১. বিদেশ থাকাকালীন সময়ে দেশে থাকা বন্ধুর(চাকুরিজীবি) কিছু টাকার দরকার পড়লো। পাঠিয়ে দিলাম। কিছুদিন পর আবারও দরকার পড়লো। পাঠালাম। হাওলাত হিসেবে নয়। ছোট অংক। তাই বন্ধু হিসেবেই পাঠাচ্ছিলাম। বিদেশে থাকা অন্য এক বন্ধু জানতো আমি মাঝে মাঝে টাকা পাঠাই দেশের এক বন্ধুকে। সে আমাকে বললো, ওর(দেশে থাকা বন্ধু) অভ্যাস খারাপ করে দিচ্ছ। আমি বললাম, বেস্ট ফ্রেন্ড, ব্যপার না। আরো ২ বার পাঠানোর পর আমার একটু খারাপ লাগা শুরু করলো। বিদেশে থাকা বন্ধু বললো, ও আবারও চাইবে। আমি বেট ধরলাম, না, আর চাইবে না। কিছুদিন পর আমি বেট হেরে গেলাম। আর পাঠাইনি। এখনো বন্ধুত্ব আছে, তবে হৃদ্যতা নেই...
২. নামাজী বড় ভাই। খুব ভালো। অনেকদিনের সম্পর্ক। ব্যবসায়ী। বিদেশ থেকে ফেরার পর টাকা চাইতো ব্যবসার জন্য। লাভ সহ ফেরত দিবে - এই বলে। সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশংকায় 'না' করতাম। অনেকদিন পর একটা যৌথ ব্যবসার অফার করলো কয়েকজন মিলে। আমাকে শেয়ার দিতে বললো। আমিও বাড়তি ইনকামের আশায় ইনভেস্ট করলাম। ব্যবসায় লাভ হয় না। কথা ছিল টাকা উঠানোর জন্য ২/৩ মাস সময় দিলেই হবে। নামাজী বড় ভাই। কাগজপত্র হয়নি। আমার শেয়ার ফেরত চাইলাম। দুই বছরের বেশী হয়ে গিয়েছে। ফেরত দিচ্ছে না...
৩. এক বন্ধু বাসা বদলাবে পরিবারের সাথে রাগ করে। ফার্নিচার লাগবে। কিছু টাকার দরকার। তাড়াতাড়ি দিয়ে দিবে বললো। বিদেশ ফেরত আমার অনেক লিকুইড মানি। দিলাম। চার বছর হয়ে গিয়েছে। লজ্জা পাবে বলে মনে করিয়ে দেইনা। এখনো দেয়নি...
৪. নামাজী বন্ধু। অনেকদিনের সম্পর্ক। ব্যবসায়ী। বিদেশ থেকে ফেরার পর..........আমিও বাড়তি ইনকামের আশায় ইনভেস্ট করলাম।......কাগজপত্র হয়নি। দুই মাসেই টাকা ফেরত দেয়ার কথা। দুই বছরের বেশী হয়ে গিয়েছে। ফেরত দিচ্ছে না...
৫. বন্ধুত্ব জিনিসটা অনেক বড় ব্যপার। আমার কাছে এটার অনেক মূল্য। আজকের প্রজন্ম বন্ধুত্বকে কীভাবে দেখে জানিনা। আমি এটা বলছি না যে বন্ধুকে বিশ্বাস করার দরকার নেই। কারণ, সবার বন্ধু এমন হবে তা তো নয়। আমি এটাও বলছি না যে, বন্ধুকে বিপদে সাহায্য না করতে। বন্ধুর দ্বারা বন্ধুর উপকার হলে সেই বন্ধুর যে তৃপ্তি সেটা কেনাভাবেই অর্জন করা সম্ভব নয়। হয়তো আমার বেলায় এমন হয়েছে। সবার বন্ধু এমন হবে তা তো নয়...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



