somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্লিজ মেরোনা! বাঁচতে দাও! (ট্রিবিউট টু যশোর রোড রেইন ট্রি)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি নরোম সরম আদুল গা তখন
বাতাসে নুয়ে পড়ি, একটু তাপেই মিইয়ে যায় জীবন
তোমরা দেখোনি-তোমাদের পিতা-মহ, প্র-পিতামহের ভালবাসা
আমরাই স্বাক্ষী! কি পরম আদরে রুয়েছিল জমিনে
ঝূরঝুরে মাটিতে নরোম শেকড়ে দাড়াতে পারিনা!
কঞ্চিবাঁশের সাথে বাঁধে ভরসার বাঁধন
চারপাশে ঘের দিয়ে নিরাপত্তায়;
প্রতিদিন সকাল বিকাল জল সিঞ্চন
পরেই না আমাদের এ সমৃদ্ধ জীবন!



তাদের চোখে মূখে কি মায়া ছিল
অসীম প্রেমে প্রকৃতির মাঝে ছড়িয়েছে ভালবাসা
আমরা শুধু হাওয়ার তালে পাতা নাড়িয়ে খূশি প্রকাশ করতাম
চকচকে লকলকে বেড়ে ওঠা দেখে কি আনন্দ!
সন্তানদের নিয়ে আসতেন কাছে নাম ধরে চিনাতেন
আর শেখাতেন আমরা কত বন্ধু মানুষের
জীবন যাপনের, অক্সিজেন নিয়ে কার্বন খেয়ে
কিভাবে চলছে জীবন চক্র!

নিষ্পাপ শিশুরা মুগ্ধ হয়ে ছুয়ে দিত
কি আদর, আমরা দল বেধে নেচে উঠতাম
হাওয়ার তালে; দুষ্টু ছিল কিছু, ঘচাং করে ছিড়ে নিত
পাতা! মট মট করে ভাংত কচি কচি হাত
দাদুদের কারো চোখে পড়লে খেত তাড়া-সেকি ভোঁ দৌড়!

ঝড় ঝঞ্জা পেরিয়ে নিজের পায়ে দাড়ালাম যখন
দাদা-দাদু, দিদা এসে বিশ্রাম নিতেন, তাদের ছায়া দিয়ে
কি যে প্রশান্তি পেতাম! অনির্বচনীয়
হাওয়াকে ডেকে আনাতাম-তাদের দু’দন্ড শান্তি দিতে!



কত প্রেম, কত বিরহ কত মানুষের পদচারনা
কালের হাত ধরে আমরা নিরব স্বাক্ষী হয়ে রইলাম
একদিন খুব কেঁদেছিলাম- প্রকৃতি প্রেমিকের শব মিছিল
যেদিন চলে গেল সামনে দিয়ে- উফফ! মূখটাও দেখতে পাইনি
সাদা কাফনে মুড়ানো! খূব চিৎকার দিয়ে কাঁদতে মনে চাইছিল
না পেরে ঝড়ো হাওয়ার তালে দুমড়ে মুচড়ে নিজের কষ্ট লুকিয়েছি।

কত শাসন শোষন কত রাজা মহারাজার আসা যাওয়া
নিরবে দেখে চলেছি- বৃটিশ থেকে পাকিস্তান!
অবশেষে এল মহান একাত্তর!



স্রোতের মতো মিছিল দেখেছি উদ্বাস্তুর
আহা কি কষ্ট! স্বাধীনতার জন্যে, দেশের জন্যে
সংগ্রামের কত অজানা কাহিনী, কত গোপন অশ্রুজল
বীর সেনাদের গুলি গায়ে লাগলেও যেন ব্যাথা হতো না
শত্রুর গুলিতে মনে হত, বুকটা ঝাজরা হয়ে যেত!
ডালে ডালে লুকিয়েছে কত মুক্তি সেনা!
কত শত্রু কনভয়ের উপর মনে হয়েছে ভেঙ্গে উপড়ে পড়ি-

ন’ মাস পর : বিজয়ের মিছিলে আহ কি প্রশান্তি!
পাতায় পাতায় নাচন উঠেছিল! জয় বাংলা শ্লোগানে
ঘরে ফেরার মিছিলে প্রতিটি মূখে কি শান্তি! ক্লান্ত হলেই
দু’দন্ড জিরিয়ে নিত ছায়ায়! জীবন ধন্য মনে হত!


স্বাধীনতার পর ছেচলিলশ বছর!
হঠাৎ কেঁপে উঁঠি। কুঠারের আঘাতে কেঁপে উঠে মন!
বিষন্ন মনে দেখি কাঠুরেরা নির্মম আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে দেহ
আমাদের জীবন বিপন্ন! মৃত্যু অত্যসন্ন!!

সারি সারি দীর্ঘ বন্ধুদের
পাতায় পাতায় হাহাকার! নিরবে ছূঁয়ে যায় একে অন্যের বেদনা!
শিশিরের আড়ালে, শো শো শব্দে, বুক ফাটা কান্না লুকাই!

সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:৫৩
৩৭টি মন্তব্য ৩৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমলারা কেন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলে গেলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ২:২০


ডিপ স্টেট নিয়ে আজকাল চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ফেসবুকের কমেন্ট বক্স সবখানেই বেশ জমজমাট আলোচনা। কেউ বলছেন দূতাবাস, কেউ বলছেন মিলিটারি, কেউ আবার আঙুল তুলছেন কোনো বিশেষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরা ও সিহাহ সিত্তায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:২৮



সূরাঃ ৬ আনআম, আয়াত নং ১৫৩ এর অনুবাদ-
১৫৩।আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'দুই শুকর

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৫

'যাদের জ্বালায় বিশ্ব এখন
অশান্তিতে মুখর,
'লাল- শেতকায়' মানবরুপি
দুই বন্য শুকর।

বিশ্বের সব সূখী মানুষের
শত্রু যখন 'পুওর',
বন্ধুু'যে তার লেজপাকানো-
ঘাড়তেড়া দুই শুয়োর।

ডাস্টবিনের আবর্জনায়
ময়লা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৯:২৫



আমি একজন প্রতিভা শূন্য মানুষ।
আমি দুটো কাজই পারি, এক, মাথা নিচের দিকে রেখে পা উপরের দিকে রাখতে। তাও বেশিক্ষণ পারি না। বড়জোর এক মিনিট। দুই হচ্ছে আমি সুপারম্যান... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×