somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আবু জাকারিয়া ৮৮
আমি মস্তিস্ক নিয়ে তাত্ত্বিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে গবেষনা করছি, মস্তিস্কের কাজের সঠিক রহস্য উদঘাটন ও প্রমান করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। আমি ইতিমধ্যে মস্তিস্কের বেশ কিছু রহস্য সম্পর্কে জানতে পেরেছি গবেষনার মাধ্যমে।

অচেতন/অর্ধচেতন অবস্থা- স্বপ্নের সাথে বাস্তব জগতের সম্পর্ক (স্বপ্ন বিজ্ঞান-১)

১০ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপ্নের সাথে বাস্তব জগতের সরাসরি কোন যোগসূত্র থাকতে পারে? অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, আমরা অর্ধচেতন অবস্থায় যখন কোন স্বপ্ন দেখি, তখন বাস্তব যগতের সাথে মস্তিস্কের কি কোন যোগসূত্র থাকে যার মাধ্যমে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আমি যখন স্বপ্ন নিয়ে গবেষনা শুরু করি, তখন প্রাথমিক পর্যায়ে মনে হত, স্বপ্নের সাথে শুধু মাত্র স্পর্শ আর শ্রবনের যোগসূত্র রয়েছে; অর্থাৎ, মনে করতাম, স্বপ্ন শুধুমাত্র এই দুটি বিষয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গবেষনার মাধ্যমে স্পষ্ট হলাম, স্বপ্ন আমাদের অনুভূত পাঁচ প্রকার ইন্দ্রিয় এমনকি দর্শন দ্বারাও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
বিজ্ঞানীরা আমার সাথে এবিষয়ে প্রথম দিকে পুরোপুরি একমত নাও হতে পারে, কারন বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নতুন, তেমনি একটি বিষয়ের ব্যাখ্যা করতে হলে তার সাথে সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করে নিতে হয় বিষয়বস্তু স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য।
আমার প্রতিপক্ষ বিজ্ঞানীরা হয়ত এটা বলবেন যে, আমাদের মস্তিস্ক ঘুমন্ত অবস্থায় বাস্তব জগতের অনেক কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে; তাহলে ঘুমের মধ্যে ঘটে যাওয়া বাস্তব জগতের বিষয়গুলো কিভাবে মস্তিস্কে স্বপ্নের উপর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে? এই প্রশ্নের মাধ্যমে এটা বোঝা যায়, আমাদের মস্তিস্ক ঘুমন্ত অবস্থায় বাস্তব জগতে ঘটে যাওয়া বিষয়বস্তু সম্পর্কে সম্পূর্ন অজ্ঞ থাকে।
হ্যা। আমিও আমার প্রতিপক্ষ বিজ্ঞানীদের সাথে একমত, অচেতন অবস্থায় মস্তিষ্ক বাস্তবের ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে অজ্ঞ। কিন্তু আমি সম্পর্ন কথাটার সাথে একমত নই। অচেতন হলেই যে আমাদের মস্তিষ্ক বাইরের বাস্তব জগত থেকে অজ্ঞ হয়ে পড়বে এমন কোন কথা নেই। বরং, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমাদের মস্তিষ্ক অচেতন অবস্থায়ও বাইরের বাস্তব যগতে ঘটে যাওয়া ঘটনা সম্পর্কে সচেতন থাকে।
অচেতন অবস্থা ও বাস্তব জগতঃ বাস্তব জগতে যে ঘটনাগুলো ঘটে থাকে, তা আমাদের মস্তিস্ক ৫ ধরনের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অনুভব করে থাকে। ইন্দ্রিয়গুলো হলঃ
১। স্পর্শ,
২। শ্রবন,
৩। চক্ষু,
৪। স্বাধ,
৫। নাক।
এই ইন্দ্রিয়গুলোর প্রতিটি আমাদের জীবন প্রবাহ বা বুদ্ধিমত্তাকে নিয়ন্ত্রন করে থাকে। আমরা যখন সচেতন থাকি, তখন ইন্দ্রিয়গুলো কাজ করতে থাকে। অর্থাৎ আমরা বাস্তব জগত সম্পর্কে সচেতন থাকি। কিন্তু, মনে করা হয়ঃ অচেতন অবস্থায় এসব ইন্দ্রিয় বাইরের বাস্তব জগত সম্পর্কে সম্পূর্ন অচেতন থাকে। আমার প্রতিপক্ষ বিজ্ঞানীদের এই ধারনাটি ভুল। এই ইন্দিয়গুলো অচেতন অবস্থায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বেই, এমন কোন কথা নেই। বরং, এই সব ইন্দ্রিয় অচেতন অবস্থার বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সক্রিয় থাকে। এবং আমাদের মস্তিস্কের উপর প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে আর আমাদের স্বপ্নও এর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। আমি যেটা বলতে চাই, তার মূলকথা হলঃ আমরা সচেতন অবস্থার মতই অচেতন অবস্থাতেও শরীরে স্পর্শ অনুভব করতে পারি, কান দিয়ে শব্দ শুনতে পাই, নাক দিয়ে গন্ধ শুকতে পাই, জিহ্বা দিয়ে স্বাদ পাই- এমনকি কখনও কখনও চোঁখ দিয়েও দেখতে পাই। আর এসব ক্রিয়া অচেতন অবস্থায় আমাদের মস্তিস্কে যে প্রভাব ফেলে, তা স্বপ্নের উপরও ক্রিয়া করে থাকে। অর্থাৎ আমরা অচেতন অবস্থায় কি স্বপ্ন দেখব, তা অনেকটাই নির্ভর করে অচেতন অবস্থায় আমরা কি অনুভব করছি তার উপর। যেমন অচেতন অবস্থায় পায়ে ব্যাথা অনুভব করলে, স্বপ্নে সাপে কাটার দৃশ্য দেখতে পারি, দাতে ব্যাথা অনুভব করলে স্বপ্নে দাত পড়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারি- ইত্যাদি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×