অর্থনীতিকে ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তালেবানদের জন্য। কারন বিশ্বের অনেক দেশই তালেবানরা আফগান দখলের পর তাদের আর সাহায্য করতে চাচছেনা বা আগ্রহী নয় । আবার অনেক বিশেষজ্ঞ অবশ্য তালেবানদের রাজনৈতিক আদর্শকেও অর্থনীতি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অন্তরায় মনে করেন । তাদের মতে, তালেবানদের রাজনৈতিক দর্শন বিবেচনায় নিয়ে বলা যায় তারা আসলে অর্থনীতিতে গতি আনতে খুব একটা আগ্রহীও নয়।


ছবি- বিবিসি

৩।দখলদারদের ধ্বংসযজ্ঞ এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত শাসকদের দূর্নীতি এবং তালেবানদের দূর্নীতি রোধের প্রচেষ্টা -

ক্রমাগত ৩০ বছর যুদ্ধ, সঙ্ঘাত, অস্থিরতা ও দুর্নীতির ফলে আফগানিস্তানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়েছে যা কোন রকম জোড়াতালি দিয়ে এতদিন আমেরিকানরা চালিয়েছিল। খাদ্যসঙ্কটে এক কোটি ৪০ লাখ আফগান নাগরিক। দারিদ্র্যের হার বেড়েই চলেছে। তিন বছরের মধ্যে আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বারের মতো খরা দেখা দিয়েছে, এতে ৪০ শতাংশের বেশি ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, ব্যাংকে তারল্য সঙ্কট প্রকট, বাস্তুচ্যুত হয়েছেন লাখ লাখ আফগান। বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মতে, ৩৪টি প্রদেশের সবগুলোতে ৯৩ শতাংশ পরিবারের কাছে যথেষ্ট পরিমাণ খাদ্য নেই। গড়পড়তা আফগান নাগরিকের দৈনিক উপার্জন দুই ডলারের বেশি নয়। পুষ্টিহীনতায় ভুগছে পাঁচ বছরের নিচের অর্ধেক শিশু। আসন্ন মৌসুমে শীত পড়ার সাথে সাথেই আফগানিস্তানের রাস্তাঘাটগুলো তুষারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এর আগেই খাবারের মজুদ গড়ে তুলতে হবে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি দেশত্যাগ করার সময় এক হেলিকপ্টার ও চারটি গাড়িভর্তি নগদ অর্থ নিয়ে গেছেন। তাজিকিস্তানে আফগান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জহির আগবার অভিযোগ করে বলেন, " সাবেক প্রেসিডেন্ট সাথে করে যে অর্থ নিয়ে গেছেন তার পরিমাণ ১৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার"।এর দু’টি কারণ হতে পারে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ। এখন তিনি আরব আমিরাতে থাকলেও একসময় হয়তো যুক্তরাষ্ট্রে থিতু হবেন সপরিবারে। সে দেশে তার নাগরিকত্ব রয়েছে। দ্বিতীয়ত, রাজকোষ শূন্য করে দেয়া। যাতে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে বেসামাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। মানবসৃষ্ট এই মানবিক বিপর্যয়ে মূলত দায়ী সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও বহুজাতিক বাহিনী।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন যে মন্তব্য করেন, তা উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, "আফগানিস্তান দখলের প্রথম দিন থেকে সেনা প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আফগান জনগণের ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। কোনো উসকানি ছাড়াই সামরিক হস্তক্ষেপ এবং নিজের মূল্যবোধ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয়ার যে কী পরিণতি হতে পারে, দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে যা করেছে, সেটি এর বড় উদাহরণ"। ক্রমাগত যুদ্ধ ও অস্থিরতার ফলে মাথাপিছু আয় ৫১০ ডলার থেকে বাড়েনি। দেশটিতে কাংক্ষিত পরিমাণের শিল্পায়ন হয়নি। সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসী শক্তি আফগানিস্তানকে স্বনির্ভর হতে দেয়নি। বিদেশী সাহায্যের ওপর দেশকে নির্ভরশীল করে ফেলা হয়। দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন দাউদ খান, নুর মুহাম্মদ তারাকি, হাফিজুল্লাহ আমিন, বাবরাক কামাল, নাজিবুল্লাহ, হামিদ কারজাই ও আশরাফ গনি। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন প্রতিপক্ষের হাতে।

এখন তালেবানরা ক্ষমতা দখলের পর দূর্নীতি ও লুটপাট রোধের প্রচেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক সাপোর্ট মিলছে এবং প্রশাসনিক খরছ সাশ্রয় হচছে তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।


ছবি - বিবিসি

বিদেশী সাহায্য ব্যতীত আয়ের আর কী কী উৎস আছে দেশটিতে বা সংকট সমাধানের পথ কি ?

১। চীনা সাহায্য ও পাকিস্তান ও রাশিয়ার সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রশক্তির সাহায্যের গতি রুদ্ধ বা উদ্যোগ থিতিয়ে এলেও আফগানিস্তানের বড় ধরনের ক্ষতি হবে না আর হলেও তা সাময়িক যদি তারা বাকী বিষয়গুলি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে । আফগানরা দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ যোদ্ধাজাতি। ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অভাব ও বারুদের গন্ধ দেশটির জনগণের নিত্যসাথী। অন্য দিকে দেশটির পাশে দাঁড়িয়েছে চীন, পাকিস্তান ও রাশিয়া। আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার এক মাস আগে তালেবান প্রতিনিধিদের সফরের আমন্ত্রণ জানায় চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সাথে তালেবান প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।

তখনই যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান পুনর্গঠনে অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয় বেইজিং। তালেবানরাও মনে করে, দেশ পুনর্গঠন ও বিনিয়োগে চীন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এরই মধ্যে চীন তিন কোটি ১০ লাখ ডলার অর্থমূল্যের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিকভাবে ৩০ লাখ ডোজ করোনাভাইরাস টিকা দেবে চীন। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই আফগানিস্তানকে সহায়তার জন্য পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের প্রতি আহ্বান জানান। এসব দেশ আফগানিস্তানের প্রতিবেশী এবং চীনের মিত্র হিসেবে পরিচিত। চীনের অর্থায়নে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নির্মীয়মাণ এক হাজার কোটি ডলারের গোয়াদার বন্দর, ভূরাজনীতি ও বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের দিক বিবেচনায় চীনের এখানে কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। ইউরেশিয়া অঞ্চল হলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের প্রধান শরিক। এ ছাড়া ওয়াখান করিডোর হয়ে স্থলপথে আফগানিস্তানের ওপর দিয়ে ইরান যাওয়ার পরিকল্পনাও আছে চীনের।এখন তালেবানরা যদি সহিংসতা নিয়ন্ত্রন করতে না পারে তাহলে আফগানিস্তানে চীনের বিনিয়োগও হাতছাড়া হতে পারে। কারণ তালেবানরা এখন চীনকেই প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার মনে করে।

২। বিদেশী বিনিয়োগ ও খনিজ সম্পদ উত্তোলন - ব্যবহার

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম থাকায় দেশটিতে কাঙ্খিত পরিমাণের শিল্পায়ন কখনো হয়নি অর্থাৎ দেশে উৎপাদিত পণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে নিজেদের অর্থনীতিকে চালানোর মতো অবস্থায় নেই দেশটি।তবে পাহাড়বেষ্টিত এশিয়ার এ দেশটিতে ব্যাপক পরিমাণ খনিজ সম্পদ রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে আয়রন, কপার, লিথিয়াম, কোবাল্টসহ নানা ধরনের প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে৷ আর আফগান সরকারের এক প্রতিবেদনে দেশটির খনিজ সম্পদের পরিমাণ বলা হযেছে ৩ ট্রিলিয়ন ডলার৷

এখন তালেবানরা যদি ১৪টি জাতিগোষ্ঠী সমন্বয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন ও পরিচালনায় সফলতা দেখাতে পারে, রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা, সুশাসন ও জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে পারে, তবে তিন ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের উত্তোলনযোগ্য যে পরিমাণ প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে এগুলোর প্রযুক্তিভিত্তিক সদ্ব্যবহার করার পথ খুলে যাবে। তখন বিদেশী বিনিয়োগকারীরা এগিয়ে আসতে আগ্রহী হবে। আর তালেবান শাসিত আফগানিস্তানও অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মিলনস্থল পার্বত্য এ দেশে খনিজসম্পদ আফগান অর্থনীতির মেরুদণ্ডে পরিণত হতে পারে আগামী দিনগুলোতে। ২০২০ সালে একটি সাময়িকীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) কর্মকর্তা সাইদ মিরজাদ বলেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি যদি কয়েক বছরের জন্য শান্ত থাকে, এ সময়ে যদি দেশটিতে খনিজ উত্তোলন ব্যবস্থার উন্নতি করা যায়, তা হলে এক দশকের মধ্যে এ অঞ্চলের অন্যতম ধনী দেশে পরিণত হবে। মার্কিন দখলদারিত্বের সময় আফগানিস্তানে প্রতি বছর এক বিলিয়ন ডলারের খনিজ উত্তোলন করা হতো। তবে এ অর্থের ৩০-৪০ শতাংশই চলে যেত দুর্নীতিবাজ শাসক চক্রের পকেটে। যেকোনো মূল্যে তালেবানকে এই দুষ্টচক্র ভাঙতে হবে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে। দুষ্প্রাপ্য খনিজ উত্তোলনে বিশ্বে সবচেয়ে এগিয়ে চীন এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উন্নয়নের অভিজ্ঞতাও আছে দেশটির। তালেবান নেতৃত্ব নিশ্চয়ই চীনের সহায়তা নিতে পিছপা হবে না। চীনও এ সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করবে না। বৈদেশিক বিনিয়োগকারী ছাড়া আফগানদের পক্ষে একা খনিজসম্পদ আহরণে দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সোভিয়েত ও মার্কিন আক্রমণ এবং তৎপরবর্তী গৃহযুদ্ধে আফগানিস্তান বিপুল খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের সদ্ব্যবহার করতে পারেনি। বহু শতাব্দী ধরে আফগানিস্তান দুষ্প্রাপ্য ও অর্ধ-দুষ্প্রাপ্য মৃত্তিকা ও পাথরের একটি উৎসস্থল, যাদের মধ্যে আছে নীলকান্তমণি, চুনি, নীলা, কপার, পান্না, স্ক্যানডিয়াম ও ইউটিরিয়াম। কাবুলের ২৫ মাইল দক্ষিণে লগার প্রদেশের মেস এয়াংক খনিতে প্রায় ৬০ মিলিয়ন টন কপার মজুদ আছে বলে অনুমান করা হয়। লিজ নিলেও চীন এখানে উত্তোলন শুরু করতে পারেনি নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে। তবে চীন এ মজুদ কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না। বৈশ্বিক কপার চাহিদার অর্ধেক এখন তাদের (প্রথম আলো, ১৩ জুলাই, ২০২১)।

২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য মতে, উত্তর আফগানিস্তানে গড়ে ২৯০ শত কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত খনিজ তেল ও ১৫.৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ আছে। আফগানিস্তানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লিথিয়াম রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সংস্থা পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ চিঠিতে বলা হয়, আফগানিস্তান লিথিয়ামের সৌদি আরব এ পরিণত হতে পারে। দূষণহীন যান চলাচলের ব্যাটারি, মোবাইল ফোনের ব্যাটারির জন্য আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত খনিজ লিথিয়াম মৌল।প্রকৃতিতে দুর্লভ এবং খনি থেকে সেই মৌলের নিষ্কাশনের পদ্ধতি অত্যন্ত জটিল। আর এ খনিজের খনি রয়েছে আফগানিস্তানের মাটির নিচে। এ ছাড়াও দেশটিতে তামা, স্বর্ণ, কয়লা, লোহার আকরিক ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ আছে। হেলমান্দ প্রদেশের খানাশিন এলাকার কার্বোনাটাইট শিলাতে এক কোটি টনের মতো দুর্লভ ধাতু রয়েছে। আফগান সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমান, দেশটির ৩০ শতাংশ অব্যবহৃত খনিজ সম্পদের মূল্য কমপক্ষে এক ট্রিলিয়ন ডলার (দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, ১৭ জুন, ২০১০)।

ইকোলজিক্যাল ফিউচার্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রড শুনোভার জানিয়েছেন, ‘মাটির তলায় কী পরিমাণ গুপ্তধন রয়েছে আফগানিস্তানে, তা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের গতিতে রাশ টানতে হলে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে সার্বিকভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি পথে নামাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাটারি রিচার্জ করতে জরুরি লিথিয়াম, তামা, অ্যালুমিনিয়াম ও নিওডিয়াম মৌল। খনিজ লিথিয়াম সবচেয়ে বেশি মজুদ রয়েছে এখন লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ায়। মার্কিন সরকারের হিসাব বলছে, আফগানিস্তানের লিথিয়ামের পরিমাণ বলিভিয়াকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্বে লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের মতো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মৌলগুলোর সরবরাহে রয়েছে যে প্রথম তিনটি দেশ (মোট ৭৫ শতাংশ)- চীন, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ও অস্ট্রেলিয়া তাদের সাথেও আফগানিস্তানের খনিজভাণ্ডার পাল্লা দিতে পারে ।ইলেকট্রিক গাড়ির উৎপাদন বাড়তে থাকায় বিশ্ব বাজারে লিথিয়ামের চাহিদা গত কয়েক বছরে শতকরা ২০ ভাগ করে বাড়ছে৷ আফগানিস্তানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম লিথিয়ামের উৎপাদনের কথা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। সে হিসেবে লিথিয়াম রপ্তানির মাধ্যমে আফগানিস্তান বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, একুশ শতকের অর্থনীতির জন্য যেসব ধাতব সম্পদ প্রয়োজন, তার প্রাচুর্য রয়েছে দেশটিতে। এসব খনিজ ব্যবহার করে এক দশকের মধ্যেই এশিয়ার এ অঞ্চলের ধনীতম দেশ হয়ে উঠতে পারে আফগানিস্তান’ ।(বাংলাদেশ প্রতিদিন, অনলাইন ভার্সন, ১৯ আগস্ট, ২০২১)।

তবে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ তালেবানরা কতোটা কাজে লাগাতে পারবে সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।এর কারণ হিসেবে দেশের অভ্যন্তরে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবলের ঘাটতি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বে নিজেদের গ্রহণযোগ্য উপস্থিতির অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তালেবান ও উগ্রপন্থী দলগুলোকে পর্যালোচনাকারী জাতিসংঘের সাবেক বিশষেজ্ঞ হানস-ইয়াকোব স্নাইডার ডয়চে ভেলেকে বলেন, "আফগানিস্তানের বর্তমান অবকাঠামোগত অবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থাভাজন ব্যবসায়িক সহযোগীর অভাবে এই মুহুর্তে তালেবানদের জন্য এসকল সম্পদের ব্যবহার অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে "৷স্নাইডার আরো বলেন, "আজকে যে খনিজ সম্পদগুলোর কথা বলা হচ্ছে সেগুলো কিন্তু আগেও ছিল। যেমন তালেবানরা যখন ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে ক্ষমতায় ছিল তখনও এই সম্পদগুলো তাদের ছিল। কিন্তু তারা এগুলো উত্তোলন করতে পারেনি। তাই এ বিষয়ে তাদের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়"।


ছবি - বিবিসি

৩।সারা বিশ্বের সবার সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন এবং বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা -

তালেবান সরকারকে মুসলিম বিশ্বসহ গোটা দুনিয়ার সাথে কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে। আধুনিক বিশ্বে একলা চলো নীতি অচল। ইসলামের বিধিবিধানের আওতায় অবস্থান করে তালেবানকে উদারতা দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বিবেচনায় রাখতে হবে। শরিয়াহ আইনে দেশ চলবে, এমন ঘোষণা তালেবান দিয়েছে। পুরো আফগানিস্তানের জনগণ ব্যক্তি ও পারিবারিক পরিসরে শরিয়াহ আইন মেনে চলতে অভ্যস্ত। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শরিয়াহ আইনের বাস্তবায়নে যদি তালেবান ভূল করে অথবা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তা হলে গোটা দুনিয়ায় একটি বিরূপ বার্তা যাবে। আফগান জনগণের ধর্ম, সংস্কৃতি ও উত্তরাধিকার ঐতিহ্যের আলোকে দেশ পরিচালিত হবে, এটিই স্বাভাবিক। রাষ্ট্রকাঠামোর ওপর সংস্কৃতি ও কৃষ্টির প্রভাব অস্বীকার করার জো নেই। পাশ্চাত্যের মূল্যবোধ ও সংস্কৃতি জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইলে ১৪টি জাতিগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত আফগানিস্তানের জনগণ তা মানবে না। ন্যায়বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা, সুশাসন, নারীশিক্ষা, সংখ্যালঘুর অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারকে সমুন্নত রাখতে হবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে। বিভিন্ন দেশ বিশেষত মুসলিম দেশগুলোর সাথে আফগানিস্তান বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে পারে। এতে প্রচুর অর্থ হাতে আসবে। কৃষি ও কৃষি থেকে উপার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি। প্রতিবেশী পাকিস্তান, ভারত ও আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশ বড় বাণিজ্যিক সহযোগী। তাদের সাথে দ্রুত সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে তালেবানদের নিজের স্বার্থে।

সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাতে হবে ভারতের সাথেও । ভারতের রফতানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ আফগানিস্তানের সাথে। ২০১৯-২০ মেয়াদে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১৫০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারত থেকে রফতানির মূল্য প্রায় ১০০ কোটি ডলার। ভারতে আফগানিস্তানের রফতানি প্রায় ৫০ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ভারতের শুকনো ফলের মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশ মেটায় আফগানিস্তান। বাংলাদেশের সাথে দেশটির সামান্য পরিমাণে বাণিজ্য রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৮৬ লাখ মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি করা হয় আফগানিস্তানে, যার বেশির ভাগই ওষুধ, মেডিক্যাল সরঞ্জাম, সবজি, টেক্সটাইল ফাইবার, সুতা, পোশাক, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও শিল্পে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ। বিদায়ী অর্থবছরে দেশটি থেকে বাংলাদেশে দুই কোটি ডলার মূল্যের বাদাম, ফল, বস্ত্র শিল্পের উপাদান, প্লাস্টিক ও রাবারজাত পণ্য আমদানি করা হয়। সোজা কথায় হলো ,সারা দুনিয়ার সবার সাথে সুসম্পর্ক এবং বাস্তবমুখী সিদ্ধান্তই তালেবানদের সফল হতে সাহায্য করতে পারে।

এখনো তালেবানদের সরকার গঠন চলছে। তালেবানরা কঠোর নীতির মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রেখেছে। তাদের ভয়ে দুর্নীতি বা চুরি কিছুটা হলেও কমেছে। তারা জনগনের করের টাকা পাচ্ছেন। তারা দুর্বল অর্থনীতি সামাল দিতে কাজ করছে। তারা পপি চাষ বন্ধের উদ্যোগ নিচ্ছে। তারা এখন বিশ্বের নানা দেশের কিছু কিছু সহায়তা পেতেও শুরু করেছেন। কিন্তু বিদ্যুত এবং পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের প্রযুক্তিগত সামর্থ্য নেই। তারা এখনো ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে সামাল দেওয়ার পরিস্থিতিতেও নেই।এমনকি খরা নিয়ন্ত্রণ করার মতো ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত । এসব সেবা দিতে তালেবানের দরকার নীতি প্রণয়ন করা এবং সময়। এজন্য টেকনোক্র্যাট ও বিদেশি সহায়তা দরকার। যেমন পরামর্শ দরকার, তেমনি বাস্তবে এসব কাজের জন্য লোকও চাই। এমনকি এনজিওর সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন আছে। কিন্তু তালেবানরা যদি প্রতিশোধের শাসনের দিকে যায়, তাহলে টেকনোক্র্যাটরা ভয়ে দেশ ছাড়বে। তালেবান যদি নিষ্ঠুর শাসন পরিচালনা করে তাহলে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বিদেশিরা বিনিয়োগ থেকে সরে যাবে।

এককথায়, বৈদেশিক সাহায্যনির্ভরতা কমিয়ে অর্থনৈতিকভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলে তালেবানকে আরো দায়িত্বশীল, চৌকস ও কুশলী ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠির মধ্যে মধ্যে ঐক্যের বন্ধন তৈরি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী শক্তিকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে তালেবানকে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে। এই প্রথম পুরো আফগানিস্তান নিয়ন্ত্রণ করছে তালেবান। পাখতুন, তাজিক, উজবেক, হাজারাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বৈচিত্র্য থেকে উৎসারিত তালেবান জাতীয় সংহতির প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। সময়ের আবর্তে আফগান জাতি অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সে শক্তিমত্তা, ঐশ্বর্য ও সামর্থ্য তাদের আছে।

বিদ্যমান এ সব সমস্যার সমাধান ও সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহারই তালেবানদের টিকে থাকতে ও সফল করতে সাহায্য করবে।আর না হলে তালেবানরা আবারো হারিয়ে যাবে ইতিহাসের স্বাভাবিক নিয়মে।সময়ই বলে দিবে এবং দেখার বিষয় তালেবানরা কি পদক্ষেপ নেয় এ সব সমস্যার সমাধানে, তারা কতটা রক্ষা করে তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি এবং আন্তর্জাতিক বিশ্ব কতটা সহযোগিতা করে তালেবানদের এ সব সমস্যা সমাধানে ।



তথ্যসূত্র ও সহযোগীতায় - বিবিসি,আল জাজিরা,এপি, এএফপি, প্রথম আলো এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন।

===============================================================

পূববতী পোস্ট -

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৫ Click This Link
"ঝড়ের গতিতে আফগানিস্তান দখল করা তালেবানদের এক মাসেই ঘরে-বাইরে'র নানা সমস্যায় বেহাল অবস্থা । টিকে থাকতে পারবে কি তালেবানরা বা তাদের টিকে থাকার সম্ভাবনা কতটুকু" ?

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৪ Click This Link
" আমেরিকার আফগানিস্তান থেকে বিদায় " - এর ফলে বিশ্ব ব্যবস্থা ও পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনা আছে কি বা বিশ্বে পশ্চিমা আধিপত্যের প্রভাবের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কতটুকু?

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ৩ Click This Link
"তালেবানদের আফগান শাসনের রোডম্যাপ (ইশতেহার) প্রকাশ । কোন পথে এবং কতদূর নিয়ে যেতে চাচ্ছে তালেবানরা আফগানিস্তানকে"?

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ২ Click This Link
" তালেবানদের আফগানিস্তান দখল " - কেন এবং কি কারণে আফগান সেনাদের এত দ্রুত পরাজয়?

তালেবানদের কাবুল দখল পরবর্তী ফলোআপ পোস্ট - ১ Click This Link
" আফগানিস্তানে আমেরিকার ২০ বছর " - আমেরিকা কি নিয়ে এবং আফগানিস্তানকে কোথায় রেখে যাচছে ? এ ব্যাপারে বিশ্ব নেতৃবৃন্দদের প্রতিক্রিয়া কি ?
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ১:১৫
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সে কোন বনের হরিণ ছিলো আমার মনে-১৯

লিখেছেন অপ্‌সরা, ২৫ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৯:৩৫



আজকাল আমি রোজ বিকেলে সিদ্দিকা কবিরের বই দেখে দেখে ডালপুরি, সিঙ্গাড়া, সামুচা বানাই। বাবার বাড়িতে আমি কিছুই রান্না শিখিনি, এমনকি ভাতও টিপ দিয়ে বুঝতে শিখিনি সিদ্ধ হলো নাকি হলো না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নূর মোহাম্মদ নূরু ভাইয়া আর কখনও ফিরবেনা আমাদের মাঝে

লিখেছেন শায়মা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ২:০২


নূর মোহাম্মদ নূরু
আমরা কিছু সামু পাগল আছি যাদের সামুতে না লিখলে কিছুই ভালো লাগে না। নুরুভাইয়া মনে হয় ছিলেন সেই দলে। প্রথমদিকে উনাকে ফুল ফল ও মনিষীদের জীবন নিয়েই লিখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোক সংবাদঃ ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূর আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ রাত ৩:০৪



সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আমরা অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাতে চাই যে, সামহোয়্যারইন ব্লগের ব্লগার নূর মোহাম্মদ নূরু (নূর মোহাম্মদ বালী) আর আমাদের মাঝে নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন। গত ২৯ অক্টোবর রাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ সকাল ১০:৪৯

যেকোনো মৃত্যু: বড় কষ্টের, বড় বেদনার.....

ছড়াকার সাংবাদিক ব্লগার বন্ধু নুর মোহাম্মদ নুরু ভাইর চলে যাওয়া খুব কষ্টের। আরও বেশী কষ্ট পেয়েছি ব্লগার শায়মার পোস্টে নুরু ভাইয়ের মেয়ের হৃদয়বিদারক লেখা পড়ে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ মাস গত হয়ে যাবার পর?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ২৬ শে নভেম্বর, ২০২২ দুপুর ১:২৮





ব্লগে রেজিস্ট্রেশন করে লিখতে শুরু করলেন, সময় গত হবার পর আপনি পরিচিতি পেলেন, সবাই আপনার পোস্ট, কমেন্ট চায় ; আপনি যথেষ্ট সক্রিয় ব্লগে।হঠাৎ আপনি অসুস্থ হয়ে অনিয়মিত, অসুস্থতায় আপনি মৃত্যুবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×