একটি ফ্যাসিবাদী ভাবধারার সমাজ প্রতিষ্ঠায় একটি প্রজন্মকে দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করে স্বারথন্বেষী কর্তৃত্ববাদী অপশক্তি আওয়ামী লীগ নাৎসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে । নিচের
পাপ্পু দার বিশ্লেষনধর্মী মতবাদে আওয়ামী চরিত্রের উলঙ্গ হিটলারীয় দিকটি ফুটে উঠেছে
১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার পর বিটিভি তে তৎকালীন স্বৈরশাসক, কবি ও গীতিকার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের লিখা, কাজী ফারুক বাবুলের সুর করা ও অ্যান্ড্রু কিশোরের কণ্ঠ দেয়া একটি গান প্রচার হতো। গানটির কথাছিল এমন ''তোমাদের কাছে এসে, সব ব্যথা বুকে নিয়ে, আমিও যে হলাম একাকার, আজকের দেশটা আমার'' টাইপের। যে গানটিতে দেখানো হতো এরশাদ সাহেব কোমর সমান পানি পেরিয়ে, পায়ে হেঁটে, নৌকা চড়ে হাতে হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন যা দেখে চোখে পানি চলে আসতো। এমন একজন ভালো লোক, মেধাবী সাহিত্যিক মানুষের বিরুদ্ধে আমাদের দেশনেত্রী বেগম জিয়া আন্দোলন করতেছেন এবং কোন আপোষে যাচ্ছেন না তা ভেবে। ত্যানা না পেঁচিয়ে এবার আসল কথায় আসি। এর আগ থেকেই অ্যান্ড্রু কিশোর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। আমি নিজেও অ্যান্ড্রু কিশোরের গান শুনতে শুনতে অস্থির ভক্ত হয়ে গেছিলাম। তো একজন স্বৈরশাসক যার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা আন্দোলন করছেন তাঁর লিখা গান গাইলেন অ্যান্ড্রু কিশোর কিন্তু আমরা কেউই প্রিয় শিল্পীকে মনে করি নাই তিনি জাতীয় পার্টির বা এরশাদ সাহেবের পক্ষের লোক। কেউই অ্যান্ড্রু কিশোর এর গান শোনা বন্ধ করে দেই নাই বরং আরও বেশি বাজিয়েছিলাম। কেউ যদি দাবী করতো অ্যান্ড্রু কিশোর এরশাদ সাহেবের স্বৈরশাসনের পক্ষ নিচ্ছেন তাহলে অনেকে হয়তো সেই সময় বিশ্বাসও করতেন। অথচ অবাক করার বিষয় অ্যান্ড্রু কিশোর এর বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলেনি। এমনকি ৯০'র পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে অ্যান্ড্রু কিশোর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কারণ কি? কারণ রাষ্ট্র আমাদের সেই সময় এই ধরনের মনোভাব পোষণ করতে শেখায়নি। আমাদের সেই প্রজন্ম আজকের মতো অন্ধ ও বেয়াদব ছিল না। শিল্পীকে কোন দলের পক্ষ/ বিপক্ষ ভেবে গালিগালাজ করতো না। একজন গুণী মানুষকে তাঁর কর্ম দিয়েই বিচার করা হতো সে যেই দলেরই লোক হোন না কেন। আজকের যে সংস্কৃতি মন্ত্রী অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর তাঁর অভিনীত সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় নাটক ছিল হুমায়ুন আহমেদ এর 'কোথাও কেউ নেই' যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল বিএনপি'র আমল। কিন্তু সেই আমলে বিএনপি'র কেউই তো অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে আওয়ামীপন্থী ভেবে অসম্মান করেনি, বিটিভি তাঁকে নিষিদ্ধ করেনি । হাসান ইমাম সাহেব ৯১-৯৬ পর্যন্ত অসংখ্য টিভি নাটক করেছেন কোনদিন তাঁকে নিয়ে কেউ কোন বাজে মন্তব্য করেনি এমনকি সরকারও তাঁকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ করেনি। কালো তালিকাভুক্ত করেনি। কারণ শিল্পীকে শিল্পীর মর্যাদা দেয়া উচিৎ। শিল্পীকে যদি আমরা দলীয় দৃষ্টিকোণে দেখি সেটা হবে শিল্পীর প্রতি অবিচার অন্যায়।
এই অন্যায় ধারাটা চালু করে ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে। খুরশিদুজ্জামান উৎপল, আরিফুল হক, আবুল খায়ের এর মতো প্রবীণ ও গুণী অভিনেতারা বিটিভির ব্ল্যাকলিস্টেড হয় । আমজাদ হোসেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, খান আতাউর রহমান এর মতো মানুষেরা বিটিভিতে নিষিদ্ধ হোন। সংবাদ পাঠক সিরাজুল মজিদ মামুন, সালেহ একরাম এর মতো জনপ্রিয় ও বলিষ্ঠ কণ্ঠের সংবাদ পাঠকেরা নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যে হাসান ইমাম সাহেব বিএনপি'র আমলে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সেই তিনি বিএনপি'র বিরুদ্ধে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিরাট 'বাঙালি' ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক বনে গেলেন। আমরা তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। সেই যে শুরু এরপর থেকে আজ অবধি আমাদের শিল্পীদের দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হচ্ছে যা আজ ভয়াবহ রুপ লাভ করেছে। রাষ্ট্র যেখানে শিল্পীদের বিভেদ সৃষ্টি করে দেয় সেখানে দলকানা সাধারন জনগণ তো এর সুযোগ নিবেই। আজ যখন শুনি মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদ, নোভা ব্যান্ডের আহমেদ ফজল ভাই, গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলি ভাই, নিয়াজ আহমেদ অংশু ভাই, ড্রামার রিয়াদ ভাইদের আজকের দলকানা পাকনা পোলাপাইন 'ছাগু', / ছুপা ছাগু/ জামাতি/ বিএনপি ট্যাগ দিয়ে বাজে কথা বলে তখন খুব খুব কষ্ট পাই। উনাদের অপরাধ কেউ হয়তো গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে গান করেনি, কেউ বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে জ্বালাময়ী লিখেছে, কেউ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান' কে নিয়ে শ্রদ্ধামুলক কোন লিখা লিখেছে, কেউ ১৩ দিনে মুক্তিযুদ্ধ তত্ত্ব কথা শুনে হালকা রসিকতা করেছে যেসব কাজগুলো ঐ দলকানা চেতনার মগজ ধোলাই হওয়া অন্ধ প্রজন্মকে দারুন মর্মাহত করেছে। 'আওয়ামীলীগ' এর অন্যায় কাজের বিরোধিতা করা মানেই হলো 'ছাগু'/ 'ছুপা ছাগু' হয়ে যাওয়া আর তা যদি কোন গুণী মানুষও করে থাকেন তাহলে তো আর কথাই নেই। সেই গুণী মানুষটা হয়ে গেলো অন্ধ, বেয়াদব এই প্রজন্মের কাছে দেশবিরোধী মানুষ। অন্ধ প্রজন্মের কাছে শিল্পী হলো সুমন, প্রীতম বাকিরা কেউ শিল্পীর জাতই না এমন একটি ভাব। শাহবাগে যাওয়ার ফলে আজ অর্থহীনের সুমনের পক্ষে দাঁড়িয়ে এরা আইয়ুব বাচ্চু'র মতো কিংবদন্তী শিল্পীকেও অপমান করে। একটা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থহাসিলের জন্য আমাদের শিল্প, সংস্কৃতির যা যা ক্ষতি করার প্রয়োজন ছিল তার সবটুকুই ১৬ আনা করে ফেলেছে যার সর্বশেষ নজীর হচ্ছে আমাদের অসভ্য, বেয়াদব ও দলকানা নতুন প্রজন্মের একটি অংশ । যারা তাদের মতের বিরোধী কাউকেই সহ্য করতে পারে না। যারা গুণী মানুষদেরও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করে না। যারা তাঁদের পিতা -মাতা, ভাইবোনদেও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করেনা। এদের মগজের ভেতরে এমন ভাবে 'চেতনার বিষ' প্রবেশ করানো হয়েছে যে সেই বিষে বিষক্রিয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে যার পরিণতি চরম ভয়াবহ । এর জন্য দায়ী রাষ্ট্র, এর জন্য দায়ী আমাদের সুশীল সমাজের জ্ঞানপাপীরা। একদিন হয়তো এই বিষক্রিয়া সেইসব জ্ঞানপাপীরা দংশিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



