somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অফুরন্ত জলরাশীর ছলছল শব্দ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৃত্তাকার লীলাভূমি অভয়নগরের পুড়াখালী বাওড়

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ৯:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বি.এইচ.মাহিনী: অভয়নগরের পুড়াখালী ‘বাওড়’ বাংলাদেশের একটি দৃষ্টিনন্দন ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান। যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া বাজারঘাট পার হলেই শংকরপাশা গ্রাম। এখান থেকে মাত্র ১০টাকার পথ দিয়াপাড়া নতুন বাজার। আর এ বাজার থেকেই চোখে পড়ে এ নান্দনিক বাওড়টি। ‘বাওড়’ কী? বৃত্তাকারে আবদ্ধ সু-বিশাল জলরাশির নাম ‘বাওড়’। যতদুর চোখ যায় শুধুই জল আর জল। কূলের দেখা মেলেনা এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের। কালো জল খেলা করছে সানন্দে। জলবাশির চারিদিকে বিচ্ছিনভাবে পদ্মপাতা ও শালুকের মেলা। চারিদিকে হাজারো বৃক্ষের সমাহার। ফাগুনের হাতছানিতে বৃক্ষগুলো যেন নতুনভাবে সাজতে প্রস্তুত। অভয়নগরের দর্শনীয় ও নান্দনিক স্থান সমূহের মধ্যে পুড়াখালি বাওড়টি অন্যতম। এ বাওড়ের আয়তন ৫৪.২৫ হেক্টর। বাওড়টি প্রকৃতির অনুপম সাজে সজ্জিত। যেন একটি নির্ঝর, সজ্জিত উর্বর জলাভূমি। বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক, লেখক ড. মোহাম্মদ আমীন তার ‘অভয়নগরের ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ‘২০০০ খিষ্টাব্দের পূর্বেও বাওড়টি কুচুরিপানা ও হাজিবনে পরিতক্ত্য ছিল। ২০০০ সালের ২০ জুলাই ইফাদ প্রকল্পের আওতায় বাওড়টি সংস্কার করে আধুনিক পদ্ধতিতে মৎসচাষের আওতায় এনে ১০৮ জন মৎসচাষীকে মৎস্য চাষের জন্য হস্তান্তর করা হয়।’ ১০৮ জন কৃষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘পুড়াখালি বাওড় ব্যবস্থাপনা কমিটি’র সভাপতি আব্দুর রহমান জানান, জেলা ভূমি অফিসের মাধ্যমে ও উপজেলা ভূমি অফিসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বর্তমানে বাওড়টিতে মৎস চাষ পরিচালিত হচ্ছে। এখানে সাধু পানির মাছ চাষ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে রুই, মৃগেল, কাতল, সিলভার কাপসহ আরো অনেক মাছ। এখন বাওড়টি কাজল কালো জলের টলমল লাবনী; চারদিক পরিষ্কার যতেœর ছাপছাপ ছোঁয়ায় যেন নিকোষ মাধুরী। ভেড়ীবাধ, অভয়াশ্রম, ফিস ল্যান্ডিং সেন্টার, পাঁটা, বাঁধ ইত্যাদি পরিকল্পিত ব্যবস্থা গুলোর মাধ্যমে বাওড়টি মৎস ও মনুষ্য উভয়ের জন্য একটি চমৎকার স্থানে পরিণত হয়েছে। বাওড়ের নিকোষ কালো জলবাশির দিকে তাকালে মত উদারতার ব্যকুল হয়ে উঠে। হারিয়ে যায় প্রকৃতি বিশাল নীলিমায়। বাওড়টি শুধু মানুষ ও মাছের জন্য নয়; অতিথি পাড়ির জন্যও বিখ্যাত। এ বাওড়টি হাজার হাজার অতিথি পাখির চিৎকারে গগণ মুখরিত থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। সকল ঋতু ও দিনে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের কারণে পাখি মারা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই প্রতিদিন প্রতিবছর প্রচুর অতিথি পাখি পুড়াখালি বাওড়ে নিঃসঙ্কায় চড়ে বেড়ায়, মনের আনন্দে সাঁতার কাঁটে। অতিথি পাখির মাধ্যে সাইবেরিয়া থেকে আগত বিভিন্ন প্রকার হাঁস উল্লেখযোগ্য। অতিথি পাখির মধ্যে প্রচুর পাতিহাঁস, কাঁদাখোচা, বক, ডাহুক, পানকৌড়ি, দেখা যায়। বাওড়ের পাড়ে পাড়ে বেড়ায় শালিক, ঘুঘু, মাছরাঙা, গাংচিল। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক এই নয়ানাভিরাম বাওড়টি দেখতে আসেন। কেউবা আসেন বিকেলের পড়ন্ত সূর্যের লালিমা মাখা রোদ্দুর পোহাতে। বাওড়ের পাড়ে দাড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার অনুভূতি সত্যিই অবর্ননীয়। বিকেলের শেষভাগে ও সন্ধ্যার প্রারম্ভে সূর্য একটি রক্তিম থালার ন্যায় দৃশ্যমান হয়। এভাবে আস্তে আস্তে সূর্যিমামা মলিন হতে থাকে ও এক পর্যায়ে দর্শকদের দৃষ্টি ফাঁকি দিয়ে হারিয়ে যায় গহিন অতলে। সে যে কী মনোরম দৃশ্য! তা চর্মচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস হবার নয়। নয়নাভিরাম এ বাওড়টি সারা বছরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পর্যটক এসে থাকে বলে জানান ৫ নং শ্রীধরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বাপ্পী। দৈনিক নওয়াপাড়া’র এ প্রতিবেদককে তিনি আরো জানান, এখানকার সৌন্দর্য দেখতে বহু মানুষ পিকনিক, শিক্ষাসফর বা অবসর সময় কাটানোর জন্য এসে থাকে। পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রসংঙ্গে তিনি বলেন, বাওড় ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে পিকনিক স্পট বরাদ্দ নিলে বা তাদের অনুমতি নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলে সাধারণত তেমন কোন অসুবিধা হয় না। তবে আশে পাশের কিছু বখাটে ছেলে-পেলে সুযোগ বুঝে আনেকের ক্ষয়-ক্ষতি করে থাকেও বলে তিনি জানান। প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয় বৃদ্ধি করলে এ সমস্যার সমাধান হওয়াও সম্ভব বলেও তিনি জানান।
১১-০২-১৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×