
(আগের পুস্টের পর............। )
ওখানে থাকার দ্বিতীয় দিনে বড় আপু (টিচার আপু) আসল আমার রুমে। তারপর আমারে কয় আমার একটা ছোট ভইন আছে নাম (রিডাক্টেড), এইটে পড়ে। অরে পড়াইতে পারবা নাকি? আমি সরাসরি কইয়া দিলাম না। একে তো আমার একাডেমিক অবস্থা খারাপ, কাউরে কুনো দিন পড়াই নাই তার উপ্রে নাকি মাইয়া! আমি তো মনে মনে সুরা ইয়াসিন পইড়া সিনায় ফুক দিতাছি! আর মনে মনে কইতাছি, আল্লা তুমি আমারে এই জমিনি বালা থেইকা বাচাই দাও। শফিক রেহমানের মৌচাকে ঢিল পইড়া বাড়িওয়ালার মাইয়া আর ভাড়াটিয়ার মদ্যে যে বায়ো-কেমিক্যাল রিয়াকশন হয় সেইটা জানতাম! সো আল্লারে ডিল অফার করলাম তুমি আমারে বাচাই দিলে দুই টাকা ফকিররে দিমু। আল্লাহ ওইদিন মনে মনে নির্ঘাত হাস্তেছিল, আর মনে মনে কইতেছিল কি বেকুব!!! যাইহোক উনি আর আমারে আর বেশি চাপাচাপি করেন নাই।
তাঁর পরদিন কোচিং যামু, রুম থেইকা সাইকেল বাইর করতেছি এরকম সময় দেখি এক মাইয়া! স্কুল ড্রেস পইড়া বাসায় ঢুকতাছে।আমি তো জাগার মধ্যে হা কইরা দাড়াই পড়লাম। মানে মুভিগুলার মধ্যে যেরকম হয় আরকি। মাইয়া আমার সামনে দিয়া চুপচাপ হাইটা চইলা গেল ঊপ্রের তলায়।
আর আমার অবস্তা তখন এরকম......।
আমার বলার কিছু ছিল না...। না গো...। আমার বলার কিছু ছিল না! চেয়ে চেয়ে দেখলাম তুমি চলে গেলে...।
যাইহোক, ওইদিন কোচিং এ আর কি পড়া হবে! তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলাম। কুনো কিছুতেই মন বসেচ্ছিল না। নিজেই নিজের মাথার চুল ছিড়েচ্ছিলাম। ক্যামনে?? ক্যামনে আমি এত্তবড় ভুলটা করতে পারছিলাম? অফারটা সরাসরি না কইরা দিয়া যে কি ভুলটা করছি!!! জয় ভাই (CCNY) শুনলে নির্ঘাত কইত “ক্যামনে পারলা ম্যান?”
মাথা তো পুরাই বিলা! কিন্তু করার কিচ্ছু নাই! আমার রুমটা মেইন গেঁটের সামনে হওয়াতে মাইয়া আমার সামনে দিয়াই স্কুলে যাইত আর সামনে দিয়াই আসত। এক সপ্তাহের মধ্যে অর স্কুল যাওয়ার রুটিন মুখস্থ! ওই সময় আমারে কেউ নড়াইতে পারে! আমার খালি সাহস হয়নাই মাইয়ারে থামাইয়া একটু কথা কমু। এর মধ্যে বাসার আঙ্কেলের সাথে আমার আব্বার দেখা হইছে, আঙ্কেলরে আমার বাপে আমার ওভারসাইট বানাই দিছে। আমার আর কিচ্ছু করার সাহসে কুলায় নাই, যদি আমার বাপেরে কইয়া দেয়!
এর মধ্যে বাসায় এক নতুন টিউটর আইছে (আমার যায়গায়!!!)। ব্যাটায় কি পড়াইত না পড়াইত জানি না কিন্তু দেখতে আছিল সালমান শাহ্ এর মতন। ব্যাটারে যখনই দেখতাম মেজাজ বিলা হইয়া যাইত। মনে হইত অরে ধইরা একটা রামডলা দিয়া দেই। কিন্তু কিচ্ছু করা হয়ে উঠে নাই! তবে একটা কাজ হইছিল, এই রাগে এক্সারসাইজ করা শুরু করছিলাম। রেগুলার দড়ি-লম্ফ দিতাম বেশ লম্বা সময় ধইরা আর পুশআপ দিয়া বডিও বানাই ফেলাইছিলাম।
কিন্তু আনন্দের বিষয় হইল প্রায় পনের দিন পড় থেকে ওই টিউটররে দেখি নাই! দেইখা তো হাফ চাইরা বাঁচছিলাম! এক সপ্তাহ পর অন্য এক টিউটর হাজির! দুই তিন সপ্তাহ পড় এই ব্যাটাও গায়েব! কয়েক মাসের মধ্যে আমি বেশ কয়েকজনের আগমন-প্রস্থান দেখছি! এইটার পিছনে কুনো রহস্য ছিল কি না সেইটা আমার অদ্যাবধি জানা হয় নাই!
(চলপে.........।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



