দেশের প্রধানতম নিয়ন্তা এখন মিডিয়া! প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক- আমাদের মিডিয়া নির্ভরতা অনেক বেশি আগের চেয়ে। আবার মিডিয়া চাইলে অনেক পরিবর্তন সম্ভব আগে পরে আমরা দেখেছি। ইতিহাসে দেখেছি মিডিয়ার প্রতি সরকারের ভীতি থেকে দাসানুদাস চার মিডিয়া বাদে সবগুলোকে বন্ধ করে দিতে।
তবে এবার চমক নি:সন্দেহে ভিন্ন। ৭২-৭৫ এর ভুল গুলো ডিজিটালি মডিফাইড করে ঐ একই কাজ বা তারচে বেশি হচ্ছে কিন্তু সফট ভাবে! ফলে মানুষ শুধুই বিস্মিত হচ্ছে! প্রতিক্রিয়াও যেন স্তব্দ হয়ে গেছে।
বিগত আওয়ামী আন্দোলনে মিডিয়া ট্রিটমেন্ট, গত বিএনপির আন্দোলনে সময়ের মিডিয়া ট্রিটমেন্ট তুলনা করলেই অনেক কিছু পানির মতো স্পষ্ট হয়ে যায়। আর তাইতো সরকারে অগ্রিম প্রতিরক্ষা নীতিতে যেমন আসছে সম্প্রচার নীতিমালার নামে মিডিয়া নিয়ন্ত্রনের কালা-কানুন, তারচে চমকপ্রদ নিউজ হচ্ছে অনুদান পাচ্ছেন ১৫৩ সাংবাদিক http://www.pressbarta.com/archives/7428
নগদ এক লাখ করে বিশেষ শ্রেণী এবং নগদ পঞ্চাশ হাজার করে বাকীরা এই টাকা পাচ্ছেন। কথা হচ্ছে এই নিউজটা নিয়েই।
না। তাদের অনুদানে কারো কোন আপত্তি নেই। মানুষের দুরবস্থায় মানুষ অনুদান গ্রহন করতেই পারে। সাহায্য সহযোগীতা মানবতার উত্তততম কাজ সমূহের অন্যতম। কিন্তু তা যখন ব্যাপক এবং গণহারে একটা বিশেষ শ্রেণির বিশেষ অংশকে বিশেষ উদ্দ্যেশ্যে প্রদান করা হয় তখন আমজনতা ভ্র-কুচকাতেই পারে। তবে কি সরকার মিডিয়ার ব্যাপক অংশে নিয়ন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই অনুদানের নামে অর্থ উৎকোচ দিয়ে মিডিয়া নিয়ন্ত্রন করতে আগ্রহী???!!! কারণ শাস্ত্র বলে কারো কিছূ খাওয়ায়- সে মূখের উপর তোমাকে চক্ষু লজ্জ্বায় হলেও কিছূ বলবে না।
দুর্জনের প্রশ্নেরতো শেষ নেই। সরকারের অনুদানকে সাদা চোখে দেখলেও কিন্তু অনেক প্রশ্ন থেকেই যায়। সাগর-রুনি ছাড়াও বহু জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে যারা তালিকা ভুক্ত হলেন- তাদের কি আত্মমর্যাদায় কোন ঘা লাগেনা?
আর সেই প্রশ্নের উত্তর পজিটিভ হলে শংকায় পড়ে দেশ। জাতি। আমজনতা।
আইন, বিচার, প্রশাসন- সবকিছূকেই ব্যাপক দলীয় বৃত্তাবদ্ধ করার পর শেষ ভরসা মিডিয়াও যদি একপেশে হয়ে যায়- তখন মানুষের পায়ের নীচে মাটি থাকে না। হয় তেলাপোকা তত্ত্বে মাথা গুজে বেঁচে থাকো.. অথবা ডু অর ডাইয়ের দিকে ডাইভার্ট হয় শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত, অসহায় আমজনতার অবস্থান গ্রহন করো। মানুষ যাবে কোথায়? একদিকে সময়ের পরিবর্তনে বদলে যাচ্ছে জীবন বোধ, তার টানাপোড়েনে হাসফাস মানুষ! মড়ার উপর খাড়ার ঘা রাজনীতির নামে পূজিবাদী, ভোগবাদী, সুবিধাবাদীদের শোষন,,,, তার উপর যদি বলার জায়গাটুকুও বিক্রি হয়ে যায়- তখন অসহায় হা-হুতাশ ছাড়া কিইবা করার থাকে।
শাস্ত্রে বলে অভাবে নাকি স্বভাব নষ্ট। আবার নীতিবোধ এবং বিবেকের কাছে দাড়িয়ে নোবেল থেকে ধরে বড় বড় পদক, পুরস্কার ফেরত দেবার ইতাহাসও আছে।
আমরাতো ভালটা আশা করতেই পারি।
মিডিয়া জেগে উঠুক স্বকীয় স্বাতন্ত্রে। দেশ জাতি এবং বিবেকের বোধে জাগ্রত হোক তাদের চেতনা। গর্জে উঠুক কলম স্বাধীনভাবে। সকল ভয়ভীতি, লোভকে পাশ কাটিয়ে।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



