somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সরকার ও রাষ্ট্র : নাগরিক অধিকার আর বাস্তবতা

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সম্প্রতি কতৃৃত্ববাদী সরকার বা তার সমর্থক, সুশীল গং এক ভয়ংকর তাত্ত্বিক খেলা ব্যবহারিক ভাবে খেলছেন।
তারা `সরকার' বিরোধীতাকে `রাস্ট্র' বিরোধীতার তকমা দেয়ায় উঠে পড়ে লেগে আছেন। এবং বেশ সুফলও পাচ্ছেন।
সাথে মুক্তিযুদ্ধের মতো পবিত্র সার্বজনীন চেতনাকেও দলীয় বৃত্তাবদ্ধে আবদ্ধ করে ভিন্নমত বা ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আঘাত করতে নির্বিচার ব্যবহার করছেন। ফলে যে কোন প্রকার ভুল, অন্যায় বা অবিচারের প্রতিবাদ করতে গেলে তা সরকার বিরোধীতার বদলে তকমা দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্র বিরোধিতার বা বানানো হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা। রাষ্ট্রদ্রোহীতা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংযোগের ফলে তা ব্যাপক ক্ষতিকর মাত্রা লাভ করছে।
যার প্রতিক্রিয়ায় মানুষের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রগুলো ক্রমশ সংকুচিত হতে হতে প্রায় শুন্যে নেমে আসছে। যা একটা জাতির জন্য ভয়ংকর এক অশনিসংকেত। ভিন্নমতের দলন দমন নতুন কিছু নয়, কিন্তু ব্যাক্তির ভুল, বা প্রতিষ্ঠানের ভুল, সরকারের ভুলকে আড়াল করতে, বিরোধী মতকে ঠেকাতে রাষ্ট্রকে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার নিন্দনীয় শুধু নয় অপরাধ বৈকি।

সাংবিধানিক ভাবে সকলের সকল সমান, ন্যায়সংগত অধীকারকে ত্রি-মাত্রার এক আবেগের আড়ালে কাবু করা হচ্ছে। মিথ্যা এবং অন্যায় ভাবে সরকার এবং রাস্ট্র সম্পর্কে মানুষের স্বল্প জানার সুযোগে তারা দুটোকে একে পরিণত করেছে। সাথে সার্বজনীন মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় বৃত্তাবদ্ধে আবদ্ধ করে তার মহত মহান অবস্থানকে খেলো করে তুলছে।

বিষয়টি বোঝার আগে চলুন সরকার আর রাষ্ট্রের মাঝে ব্যবধানটা স্পষ্ট বুঝে নেই।

সরকার ইংরেজীতে Government. হলো কোনো দেশের সর্বোচ্চ সংস্থা ও কর্তৃপক্ষ যার মাধ্যমে দেশটির শাসন কার্য পরিচালিত হয়। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি যেমন সংসদ সদস্যদের দ্বারা গঠিত হয়। সরকারের মৌলিক দায়িত্ব জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী দেশের নিরাপত্তা বিধান করা, সমাজের শান্তি বজায় রাখা, মানুষের জান-মাল রক্ষা করা এবং বিবাদের ক্ষেত্রে বিচারকার্য পরিচালনা করা। সরকার তার ওপর আরোপিত দায়িত্বসমূহ পালনের স্বার্থে রাজস্ব আহরণ করে এবং শাসনকার্য পরিচালনা ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য তা ব্যয় করে থাকে।

এই সরকার আবার আচরণ এবং কর্মপদ্ধতি অনুসারে বহুবিধ রকমের হয়ে থাকে।
নৈরাজ্যবাদী, কর্তৃত্ববাদী, সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র, একনায়কতন্ত্র, রাজতন্ত্র,সংকীর্ণ গোষ্ঠীতন্ত্র, ধনিকতন্ত্র, দিব্যতন্ত্র,সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী সরকার, আইনানুগমনবাদী সরকার ইত্যাদি।

সংক্ষেপে সবার স্বরুপ জেনে নিন-
নৈরাজ্যবাদী – এটি এমন একটি রাজনৈতিক দর্শন যা রাষ্ট্রকে অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ও অবাঞ্ছনীয় মনে করে এবং রাষ্ট্রহীন সমাজের সপক্ষে মতপ্রকাশ করে।

কর্তৃত্ববাদী সরকার – কর্তৃত্ববাদী সরকার কোনো প্রজাতন্ত্র বা যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রের সর্বময় কর্তৃত্বের সপক্ষে মতপ্রকাশ করে। এটি অনির্বাচিত শাসকদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যবস্থা, যাঁরা কিছুটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা দিয়ে থাকেন।

সাংবিধানিক রাজতন্ত্র – এই জাতীয় সরকারে একটি রাজতন্ত্র বিদ্যমান; কিন্তু উক্ত রাজতন্ত্রের ক্ষমতা আইন বা ঘোষিত সংবিধানের দ্বারা সীমাবদ্ধ। উদাহরণ: যুক্তরাজ্য।

সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র – এই জাতীয় সরকারের ক্ষমতা আইন বা আনুষ্ঠানিক সংবিধান দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং এই সরকার সংশ্লিষ্ট দেশের জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ দ্বারা নির্বাচিত। উল্লেখ্য, প্রাচীন স্পার্টা ঘোষিতভাবে ছিল একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র; কিন্তু সেদেশের অধিকাংশ মানুষই ভোটদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকতেন। আবার প্রথম যুগের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ছিল গণতান্ত্রিক দেশ; কিন্তু ক্রীতদাসদের সেযুগে ভোটদানের অধিকার ছিল না।

গণতন্ত্র –
গণতন্ত্র হল এমন একটি সরকার যা দেশের জনসংখ্যার বৃহত্তম অংশ দ্বারা নির্বাচিত। এই সরকার সাংবিধানিক রাজতন্ত্র বা সাংবিধানিক প্রজাতন্ত্র দুইই হতে পারে। গণতন্ত্রের ব্যক্তির ভোটদানের অধিকার তার সামাজিক মর্যাদা বা সম্পদের উপর নির্ভরশীল নয়।

একনায়কতন্ত্র – একক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় শাসিত দেশের সরকার। স্বৈরাচারী শাসক সাধারণত বলপূর্বক ক্ষমতা দখল করেন। (আরও দেখুন স্বৈরতন্ত্র ও রাষ্ট্রতন্ত্র)
রাজতন্ত্র – এমন ব্যক্তির শাসন যিনি শাসনক্ষমতা উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত হন।
সংকীর্ণ গোষ্ঠীতন্ত্র – একই স্বার্থবিশিষ্ট ছোটো ছোটো গোষ্ঠী বা পরিবারের শাসন।
ধনিকতন্ত্র – ধনবান শ্রেণির শাসন।
দিব্যতন্ত্র – ধর্মীয় নেতাদের শাসনতন্ত্র।
সর্বনিয়ন্ত্রণবাদী সরকার – এই জাতীয় সরকার সরকার ও ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজ কর্তৃত্ব আরোপ করে।

আইনানুগমনবাদী সরকার – এই জাতীয় সরকার আইনের শাসনকে চূড়ান্ত মনে করে; আইনমান্যকারীদের পুরস্কৃত করে ও আইনভঙ্গকারীদের কঠিন শাস্তি দেয়।

রাষ্ট্র কি? রাষ্ট্র ইংরেজি (state) স্টেট শব্দের পারিভাষিক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইংরেজি স্টেট শব্দটি মূলত ল্যাটিন স্ট্যাটাস শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ অবস্থা। যা কখনো আইনানুগভাবে দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে এমন ব্যক্তিদের অস্তিত্ব থাকা, কখনো বা রাজার অবস্থা আবার কখনো বা প্রজাতন্ত্রের অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে
A state is a polity that is typically established as a centralized organisation. There is no undisputed definition of a state. Max Weber's definition of a state as a polity that maintains a monopoly on the use of violence is widely used, as are many others.
রাষ্ট্র বলতে এমন এক রাজনৈতিক সংগঠনকে বোঝায় যা কোন একটি ভৌগোলিক এলাকা ও তৎসংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার সার্বভৌম ক্ষমতা রাখে। রাষ্ট্র সাধারণত একগুচ্ছ প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ভৌগোলিক সীমার ভেতর বসবাসকারী সমাজের সদস্যদের শাসনের জন্য নিয়ম-কানুন তৈরি করে।
ম্যাক্স ওয়েবারের প্রভাববিস্তারী সঙ্গানুযায়ী রাষ্ট্র হচ্ছে এমন এক সংগঠন যা নির্দিষ্ট ভূখন্ডে আইনানুগ বলপ্রয়োগের সব মাধ্যমের উপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রাখে, যাদের মধ্যে রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী, নাগরিক, সমাজ, আমলাতন্ত্র, আদালত এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী।

প্রায়োগিক দিক থেকে দেখতে গেলে, ম্যাক্স ওয়েবারের প্রভাবশালী সঙ্গানুযায়ী- এটি এমন একটি সংস্থা , নির্দিষ্ট এলাকার ভেতর আইনসিদ্ধ বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে যার রয়েছে একচ্ছত্র আধিপত্য। এমন কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিজস্ব আইনী আদেশ আরোপ করতে পারে, এমনকি যদি সেই কর্তৃপক্ষ আইনগতভাবে অপরাপর রাষ্ট্র দ্বারা, রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত নাও হয় তবুও। উদাহরন হিসেবে সোমালিল্যান্ডের সোমালি অঞ্চলের কথা বলা যেতে পারে। বা ইসরাইলের কথা।

রাষ্ট্র হলো পূর্নতর, সমগ্র এক স্বত্তা, যা সকলের, সার্বজনীন, স্থায়ী, বিমূর্ত ভৌগলিক এক মৌলিক প্রতিষ্ঠান। যা সার্বভৌম সবার সব ধরনের আইন ও অধিকারের উৎস।

কিন্তু সরকার তা নয়। সরকার ও রাষ্ট্রের মৌলিক পার্থক্য গুলো দেখুন:

১. রাষ্ট্র হল সমগ্র আর সরকার হল এর একটি অংশ মাত্র।
২. অধ্যাপক গার্নার এর মতে,রাষ্ট্র যদি হয় জীবদেহ,তবে সরকার হল এর মস্তিষ্কস্বরূপ।
৩. সকল জনসমষ্টি নিয়ে রাষ্ট্র গঠিত;কিন্তু সরকার গঠিত হয় সমগ্র জনসমষ্টির একটি ক্ষুদ্র অংশ দ্বারা।
৪. রাষ্ট্র হল একটি সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংগঠন;কিন্তু সরকার হল এর মুখপাত্র মাত্র।
৫. রাষ্ট্র কম-বেশি চিরস্হায়ী,কিন্তু সরকার চির পরিবর্তনশীল।
৬. রাষ্ট্র একটি তত্ত্ব বিমূর্ত ধারণা এবং অস্তিত্ব কাল্পনিক। কিন্তু সরকার একটি বাস্তব প্রতিষ্ঠান।
৭.সকল রাষ্ট্র মূলত একই ধরনের,কিন্তু সকল রাষ্ট্রের সরকার একই রূপ নয়।
৮.রাষ্ট্র একটি ভৌগোলিক প্রতিষ্ঠান;কিন্তু সরকার তা নয়।
৯.রাষ্ট্র সবধরনের আইন ও অধিকারের উৎস;কিন্তু সরকার এর রক্ষক মাত্র।
১০.রাষ্ট্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী;সরকারের এরূপ ক্ষমতা নেই।
১১.রাষ্ট্র একটি মৌলিক প্রতিষ্ঠান;কিন্তু সরকার হল রাষ্ট্রের অন্তর্গত একটি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন মাত্র।


রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজ
আধুনিক রাষ্ট্রের সাথে নাগরিক সমাজের সংযুক্ত-বিযুক্ত থাকা প্রসঙ্গে থমাস হব্স, জে. জে. রোসাও, ইমানুয়েল কান্ট এর মত ধ্রুপদী চিন্তাবিদেরা যেখানে রাষ্ট্র ও সমাজের পরিচয় নির্দিষ্ট করার কাজে মনোযোগ দিয়েছেন, সেখানে জি. ডাব্লুউ. এফ. হেগেল ও অ্যালেক্সিস ডি টোকভিল থেকে শুরু করে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তাবিদেরা বরং দু’টি ভিন্ন ভিন্ন সত্ত্বা হিসেবে তাদের মধ্যকার সম্পর্কের স্বরূপ নিরূপণে মনোযোগ দিয়েছেন।

তাই নিশ্চি ভাবেই বলা যায় নাগরিক সমাজের অন্যতম দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারের দুটোরই সুষম ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সচেতন কার্যক্রম পরিচালনা করা। যার উপর ভিত্তি করেই আইন, বিচার ও প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরেও সুশীল সমাজ কনসেপ্ট গড়ে ওঠে। সচেতন নাগরিক সমাজ সরকারকে প্রশংসা, সতর্কতা এবং দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সঠিক পথে চলতে সাহায্য করবে। রাষ্ট্র নাগরিক সমাজের সার্বভৌম অধিকার নিশ্চিত করে সংবিধানের অনুসারে।

এখন সরকার যেহেতু রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করে মাত্র, তাই তার সমালোচনাকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সমালোচনা বলা যাবে না। কারণ রাষ্ট্রই নাগরিক কে সেই অধিকার দিয়েছে। নাগরিকদের মধ্য থেকেই স্বল্প সময়ের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার গঠিত হয়। আবার নাগরিক চাইলে সেই সরকার বদলেও দেয়া যায়।
তাই সরকারের সমালোচনা কখনোই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচারণ নয়। বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধীতা নয়।
কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই নাগরিককে সেই রাষ্ট্রীয় অধীকার দিয়েছে- নাগরিক সরকারের সমালোচনা করতে পারবে।
সরকারের সমালোচনা রাষ্ট্রের সমালোচনা নয়। রাষ্ট্রদ্রোহীতাও নয়। আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপক্ষেতো নয়ই।
যদি সেই সমালোচনা দেশের মৌলিক নীতি, রাস্ট্রের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার চেতনার বিরুদ্ধে না হয়।

আওয়ামীলিগ স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নেতৃত্ব দিয়েছে তা যেমন ঐতিহাসিক সত্য, তেমনি মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশের আপামর জনসাধারনই জীবন দিয়ে, সম্ভ্রম দিয়ে, ত্যাগের বিনিময়ে দেশকে স্বাধীন করেছে এটাও সত্য। গুটিকয় দেশদ্রোহী রাজাকার, আলবদর, আল শামস ছাড়া বাকী সাড়ে সাত কোটি বাঙালী স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্যই লড়াই করেছে। এবং তা অর্জন করেছে।
এখন এই স্বাধীন রাষ্ট্রে; যে পরাধীনতা, যে মুক্ত মতপ্রকাশে বাঁধা, যে নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার ক্ষোভে লড়াই করতে হয়েছিল, সেই অবস্থা যদি বিরাজ করে; নাগরিকের শতভাগ অধিকার আছে সেই সরকারের সমালোচনা করার। এটাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। এটাই স্বাধীনতার চেতনা। তাই বর্তমানের আওয়ামীলিগ সরকারের ভুলকে ভুল বলাও নাগরিক অধিকার বৈকি। এবং তা কোনক্রমেই অন্য কোন ট্যাগিং করার সুযোগ নেই। বা করলেও তা মুল্যহীন।

এখন কর্তৃত্ববাদী সরকার ক্ষমতার দম্ভে, প্রশাসনের অবৈধ ব্যবহার করে যদি তা দমন করে, করতে পারে কিন্তু ইতিহাসে তা কলংকিত অধ্যায় হিসেবেই চিহ্ণিত থাকবে। আর নাগরিক ক্ষোভ পুঞ্জভিুত হতেই থাকবে। সেই ক্ষোভের প্রকাশ কিরুপ হবে তা হয়তো সময়ই বলে দেবে। যেমন ৫২ তে প্রকাশ হয়েছে ৬৯ এর পথ বেয়ে একাত্তরে চূড়ান্ত রুপলাভ করেছে।
কারণ স্বাধীনতা মানুষের একান্ত মৌলিক অধিকার।
যুগে যুগে কালে কালে যারাই স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে চেয়েছে তারা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তা ব্রিটিশ কলোনিয়াল পাওয়ারই হোক বা পাকি স্বৈরাচার বা স্ব-দেশী স্বৈরাচার!


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:২৮
২৩টি মন্তব্য ২৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বৃত্তে বৃত্তান্ত (কবিতার বই)

লিখেছেন মোহাম্মাদ আব্দুলহাক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৫৯



দ্বিপদী
মিত্রাক্ষর

রসে রসে সরস কথা বলে রসের কারবারি,
তারতম্য না বুঝে তরতর করে সদা বাড়াবাড়ি।
————
রূপসি রূপাজীবা হলে বহুরূপী রূপোন্মত্ত হয়,
রূপকল্পের রূপ রূপায়ণে রূপিণী রূপান্তর হয়।
---------
পিপাসায় বুক ফাটলে পানির মূল্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- সাত

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১০:৫৭



আগের পর্ব: নতুন জীবন- ছয়

ইন্সপেক্টরের কপালে ভাঁজ পড়ল,
- না জানিয়ে খুব খারাপ করেছ। একে বলে বিকৃতি- গোপনে সহায়তা করা। এটা একটা অপরাধ; তুমি জানো না?
আমি মাথা নিচু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×