somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের "আম আঁটির ভেঁপু"

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


"আম আঁটির ভেঁপু", বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের "পথের পাঁচালী" উপন্যাসের সরল সংক্ষেপিত কিশোর সংস্করন।

মাত্র আশি পৃষ্ঠার ছোট বই,অথচ শেষ করলাম চারদিনে!কারনটা ইচ্ছাকৃত,এই বইয়ের সাথে কাটানো সময়গুলো দিনের সেরা সময় হতো আমার জন্য,তাই চেয়েছি প্রতিদিনেরই কিছু মুহূর্তকে এই বইয়ের সাথে কাটাতে।পড়তে পড়তে কখনো একা একাই হেসেছি,রোমাঞ্চিত হয়েছি,মন খারাপ করেছি।

ভাই-বোনের অকৃত্রিম ভালোবাসা আর বন্ধুত্বে মুগ্ধ হয়েছি বারবার।

পৃথিবীতে এখনো টাইম ট্রাভেলার মেশিন আবিস্কৃত হয়নি।তবে একজন বিভূতিভূষন বন্দোপাধ্যায় পেয়েছিলাম আমরা।আপনি যদি আপনার হারানো শৈশবে ফিরে যেতে চান,কিংবা আমার মত গ্রামে বেড়ে উঠেন নি কিন্তু গ্রামীণ প্রকৃতি আপনাকে আকর্ষিত করে বারবার,তাহলে হাতে নিন বইটি।

বইয়ের পাতায় চড়ে সোজা পৌছে যাবেন নিশ্চিন্দিপুর গ্রামে!গিয়েই দেখা মিলবে অপুর সাথে।তার সাথে মাঠের ওপারে নীলকন্ঠ পাখি দেখতে যাওয়ার সময়ই বনের মধ্য বড় বড় কানের কিছু একটা দৌড়ে যেতে দেখবেন।অপুর সাথে আপনিও বলে উঠবেন- "বনের মধ্যে কি গেল বাবা?বড় বড় কান?"

অল্পক্ষন পড়েই দেখা মিলবে হাতে কাচের চুড়ি,ময়লা কাপড় পড়া,ডাগর চোখের দশ এগারো বছরের দুর্গার সাথে।এই দুই ভাই-বোনই আপনাকে নিয়ে যাবে কালবৈশাখীর কোন এক ঝড়ে আম কুড়াতে কিংবা মায়ের অগোচরে আমের কুসি জারাতে।হঠাৎ মায়ের ডাকশুনে আপনিও হয়তো কাঠাল গাছের আড়ালে দাড়িয়ে আমের চাকলা গুলো গিলতে থাকবেন, চিবিয়ে খাওয়ার সময় নেই!

চক-শ্লেটের কথা মনে আছে?ছোট বেলার সেই শ্লেটটি আবারো আপনাকে হাতে নিতে হবে প্রসন্ন গুরুমশায়ের পাঠশালায় যাওয়ার সময়!
পথ হারিয়ে আতুড়ি বুড়ির বাড়িতে পৌছে যখন দেখবেন আতঙ্কে অপু নীলবর্ণ হয়ে আছে,তখন হয়তো আপনি ভয় পাবেন না কিন্তু ঠোটের কোণে হাসি ফুটে উঠবে ঠিকই!

দুর্গা অপুর সাথে মেটে আলু আর পানসে আধপোড়া বেগুনভাজা দিয়ে খাওয়ার সময় মনে পড়ে যাবে চড়ুই ভাতির কথা!
এরকম আরো অনেক কিছু,অনেক ঘটনা প্রবাহের সাথে আপনি পৌছে যাবেন ছোটবেলার সেই স্বপ্নময় জগতে!

বইটা এতটাই ভালো লেগেছে যে,এটি নিয়ে লিখতে গিয়ে কি লিখব না লিখব,বুঝতে পারিনি,বারবার কিবোর্ডের ব্যাকস্পেস বাটন চাপতে হয়েছে।যে কারনে লেখাটাও খুব এলোমেলো হয়েছে,যা প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম তা পারিনি,আসলে কিছু অনুভূতি কখনোই মুখের কথায় বা কলমের কালিতে প্রকাশ করা যায় না,অনুভব করতে হয়,এই বই পড়ার পরের অনুভূতি ঠিক তেমনই।

সবশেষে অনুরোধ থাকবে, একজীবনে তো অনেক বই পড়েছেন,যদি না পড়া থাকে এই বইটিও অবশ্যই পড়বেন,আর যদি সম্ভব হয় তাহলে "পথের পাঁচালী" টাই পড়ে নিবেন।

এটা নিশ্চিত করেই বলতে পারি,আপনার পড়া সেরা বইগুলোর তালিকার প্রথম দিকেই থাকবে বইটি।
হ্যাপি রিডিং! :-)
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:১০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×