somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (দুই)

০৮ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই সিরিজের পোস্টগুলা শুধু বিনুদনের জন্য! এইখানকার কোন ইনফরমেশন লেখকের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যাইবে না।



এইবারের কাহিনীটা হইল প্রথম ক্রাশের কাহিনী। ক্রাশ শব্দটার মানে আসলে আম্রিকা আসার আগে কখনো বুঝি নাই।ক্রাশ বলতে রাস্তায় বাস-ট্রাকের ক্রাশ বুঝতাম! কাহিনীটা শুরু করার আগে একটু ব্যাকগ্রাউন্ড না দিলেই না!

ক্লাস ফাইভ থেকেই প্রাইভেট পরতাম এক স্যারের কাছে! এই ভদ্রলোক বহুত আজগুবি গল্প শুনাইত! পিরিতের গল্পও ছিল বেশুমার! যদিও পিরিত সম্পর্কে ভাসা ভাসা গিয়ান লাভ করছিলাম তখনকারআমলে ৪০-৫০ পেজের সস্তা উপন্যাস (চটি না কিন্তুক) পড়ে! ব্যাপারটা তখন আসলে ঠিক বুঝতামনা তখন, এখনো ঠিকমত বুঝি কি না সন্দো আছে! যাহোক, সেই স্যার একবার গল্প বলতে বলতে একটা কথা বলছিলেন। কথাটা ছিল এরকম, “পিরিত করবা ইন্টারমিডিয়েটের পর, তখন একটু বুজতে শিখবা। লাইফ, লাইনে উঠে গেলে তেমন সমস্যা হবে না”। স্যার মুলত কোথাগুলা বলছিলেন যেন ছেলেপেলে গুলা ৯-১০ বছরেই পিরিতে উস্তাদ না হইয়া যায়! যদিও এই কথাগুলোর থোড়াই কেয়ার করত আমার ফ্রেন্ডরা।ক্লাস সিক্সে পড়া বান্ধবীদের সাথে লাইন মারতে আসত কলেজে পড়া বড় ভাইরা!!! এই কথাটা ক্যামনে যেন মাথায় ঢুকে গেছিল সেই সময়। আর এই ব্যাপারটা ঠিক বুঝতামও না, ক্রিকেট খেলতাম আর স্কুল-প্রাইভেট শেষে বাসায় যাইতাম! এর মধ্যে আমার চোখের সামনে আমার ফ্রেন্ডগুলা আস্তে আস্তে পিরিতের উপ্রে পি এইচ ডি নিচ্ছিল। একজনের নাইন-টেনের পিরিত এখনো চলতিছে! আমি বাসায় যাইয়া আমার আব্বারে বইলে দেই কিনা এই ভয়ে এই ব্যাটারা আমার সাথে ব্যাপারগুলা ভুলেও শেয়ার করত না। মাঝে মাঝে দুয়েকটা কথাকানে আসতো না যে তাও না, কিন্তু আমার কাছে ঐগুলার কোন সিগনিফিকেন্স ছিল না। তবে, একবার (ক্লাস এইটএ মনে) আমার এক ফ্রেন্ডের পিরিতের-চিঠি আমার সম্মুখে গুপনে খোলা হইছিল! সেই চিঠির উচ্চমারগিয় ভাষা পইড়া এই অধমের কালা গাল লাল হয় নাই ঠিক, কিন্তু কান গরম হইয়া ঠিকই ধুয়া বাইর হইতেছিল! এরপর এস এস সি কইরা দিনাজপুর সরকারি কলেজে ভর্তি হইছিলাম। পড়ালেখার মাথা খাইয়া বিঞ্জ রিডিঙের অভ্যাস তখনি গইড়া উঠছিল। মাসুদ রানা, ফেলুদা, তিন গোয়েন্দা (পার্ট), শারলক হোমস, সাইমুম, ক্রুসেড, হিমু সহ বিশ্বসাহিত্যকেন্দ্রের লাইব্রেরীতে যত্তগুলা মুক্তিযুদ্ধের বই ছিল শব পড়ে শেষ করে দিছিলাম! বাপে টাকা দিত প্রাইভেট পরার জন্য আর আমি ওই টাকা দিয়া বই কিনতাম! বিল ক্লিনটনের “মাই লাইফ” পড়ার চেষ্টা করছিলাম কিন্তু মাথায় কিচ্ছু ঢুকে নাই। খালি আরকান্সাস আর হিলারি শব্দ দুইটা মনে আছে!

এই আকামের ফলাফলঃ টেস্টে ম্যাথে ৩০ পাইয়া ফেইল (সেকেন্ড ইয়ারে উঠার সময় দুইটা সাবজেক্ট পরীক্ষাই দিই নাই! আমারে "প্রমোটেড অন্য কন্সিডারেশন" কইরা সেকেন্ড ইয়ারে উঠাইছিল)। ফকরুদ্দিন সরকার আইসা কয় টেস্টে ফেইল করলে পরীক্ষা দিতে দিব না! কমার্সের ছেলেগুলা গণ্ডগোল না লাগাইলে আমার লাইফ থেকে এক বছর হারাই যাইত। আমার বাপে তো আমার উপ্রে আশাই ছাইড়া দিছিল, মনে করছিল ছেলে পুরাই নষ্ট হইয়া গ্যাছে। যদিও আমার হলে গিয়া সেই আমলের ছবিগুলা দেখা ছাড়া আর কুনো বাজে অভ্যাস ছিল না।

মেসে ছিলাম পুরা ইন্টারের সময়টা। ফেল টেল মাইরা এরপর বাপের কাছে ফাইনাল আব্দার, মেসে থাকলে পড়া হইত না, একলা রুম নেওয়া লাগবে, নাইলে পাশ করতে পারতাম না। বাপে কিছু না বইলা রাজি, “বলে আর কি লাগবে বলিস। পরে যেন আমারে দোষ দিতে না পারিস এই বলে যে, কোন কিছুর অভাবে আমি ফেইল মারছি”। সেইসময় আব্বা আমার সাথে রাগে (মনের দুঃখে) ঠিকমত কথাও বলত না। আই ডোন্ট ব্লেইম হিম ফরদিস। ওই জায়গার আমি হইলে আমিও তাই করতাম।

এরপর শুরু হইল সিঙ্গেল রুম খুঁজার যুদ্ধ। তখন টের পাইছি ব্যাচেলর হওয়াটা কি কষ্টের! সবকিছু ঠিকঠাক, যখন শুনে ব্যাচেলর, ডিল ক্যান্সেল। অনেক খুঁজাখুঁজি করে একটা বাসায় রুম পাইলাম, বাসার মালিকের গ্রামের বাসা ছিল আবার আমাদের পাশের গ্রামে। ওই জন্যই মনে হয় আমাকে রুমটা দিছিল। কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই উঠছিলাম ওই বাসায়। বাসার মালিকের তিন মেয়ে এক ছেলে! বড়টা মেয়ে, দিনাজপুর সরকারি গার্লসের টিচার, তারপর একমাত্র ছেলেটা, একটা এবসলিউট জ্যাক-অ্যাস, তারপরের মেয়েটা হাজী দানেশে ফিসারিজ পড়তো, এখন ওখানেই লেকচারার।
আর ছোটটা????
মাইয়া একটা! ওইটারে নিয়াইতো যত ফ্যাঁকড়া!!!

(চলপে.........।)
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×