দেশে থেকে এবার আসার সময় গুরুজনরা অনেক কিছুই জোর করে ব্যাগে গছিয়ে দিয়েছে। যদিও ভাব নিয়েছিলাম, এগুলোর দরকার নাই, কিন্তু আমিতো জানি দরকার না দরকার না। হালকা একটু ভাব নেয়া আরকি। দিতে চাইলেই নিলেতো আর মুড থাকবে না, তাই এই কসরত। যাহোক ব্যাগ গুছানোর সময়ে আমি দেখি নাই কি কি দিয়েছ, আসার পর দেখলাম, মাশাআল্লাহ কম দেয় নাই, হরলিক্সটা দেখে ভালোই লাগলো কারন জাপানে হরলিক্স চলে না, এমনকি জাপানিজ দোকানে এইটা পাওয়া যায় না, দরকার হলে দেশীয় হালাল দোকান থেকে চড়া দামে কিনতে হয়। আর কিছু আইটেমের সাথে ছিলো আচার। এই জিনিসটা আমার কাছে খুব প্রিয় না হলেও খারাপ লাগে না। যাহোক বিডি ফুডস এর বরই এর আচার। মুখে দিয়ে ভালোই লাগলো। বেশ কিছুদিন খাবার পর, এরমাঝে দেখই তেঁতুলের বিচি। আমিতো অবাক, ঘটনা কি? লেভেল ভালো করে দেখালাম। জলজ্যান্ত বরই এর আচার লেখা আছে। বাসায় জিগাইলাম, কয় মনে হয় বোনাস দিয়েছে
এইটা নিয়ে ছোট বেলায় শোনা একটা গল্পের কথা মনে পড়ে গেল। অনেক আগে বাড়ির পাশে আখ মাড়াই করা হত গুড় বানানোর জন্য। আখের রস জ্বাল দিয়ে কড়াই এ রাখতে হয় ঠান্ডা হবার জন্য, পরে মুঠো করে ভালো করে জমিয়ে মটকি (মাটির বড় পাত্র)তে রাখা হত পরে দাম ভালো হলে বিক্রির জন্য। এমনিভাবে আখের রস জ্বাল দিয়ে রাখা হয়েছে ঠান্ডা হবার জন্য। সকালে কাজের লোকজন দেখে শিয়াল মামা .......^%$&% করেছে
ভালোভাবে ঢেকে না রাখায় শিয়াল মামা যেখানে খেয়েছেন, সেখানেই প্রাকৃতিক কর্ম সেরেছেন, কাজের ছেলেটা ভয়ে কাউকে কিছু না বলে আখের গাছের পাতা দিয়ে মসলা গুড় থেকে ফেলে দিয়েছে। এরপর গুড় মুঠো করে রাখা হয়েছে। এরপর খাওয়ার জন্য কিছু মুঠো গুড় রেখে দেয়া হয়েছিলো, পড়ে খাবার সময় ঐ কাজের ছেলের পাতে আখের গাছের পাতা পাওয়ার ফলে সে তখন কাচুমাচু করতে থাকে, এরপর ঝাড়ি দেবার পড় সে আসল কাহিনীটা স্বীকার করে....
তাই ভাবছি বিডি ফুডসের কারখানায় হয়ত পাশাপাশি তেঁতুল আর বরই এর আচার প্যাকিং হচ্ছে, এই সময় কর্মচারীরা তেঁতুল এর আচার খেয়েছিলো, বস আসায় দ্রুত বিচিগুলি ফেলেছে, আর সেগুলো পড়েছে বরই এর আচারের সেকশনে ....
জাপানের ডায়েরীগুলো এখানে!
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



