somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা বাচঁতে চাই, আমাদের বাচাঁন

০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“২০০১ সাল থেকে আমাদের এ বেঁচে থাকার যুদ্ধ শুরু হয়।" মানুষের বিভিন্ন নোংরামি এবং সমাজের তথা কথিত ভদ্র মুখোশথারী মানুষ গুলোর প্রভাবে জীবন থেকে বাঁচার স্বাথই চলে গিয়েছিল। মাঝে মা সহ আমরা চার ভাই-বোন বিষ খেয়ে একত্রে এ পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চেয়েছিলাম কিন্তু একত্রে হতে না পারায় তা আর সম্ভব হয়নি।এখন আমরা আবার সেই প্রস্তুতি নিয়েছি, হয় আমাদেরকে সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা করবেন না হয় আমরা চার ভাই-বোন বিষ খেয়ে মারা যাব এবং আমাদের মত ধুকে ধুকে আর যে সব পরিবার এর সন্তানরা আজ অর্ধমৃত তাদের জন্য। আমরা আমাদের চারটি প্রাণের বিনিময়ে যদি দেশের চারলক্ষ অসুস্থ পরিবারের কোনো উপকার আসে, তাও ভাল। এভাবে বেঁচে থাকা কত কষ্টকর তা শুধু আমাদের মত অবস্থায় যারা আছে, তারাই বুঝতে পারবে।

২০০১ এর সময় আমার আব্বা মেয়ে মানুষ নিয়ে মা ও আমাদের কাছে ধরা পড়ার পর থেকে আমাদের তিনি তাড়িয়ে দিয়েছেন। আমদের তিনি চক্ষুশূল করে ফেলেছেন। তিনি আমাদের ভরন পোষন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বাবার যত সম্পত্তি ছিল সব বিক্রি করে আমাদের বঞ্চিত করে ফুর্তি করে মেয়ে-মানুষের পিছনে উড়িয়ে দিয়েছেন।২০০৯ থেকে তিনি আমাদের যে বাড়িটিতে অবস্থান করছি, তাও বিক্রি করার পায়তাঁরা করছিলেন। শুনেছি, তিনি বিয়ে করে ঐ ঘরে তার একটি ছেলেও রয়েছে। তিনি এখন আমাদের বাসস্থানের জমিটুকু বিক্রি ও মাকে ডিভোর্স দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। তার কথামত রাজী না হওয়ায় তার ভাই ও তার দুলাভাই এর মাধ্যমে মা ও আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে মাকে জেলহাজতে রেখেছেন। আমাদের বিভিন্ন ভাবে হমকি-ধামকি প্রদান করতেছে, নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতেছি, যে কারনে আমরা চার ভাই-বোন ঢাকায় পালিয়ে এসেছি। প্রতি রাত্রে আমাদের বাড়ির চালে ইট-পাটকেল ছুড়ে মারে। জীবন অতীষ্ঠ হয়ে পড়েছে। আমাদের ফুফু জীবিত, অথচ তাকে মৃত দেখিয়ে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করে আমাদের মাকে জেলহাজতে রেখেছে।

আইনের কাছে যাব, কিভাবে যাব? তাদের টাকা আছে, তারা আইনকে পকেটের মধ্যে রেখেছে। মামলার ২৪ ঘন্টার মধ্যে মাকে গ্রেফতার করছে, যেখানে এখনো ভিকটিম জীবিত, কোনরকম ময়না-তদন্ত তো দুরের কথা, থানা কি লাস দেখেছে? কেন এই মিথ্যাচার? একজন জীবিত মানুষকে মৃত বানিয়ে দিল, আর তা শুনে থানার ওসি মো: আনোয়ার হোসেন আমাদের বাসায় এসে আমাদের মাকে চুল ধরে টেনে হিচঁড়ে পুলিশের গাড়ীতে করে ধরে নিয়ে যায়। আমার মা তখন ভাত খাচ্ছিল, পানি খেতে চাওয়ায় আমার মেজ বোন পানির গ্লাস নিয়ে এসেছিল, তা দেখে ওসি তাকে থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দেয়। দেশের আইনের আজ এত দুরবস্থা! আমরা কার কাছে যাব?

আমাদের মাকে গ্রেফতারের পর শুরু হয় আমাদের বিভিন্ন ভাবে হমকি ও প্রাণনাশের চেষ্টা। মা বাসায় না থাকায় তারা যখন তখন আমাদের বাসার সামনে এসে গালি-গালাজ ও হুমকি ধামকি দিতে শুরু করেছে। প্রভাবশালীরা তাদের পক্ষে হওয়ায় আমরা কিছুই করতে পারছিনা। ওসি বলেছে তারা নাকি থানা কিনে নিয়েছে। ওসি আমাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা চাচ্ছে, যেখানে আমরা দু'বেলা খেয়ে দিন কাটাঁয়, সেখানে আমরা টাকা কোথায় পাব? আমরা আজ বড় অসহায়, আমাদের বাচাঁন। এসব লোকের হিংস্র থাবা থেকে আমাদের রক্ষা করার মত কি কেউ নেয়? শুনেছি, তাদের অনেকেই জয়ের বন্ধু ও আপা তাদের বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেন। আমাদের একটা আশা ছিল আমরা তার কাছে সাহায্য চাইব। এখন আমরা তাহলে কোথায় যাব? আমরা কোথায় দাড়াব?

সকলের কাছে অনুরোধ, আমাদের মাকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন। আমাদের নিরপত্তার ব্যবস্থা করে দিন। এভাবে পালিয়ে বেড়ানোর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল। কোনো সুহৃদয় ব্যক্তি যদি আমাদের পাশে না দাড়াঁন, তবে মৃত্যু ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেয়। আমাদের মা অসুস্থ, হার্টের রোগী, হাই প্রেশার রয়েছে, যদি তিনি মারা যান, আমাদের যে আর কেউ থাকবেনা। আমাদের সামনে শুধু একটাই রাস্তা দেখতে পাচ্ছি, আর তা হলমরে যাওয়া। এতগুলো জীবনকে বাচাঁতে কি কেউ এগিয়ে আসবেননা?
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১১ রাত ১০:২৩
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

“Epstein “ বুঝতে পারেন ! কিন্তু রাজাকার,আলবদর,আলশামস আর আজকের Extension লালবদর বুঝতে পারেন না ‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৮

মূলত এটি একটি ছবি ব্লগ। এক একটি ছবি একটি করে ইতিহাস। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কস্টের অধ্যায়।

এপস্টেইন ফাইল দেখে আপনারা যারা বিচলিত, জেনে রাখুন ভয়াবহ আরেক বর্বরতা ঘটেছিলো ৭১এ এদেশেই, আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:০১

শুধু উপবাস নয়, আত্মশুদ্ধি অর্জনই রোজার মূল উদ্দেশ্য

ছবি, সংগৃহিত।

সারসংক্ষেপ

রমজানের রোজা ইসলামের অন্যতম মৌলিক ইবাদত। সাধারণ মুসলিম সমাজে রোজা ভঙ্গের ধারণা প্রধানত পানাহার ও যৌন সংসর্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অথচ কুরআন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

Will you remember me in ten years!

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



উপরের ছবিটি ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে একজন ব্লগার তার এক পোস্টে দিয়েছিলেন। জানতে চেয়েছিলেন দশ বছর পর কেউ তাকে মনে রাখবে কিনা!! গতমাসে এই পোস্ট যখন আমার নজরে এলো, হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শোনো হে রাষ্ট্র শোনো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:০২


নিশ্চল শহরে আজ ক্ষুধারা হাঁটে পায়ে পায়ে
ফুটপাথে শুয়ে রয় ক্ষুদার্ত মুখ।
চালের বস্তার সেলাই হয়নি ছেড়া,
রুটির দোকানে আগুন ওঠেনি জ্বলে।
ক্ষুদার্ত আধার জাপটে ধরে আষ্টেপৃষ্টে।

আমার চোখ লাল, ভেবো না নেশায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×