somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জ্যামের স্বর্গরাজ্যে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই কেন ম্যারাথন

১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজ ১০ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বাঙালি ১৯৭১ সালে ৯ মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল ঠিকই, কিন্তু সেই স্বাধীনতা যেন অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে। ১৯৭২ সালে এদিনে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছে। বাংলার মায়ের কোলে ফিরে এসেছিল খোকা।

সেই প্রত্যাবর্তনকে বাঙালি স্বতস্ফূর্তভাবে পালন করবে সেটা স্বাভাবিক। এবারও তার ব্যতিক্রম ছিল না। যদিও করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে উদযাপনে কিছুটা ভাটা ছিল। মুজিববর্ষ থেকে শুরু করে অনেক অনুষ্ঠানই সীমিত হয়েছে গত বছর থেকে, করোনার কারণে। তবে এমন অবস্থায়ও ভোগান্তিতে পড়েছে ঢাকার মানুষ।

ঢাকার মানুষ আজ অবর্ণনীয় ভোগান্তির শিকার হয়েছে। এ সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ঘর থেকে বের হয়েই চলার স্বাধীনতায় বাধা পেয়েছে ঢাকাবাসী। কারণ, ঢাকা ম্যারাথন। এই ম্যারাথন আয়োজনের নামে পুরো ঢাকার প্রধান কয়েকটি সড়ক বন্ধ ছিল। হাতিরঝিল এলাকাও বন্ধ ছিল। এর প্রভাব পড়েছে ঢাকা শহরের অলিতে গলিতে।

রাজধানীর রামপুরা এলাকা থেকে কারওয়ান বাজারের দিকে যাওয়া মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন সবচেয়ে বেশি। এমনই কয়েকজনের সাথে কথা হলো। একপর্যায়ে তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানালেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যামে বসে থাকার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। জ্যামের স্বর্গরাজ্যে কর্মঘণ্টার এমন অপচয় যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

এসব মানুষের আজ একটাই প্রশ্ন ছিল, সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসেই কেন করতে হবে এসব? এতে কি বঙ্গবন্ধুর সম্মান বাড়ে? বঙ্গবন্ধু তো কোনো ভোগান্তির সৃষ্টি করেননি। সেই হিসাবে এটা গতকাল শনিবার বা তার আগের দিন শুক্রবার করা যেত? তাহলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যেত? নাকি সাধারণ মানুষ ভো্গান্তিতে না পড়লে তারা এই ম্যারাথনের কথা মনে রাখতো না?

এমন কষ্টের মধ্যেও একজন দিলেন রসিকতার রসদ। বলতে হয় বাঙালির রসবোধের কথা। জ্যামে আটকে থেকে সারওয়ার নামের একজন বললেন, ‘যে শহরে সাধারণ মানুষ অলওয়েজ হাজার মাইল বেগে দৌড়ের ওপর থাকে, সেখানে ম্যারাথন আয়োজন এক ধরনের বিলাসিতা নয় কি? কী দরকার ছিল সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে ম্যারাথন আয়োজনের?’

সব কথার মূল কথা হলো-- পরবর্তীতে এমন যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে কর্তৃপক্ষ জনভোগান্তি লাঘবের বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে আশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০২১ রাত ১০:২০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×