
হিটলারের আত্মহত্যার পর ঠিক সতেরো দিন পর জার্মানি বিনাশর্তে আত্মসমর্পন করে মিত্রশক্তি বাহিনীর কাছে।জার্মান জাতিই শ্রেষ্ঠ জাতি আর তারাই সারা পৃথিবীতে প্রভূত্ব করবে,এই স্বপ্নে তাদের মাতিয়ে তুলেছিল হিটলার।কিন্তু যুদ্ধের পর তারাই পরাধীন হয়ে গেল!মিত্রশক্তি দেশটাকে দু'ভাগ করে নিজেদের দখলে নিয়ে নিল।আমেরিকা-ব্রিটেন-ফ্রান্সের অধিকৃত অংশে প্রতিষ্ঠিত হল ধনতন্ত্র,অন্যদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের দখলীকৃত অংশে প্রতিষ্ঠা করা হল সমাজতন্ত্র। একই ভাষা,সংস্কৃতি আর এক জাতি দু'টুকরা হয়ে গেল।প্রাচীর দিয়ে ভাগ করা হলো দুটি অংশকে! যা ঐতিহাসিক "বার্লিন ওয়াল" নামে পরিচিত।
১৯৬১ সালে এই দেওয়াল তোলার পর সোভিয়েত দখলীকৃত অংশে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল সমাজতন্ত্র।শোনানো হয়েছিল একটি সুখী রাষ্ট্রের গল্প! যেখানে কেউ অন্যের শ্রম নিয়ে মুনাফা করবে না,ব্যক্তি স্বার্থ মুছে যাবে,উৎপন্ন ফসল ও দ্রব্যের সমবন্টন হবে,সকলেই সমান শিক্ষা,আহার,বাসস্থান ও চিকিৎসা সুবিধা পাবে!এটাই তো বোধহয় ইতিহাসের স্বপ্ন ছিল!
সব দেওয়ালেরই কোথাও না কোথাও ছিদ্র থাকে,আর সেই ছিদ্র ক্রমশ বড় হয়।কংক্রিটের তৈরি বার্লিন প্রাচীরের ছিদ্রও বড় হতে লাগলো।মানুষ পালাতে লাগলো সমাজতন্ত্র থেকে,আর পালাতে গিয়ে লাশ হয়েও পড়ে থাকলো অনেকে!কিন্তু সমাজতন্ত্রে যে সুন্দর গল্প শোনানো হয়েছিল তাহলে কি তা রূপকথার গল্প ছিল?আর দেওয়াল বদ্ধ মানুষের যে উন্নয়নের কথা বলা হয়,তা কি শুধুই ফাকা বুলি?
অবশেষে ১৯৯১ সালের ৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক ভাবে ভাঙা হল বার্লিন প্রাচীর।মানুষের গড়া দেওয়াল মানুষই ভাঙলো।পতন হল সমাজতন্ত্রের।বিনা যুদ্ধে মিলিত হল দুই জার্মানি,বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে যা অবশ্যই এক বিরাট ঘটনা।আর সেই ঐতিহাসিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে লেখক ছুটে গিয়েছিলেন বার্লিনে।এর পর সেখান থেকে ছুটেন হাঙ্গেরি,রোমানিয়া ও পোল্যান্ডে।পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য অনেক দেশের মতই এসব দেশেও ঘটে গেছে পালাবদল।সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে গণতন্ত্রে ফিরে গেছে এসব দেশ।কিন্তু কেন?
গোষ্ঠিতন্ত্র,সামন্ততন্ত্র, ধনতন্ত্র পার হয়ে সাম্যবাদ,শোষনহীন সমাজের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথাই তো ছিল মানবসভ্যতার।আর সমাজতন্ত্রের আদর্শ তো তাই ছিল। ইতিহাসের স্বপ্নও তো এমন ছিল,এ স্বপ্নভঙ্গ হল কেন?
এই কৌতূহল ও প্রশ্ন নিয়েই এসব দেশে ঘুরেছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মিশেছেন স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে,জেনেছেন তাদের মতামত।
"ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ" বইটি ভ্রমনকাহিনী হলেও এসব দেশের প্রত্যক্ষ দর্শন ও অভিজ্ঞতাই তুলে ধরেছেন আমাদের সামনে।বইটির দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হয়েছে আরেক সমাজতান্ত্রিক দেশ রাশিয়ার মস্কো সফরের অভিজ্ঞতা, দেখানো হয়েছে এর ভেতরের চিত্র।
এসব দেশের ভেতরের গল্প, সমাজতন্ত্রের রূপ আর এর পতনের কারন জানতে চাইলে পড়তে পারেন এই বইটি।
হ্যাপি রিডিং!
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৭ দুপুর ১২:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



