somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মালিক শ্রমিক বন্ধুত্ব

১০ ই জুন, ২০১১ রাত ৮:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মালিক শ্রমিক বন্ধুত্ব
বিন আরফান

একটি শিল্প কারখানা প্রতিষ্টার পূর্বে মালিক তথা প্রতিষ্ঠাতাদিগকে শ্রমিক আইনসহ প্রশিক্ষণ নিতে হবে ঐ সমস্ত প্রযুক্তি সম্বন্ধে যে প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠিত। অপরদিকে শ্রমিকদিগকেও হতে হবে প্রশিক্ষিত। এতে উভয়ের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি হবে ও ঐ শিল্পের প্রতি উভয়েরই আন্তরিক ভালবাসা থাকবে। ফলে শিল্প ধ্বংশের উল্লাস বা দাবি আদায়ের হাতিয়ার শিল্প ধ্বংশ আর বিভিন্ন চক্রান্তমূলক শিল্প ধ্বংশ ইত্যাদি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। বর্তমান জরিপ মোতাবেক এদেশে মুসলমানদের সংখ্যা ও আধিপত্য বেশী বিধায় বলে তাকি এদেশ একটি মুসলিম রাষ্ট্র। আর আমাদের একটি মাত্র ধর্ম হলো ইসলাম। পরিতাপের বিষয় হল, আমরা ভুলেই গেছি ইসলাম আমাদের কল্যাণকর জীবন ব্যবস্থার নাম। এখানে মালিক বা শ্রমিক অধিকারে কোন ভেদাভেদ নাই। বলছিলেন প্রিন্স সাহেব।

তিনি আরো বলেন - আমরা জানি মানবতার মুক্তির দূত রাসূল (সাঃ) বলেছেন “এক মুসলমান অপর মুসলমানের প্রতি হক ছয়টি। তন্মধ্যে একটি হল, নিজের জন্য যা পছন্দ কর অপরের জন্য তাই পছন্দ করা” (বুখারী ও মুসলিম)। এই নীতিকে আমরা যদি সর্বদা অনুস্বরণ করি তবে শ্রমিক মনে করবে প্রতিষ্ঠানটি যদি আমার তো তাহলে তো আমি সামান্য কিছুর জন্য একে ধ্বংশ করতাম না বরং কিভাবে উৎপাদন বৃদ্ধি করে একে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তাহাই করতাম। তদরুপ মালিকও মনে করত আমি যদি শ্রমিক হতাম এত কষ্ট করে জীবন যাপন করতে পারতাম না।


একজন শ্রমিকের কী কী গুণাবলি থাকা দরকার আমি জানতে চাইলে তিনি বলেন ‘প্রথমেই বলে নিচ্ছি “সর্বোত্তম শ্রমিক সে, যে দৈহিক দিক থেকে শক্তিশালী ও আমানতদার”(সুরা আল-কাসাস-২৬)। আমানত হলো অন্যের রতি সম্পদ নিজের প্রিয় সম্পদের ন্যায় রক্ষণাবেক্ষণ করা। নিজের সন্তানকে যেমনি ভাবে কোনরুপ কষ্ট পেতে দেন না বা নিজের দেহটাকে যেরুপ রক্তাক্ত বা ক্ষতি হতে দেন না, তেমনীভাবে মালিকের সম্পদের বিন্দু পরিমান ক্ষতিও শত কষ্টের বিনিময় হলেও নিজেতো দূরে থাক অন্যের দ্বারাও হতে দেওয়া যাবে না। আর মনে রাখতে হবে, “যে লোক বিশ্বাস ভঙ্গ করে অর্পিত কাজ বা জিনিষ বিনষ্ট করে আল্লাহ তাকে পছন্দ করেন না” (সুরা নিসা-১০৭)। সামান্য কতকগুলো বছরের জিন্দেগী বিলাসিতা বা আরাম আয়েসের জন্য আল্লাহর অপছন্দের ব্যক্তিগণের অর্ন্তভূক্ত হয়ে গেলে ভেবে দেখুন দুনিয়ায় তো কিছুই পেলেন না পরকালও বরবাদ।

হয়তো বলবেন, আপনাকে দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করায় বা বেশী সময় কাজ করায়, তাও ঠিক নয়। কারণ আমাদের জীবন পরিচালনা করছেন একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। “আর আল্লাহ কারো উপর সামর্থের অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেন না।” (সুরা বাকারা-২৮৬)। সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, ধৈর্য্য, সততা আর কর্তব্যনিষ্ঠাই একজন শ্রমিকের প্রধান দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর সুখে থাকতে চাইলে খোদার প্রতি আস্থা থাকতে হবে এবং আল্পে তুষ্ট থাকতে হবে। কেননা যার সম্পদ কম কিয়ামতের দিন তার হিসাবও সহজ হবে। কেহ বলে সুবহান আল্লাহ, কেহ দেয় তালিয়া আবার কয়েক জনে কি যেন ফিস ফিস করে কানে কানে।


আমি দাড়িয়ে জানতে চাইলাম শুধু শ্রমিকই এত সব করবে আর মালিক কিছুই না ? প্রিন্স সাহেব বলেন তা হবে কেন !
একজন মালিকেরও কিছু গুণাবলি থাকা দরকার। প্রথমেই যে দিকটি মনে রাখতে হবে, “তোমাদের অধীনে ব্যক্তিরা তোমাদের ভাই। আল্লাহ যে ভাই কে অন্যের অধীন করে দিয়েছেন তাকে তাই খাওয়াবে যা সে নিজে খায় এবং তাকে তাই পড়তে দিতে হবে যা সে নিজে পরিধান করে” (বুখারী ও মুসলিম)। আর শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে “মজুরী নির্ধারণ ব্যতিত কোন শ্রমিককে কাজে নিয়োগ করা উচিত নয়” (বুখারী)। এবং বেতন ভাতা দেওয়ার নিয়ম হলো “ শ্রমিকের গায়ের ঘাম শুকাবার পূর্বেই তার মজুরী পরিশোধ করে দাও” (ইবনে মাজাহ)। যেহেতু অধিকাংশ শিল্প কারখানাই সাপ্তাহিক বা মাসিক পেমেন্ট সিস্টেম সেহেতু কোন অবস্থাতেই এক বা সপ্তাহের প্রথম তারিখের পরবর্তী তারিখ বেতন প্রাদানের দিন নির্ধারণ ফলপ্রসূ নয়। আর কম দেয়া বা না দেয়ার বিষয়টি তো কল্পনাই করা যায় না বরং আল্লাহ পাক বলেছেন “যেন তারা সে ফল খেতে পারে যা তাদের দ্বারা উৎপাদিত হয়েছে” (সুরা ইয়াছিন-৬৫)। এখানে বেতন ভাতার অতিরিক্ত প্রডাকশন বোনাসের কথাই বুঝা যায়। আর রাসূল (সাঃ) এ বিষয়ে বলেছেন “মজুর বা শ্রমিককে শ্রমোৎপাদিত দ্রব্য থেকেও অংশ প্রদান কর” (মুসনাদে আহাদ)।

কোন কারণ বশতঃ উৎপাদনে লোকসান হলেও শ্রমিকের প্রাপ্য মজুরী দেয়া থেকে বিরত রাখা যাবে না। কারণ আপনি যখন এক লটে কোটি টাকা আয় করে আরেকটি প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধি করেন বা গাড়ী বাড়ি কিনেন তখন শ্রমিককে অংশিদ্বারিত্ব দেন না। তার চেয়েও বড় কথা “কিয়ামতের দিন তিন ব্যক্তির সাথে আমার (রাসূল সঃ এর) ঝগড়া হবে। এর মধ্যে একজন সে, যে মজুরের দ্বারা কাজ পুরোপুরি আদায় করে নিয়েছে কিন্তু তার পারিশ্রমিক দেয় নি” (বুখারী)। যেখানে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর সুপারিশ ছাড়া কোন লোক জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, সেখানে ঝগড়া ! বলতে গা শিহরিত হয়ে যায়। আমার মতে, তার অবস্থা তো জাহান্নাম ছাড়া অন্য কিছু এত সহজে আশা করা যায় না।

আর দু’দিনের দুনিয়াতে সম্পদের অট্রালিকা গড়ে পরকালে যদি জাহান্নামে যেতে হয়, তবে এ সম্পদে লাভ কোথায় ? এছাড়া শিল্প ধ্বংশের হাত থেকে রা পেতে সর্বদা খেয়াল রাখতে হবে “শক্তি সামর্থের অতিরিক্ত কাজ শ্রমিকের উপর চাপাবে না, যদি তার সামর্থের অতিরিক্ত কোন কাজ তাকে দাও তাহলে সে কাজে তাকে সাহায্য কর” (বুখারী ও মুসলিম)।
সর্বোপরি মালিক শ্রমিক সম্পর্ক হতে হবে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক। তাই একজন শ্রমিকের আহার, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যবস্থা করে দিতে হবে, হোক তা স্বল্প পরিসরে। শ্রমিকের এত উচ্চ চাহিদাও থাকে না। আর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়তে হলে তাদের সাথে হাসি খুশি ব্যবহার করতে হবে। কেননা কড়া কথায় উৎপাদন হ্রাস পায়, আর হাসি দিয়ে চাহিদার বেশী উৎপাদন হয়।

মাঝে মধ্যে সকল শ্রমিককে একত্রে নিয়ে প্রীতি ভোজের আয়োজন করতে হবে। অহংকারীভাব বর্জন করে নিজের সুখ দুঃখের কথা শ্রমিকদের সাথে বলতে হবে। মালিককে মনে করতে হবে শ্রমিক আমার ভাই। আর শ্রমিককেও মনে করতে হবে মালিক আমার ভাই। আর “এক ভাই অপর ভাইয়ের নিকট আয়না স্বরুপ” (বুখারী ও মুসলিম)। আয়নায় যেভাবে নিজের শরীরের দোষ ত্রুটি ধরা পড়ে, ঠিক তেমনী ভাবে অন্য ভাইয়ের দোষ ত্রুটি একে অন্যের চোখে ধরা পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এমতাবস্থায় নিজের শরীরের ত্রুটির জন্য যেমনি কেটে ফেলে দেই না, তাই মালিকের দোষেও শিল্প ধ্বংশ করা যাবে না এবং শ্রমিকের দোষেও রিজিকে হাত দেয়া যাবে না। বরং সমজতার মাধ্যমে মীমাংসা করে নিতে হবে। আসুন মালিক শ্রমিক সুসম্পর্ক গড়ি, শিল্প রা তথা দেশের সার্বিক কল্যাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করি।

প্রিন্স সাহেবের সেমিনার শেষ হলো । তিনি বেরিয়ে গেলেন কক্ষ থেকে। আমিও বের হলাম। মজার ব্যাপার হলো উপস্থিত অনেকে কানা কানি আর মৃদু গুঞ্জন করতে লাগে বেটা নীতি কথা কইবার আইছে। অথচ নিজেই তার কারখানায় আগুন লাগাইয়া দিয়া ইনসুরেন্সের মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে বেবাক শ্রমিক ছাটাই করে মালিক শ্রমিক এসোসিয়েশনের সভাপতি হইছে। এতক্ষণ শুনলাম কি, আর এখন শুনি কি ! আমি টাসকি খেয়ে গেলাম।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাদ্রাসা শিক্ষাকে না বলুন। মাদ্রাসা শিক্ষা বন্ধ করুন।

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২

শুধু ভারত বিদ্বেষই না।

মাদ্রাসাগুলোতে কোনও ব্যতিক্রম ছাড়াই মোল্লারা ইসলামের দোহাই দিয়ে,

/নিজের দেশ তথা নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশের প্রতি বিদ্বেষ করা শেখায়।

/মোল্লারা তাদের মাথায় এই ধারণা খুব অল্প বয়সেই ঢুকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার নাফসকে আচ্ছা করে টাইট দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭

মানুষের ভিতরে এমন একটি অংশ আছে, যা মানুষকে খারাপ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে, খারাপ কাজের বুদ্ধি দেয়। ইসলামী পরিভাষায়, আমরা মানুষের এই অংশকে নফস বলি। আপনি খারাপ কাজ থেকে দূরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×