
(আগের পুস্টের পর......)
এইখানে আইসা একটা দারুণ জিনিস দেখলাম যে, কারো হাতে এক্সট্রা সময় নাই! সবাই দৌড়ের উপর থাকে! আইসা গিরিন কার্ড আর সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড মেইলে আসার জন্য ওয়েট করা ছাড়া হাতে আর কুনো কাজই ছিল না! বাসায় থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে বোর হইয়া যাইতাম, তখন বাধ্য হইয়া একাই বাইরে হাঁটতে বাইর হইতাম! হাঁটতাম খুব খিয়াল কইরা!!! অচেনা জায়গা, হারায় টারায় গেলে ফের কে আমাক খুইজা বাইর করবে? সবাই আপন আপন কাম নিয়া ব্যাস্ত! কারো শিডিউলের বাইরে এক ফোটা সময় নাই!
একদিন হাঁটতে হাঁটতে এক অচেনা পার্কে চইলা গেলাম! যাইয়া দেখি অকি!!!! লাজ শরমের মাথা খাইয়া পুলা মাইয়া এক লগে খাড়াইয়াই একজনের ঠোঁট মুবারকের সাথে আরেকজনের ঠোঁট মুবারক লাগাইয়া কীচ প্রাক্টিচ করতেছে!!! ওরা কি শরম পাবে, উল্টা আমিই শরম পাইয়া অন্য দিকে চইলা গেলাম! একটু পর ক্লান্ত হইয়া পার্কের একটা বেঞ্চে যাইয়া বসলাম। ওখানে দেখি এক মহিলা তার বাচ্চারে লইয়া হাঁটতে আসছে! দুইজনেই বহুত সুন্দর! সেই মহিলারে আমার কাছে ক্যান জানি ওইদিন প্রিন্সেস ডায়ানার মত লাগতেছিল! আমার খুব ইচ্ছা হইতেছিল যে যাইয়া উনারে কই যে আপনেরে প্রিন্সেস ডায়ানার মতন লাগতিছে! কিন্তু বিধি বাম! তখন নতুন আইছিলাম আম্রিকায়। পেটের মইধ্যে বোমা মারলেও মুখ দিয়া ইংলিশ বাইর হইত না! কওয়া হয় নাই! আর মুক দিয়া ইংলিশ কথা বাইর হইলেও এই কামডা করার মত সাহস হইত না! তবে আমার একটা জিনিস ক্লিয়ার না করলেই না, এই মহিলার উপ্রে কিন্তু আমি ক্রাশ খাই নাই!
একটু পর দেখি সত্যি সত্যি মাইয়াগুলা স্যান্ডো গেঞ্জি আর আন্ডু পইড়া সামনে দিয়া দৌড়াইতেছে!! এই কাণ্ড দেইখা তো আমার চক্ষু দুইটা পারলে কোটর ছাইড়া বাইর হইয়া পড়ে! ক্যামনে পারে এইরকম আন্ডু পইড়া দৌড়াদৌড়ি করতে! একটু পর দেখি একটা পনের ফুটের মত লম্বা সাইকেল চার জন মিলে চালাইতেছে!!! একসাথে পেট্রলে ধাক্কা মারতেছে! এই আইটেম তো জীবনেও দেখি নাই! ক্যামনে? সাইকেল ক্যামনে এত্ত বড় হয় আর চারজনেই বা ক্যামনে চালায়? একদিনে এত রকম মেমরেবল দৃশ্য দেখে পুরাই তাজ্জব হইয়া গেলাম! সেই মুহূর্তে মনে পরল আমার রুমমেটের একটা স্পেশাল গিয়ানের কথা! এই লোক আমারে কইছে এই দেশে নাকি দিনে দুপুরে পুলা মাইয়ারা পার্কের বেঞ্চগুলাতে“আকাম” করে! উনি নাকি নিজের চক্ষে দেখছেন! পার্কের মনোরম পরিবেশটা ভালো লাগলেও ওই কথা মনে হওয়াতে আর থাকা হইল না! বেশি শরম পাইয়া কুনো দুর্ঘটনা ঘটানোর আগেই পলাইয়া বাসায় চইলা আইলাম! এইরকম বহুত রকম এক্সপেরিয়েন্স হইছে, লিখতে গেলে শেষ করতে পারতাম না! সো একটু এক্সপ্রেস যাওয়া লাগবে।
আম্রিকা আসার প্রায় দেড় বছর পর ভর্তি হইছিলাম কলেজে! কিংসবোরো কমিউনিটি কলেজ! অনেক সুন্দর একটা ক্যাম্পাস! আটলান্টিকের সাথেই লাগানো, কলেজের একখান ছোট্ট বিচও আছে। কলেজে যাইয়া এত্ত সুন্দরির ভিড়ে আমার নিজেরে আবুল মনে হইতেছিল। এই দেড় বছরে মনে করছিলাম ইংলিশ শিখে শেষ কইরা ফালাইছি! আমারে আর কেডা পায়! কিন্তু কলেজে যাইয়া দেখি, কিরে বাপ? আসে পাশে ছাওয়াল পাওয়াল গুলা এত্ত কথা কইতেছে মাগার আমি কিচ্ছু বুঝতাছি না ক্যান? কুন ভাষায় কথা কইতেছে এরা! বহুত চেষ্টা কইরা টের পাইলাম নাহ, ব্যাটারা ইংলিশেই কথা কইতেছে আর আমিই আসলে কিচ্ছু শিখি নাই! আর এইজন্যই সব মাথার উপ্রে দিয়া যাইতেছে! খালি প্রফেসর গুলার কথা আধাআধি বুঝতাম! ফলাফলটা হইল করুন! আমি নিজেরে পুরা আইসোলেট কইরা ফালাইলাম! বাধ্য না হইলে আর কারো লগে কথা কই না!
যাইহোক আমার অজ্ঞতার একটা কাহিনী না কইলেই না! প্রথম সেমিস্টারে ইংলিশ ক্লাস নিছিলাম একটা। ক্লাসে সব কিসিমের পুলাপাইন আছিল! একদিন প্রফেসর সবাইরে জিগাইল, এমন একটা সেন্টেন্স বল যেইটা অন্য প্লেসে অন্য ভাবে কইবা! এক কালা পুলাকয়, “হাউ আর ইউ” কথাটারে আমার ফ্রেন্ডদের কাছেআমি বলমু অন্যভাবে! প্রফেসর জিগায় ক্যামনে? ছাওয়াল কয় “হোয়াসসাপ ডগ?”! ডগ??????? আমি মনে মনে কইতাছি পুলারে কি আসলেই পাগলা কুত্তা কামড়াইছে নাকি? ফ্রেন্ডরে ক্যামনে কুত্তা ডাকে? আমারে কইলে তো মাইন্ড খালি মাইন্ড খামু না হাল্কা মাপের একটা হাতাহাতিও হইয়া যাইতে পারে! আমার বেশ কিছুদিন সময় লাগছিল মানেটা বুঝতে!
সেই ক্লাসেই একটা সুন্দরী মাইয়া আছিল ডমিনিকান রিপাবলিকের! মাইয়া দেখতে আমাদের দেশি মাইয়াগুলার মতোই ছিল অনেকটা। সো একটু নিজের নিজের মনে হইত! যাহোক একদিন ক্লাস শেষে মাইয়াআমারে জিগায় আমি ব্যাস্ত কিনা? আমি কইলাম নাতো। কি হইছে? মাইয়া তখন কয়, “ইউ ওয়ানা হ্যাং আউট”? আমি তো ধন্দে পইড়া গেলাম? হ্যাং আউট আবার কি জিনিস। জীবনেও শুনি নাই! মাথাটা ঝড়ের বেগে চালাইতে লাগলাম। মাথার মধ্যে শব্দগুলা বাংলা করতেছি আর মিলাইতেছি। হ্যাং মানে হইল ঝুলানো। আর আউট মানে বাইরে! তাইলে হ্যাং আউট মানে দাঁড়াইল বাইরে ঝুলাঝুলি?!?! কিন্তু মাইয়ার লগে বাইরে ঝুলাঝুলি টাইপের কুনো জিনিস আমি জীবনেও দেখি নাই আর হাইপথেটিক্যাল তেমন কিছুর কথাও চিন্তা করতে পারলাম না! কুনকিছু মিলাইতে না পাইরা ভয়ে ভয়ে কইলাম “নো! আই এম গুড”! মাইয়ার মুখে পরিষ্কার অসন্তুষ্টি দেখলাম। পরিষ্কার বুঝলাম গড়বড় কইরা ফালাইছি! কিন্তু গড়বড়টা কি? করলামই বা কোথায়?
(চলপে......।)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





