
১. এই কথাটা বলেছেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাইয়িদ। 'মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়' বলেও একটা কথা প্রচলিত আছে। কোন কোন সফল ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে এ কথাটা খুবই প্রযোজ্য। অনেক সফল মানুষের জীবনী পড়লেই জানা যায়, কীভাবে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেছেন তেনারা। তবে বাংলাদেশের অন্য সব ক্ষেত্রে স্বপ্ন দেখা গেলেও রাজনীতিতে স্বপ্ন দেখে কোন লাভ নেই। কারণ, এ দেশে সর্বোচ্চ শিখড়ে যাওয়ার জন্য স্বাভাবিক কোন ব্যবস্থা নেই।
২. এ দেশের রাজনীতির কিছু কমন বৈশিষ্ট্য -
* দুই পরিবারের যে কোন একটাকে বেছে নিতে হয়
* তৃণমূল থেকে বড় নেতা হওয়া খুবই কঠিন
* ডোনেশান, শো ডাউন, ক্যাডার(সন্ত্রাসী) বাহিনী ছাড়া দলে শক্ত জায়গা পাওয়া যায় না
* গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে প্রধান নেতা হওয়ার কোন সুযোগ নেই
* তৃণমূলে জনপ্রিয়তা থাকলেও পেশী শক্তির কাছে নত হতে হয়
* বিশেষ পেশাজীবিদের ক্ষেত্রে বিপক্ষ দল ক্ষমতায় থাকলে সব সুবিধা থেকে বঞ্চিত এমনকি মামলায় জর্জরিত হতে হয়
* এ অবস্থায় কেউ স্বপ্ন দেখতে পারে না প্রধানমন্ত্রী হওয়ার। বেশী অনুগত থাকলে বড় জোর প্রেসিডেন্ট/মন্ত্রী পর্যন্ত
৩. ট্রাম্প যে প্রেসিডেন্ট হবে বা হতে চায় সে ধরনের কথাবার্তা বা স্বপ্ন দেখা শুরু হয় ১৯৮০ সালে(view this link)। ১৯৯৭ সালে তাকে নিয়ে মজা করে একটা টিভি নাটকে 'ভবিষ্যতের প্রেসিডেন্ট' হিসেবেও প্রচ্ছদ করা হয়!(১ম ছবি) টেরেসা মে-ও একই ভাবে রাজনীতিতে আসার পর ব্রিটেনের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি এমনকি মনঃক্ষুন্ন হয়েছিলেন কেন তেনার আগে মার্গারেট থ্যাচার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। ঠিক একই ভাবে ইমরান খানও নিশ্চয়ই স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী হবেন...

৪. অথচ আমাদের দেশে জামায়াত ছাড়া আর কোন বড় দলে সাধারণ থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা হওয়া যায় না। শেখ হাসিনার পর শেখ রেহানা/জয়, খালেদা জিয়ার পর তারেক/জোবায়দা, এরশাদের পর রওশন/ জি এম কাদের। কেউ এমনকি সাধারণ সম্পাদক/মহাসচিব পদটাও ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করেন না। অথচ এটা করলে দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা বাড়ত। দায়িত্ব বাড়ত। ধীরে ধীরে তৃণমূলেও গণতন্ত্র পৌঁছে দেয়া যেত...
৫. যেভাবে বাপ, বেটা, বউ - রা নমিনেশন পাচ্ছে, সেখানে তৃণমূলের কেউ আর বড় স্বপ্ন কীভাবে দেখবে? তবুও আশায় থাকি, কোন একদিন আমাদের দেশেও সুন্দর গণতন্ত্র আসবে। পরিবারতন্ত্রের অবসান হবে। সবাই ভোটের মাধ্যমে তাদের নেতা নির্বাচন করবে। যে কোন সৎ রাজনীতিবিদই দুই পরিবারের সদস্য হওয়া ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

