somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফ্যাসিবাদী প্রজন্মের প্রতিধ্বনি

২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি ফ্যাসিবাদী ভাবধারার সমাজ প্রতিষ্ঠায় একটি প্রজন্মকে দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করে স্বারথন্বেষী কর্তৃত্ববাদী অপশক্তি আওয়ামী লীগ নাৎসিবাদের দিকে দেশকে ঠেলে দিচ্ছে । নিচের
পাপ্পু দার বিশ্লেষনধর্মী মতবাদে আওয়ামী চরিত্রের উলঙ্গ হিটলারীয় দিকটি ফুটে উঠেছে

১৯৮৮ সালে ভয়াবহ বন্যার পর বিটিভি তে তৎকালীন স্বৈরশাসক, কবি ও গীতিকার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের লিখা, কাজী ফারুক বাবুলের সুর করা ও অ্যান্ড্রু কিশোরের কণ্ঠ দেয়া একটি গান প্রচার হতো। গানটির কথাছিল এমন ''তোমাদের কাছে এসে, সব ব্যথা বুকে নিয়ে, আমিও যে হলাম একাকার, আজকের দেশটা আমার'' টাইপের। যে গানটিতে দেখানো হতো এরশাদ সাহেব কোমর সমান পানি পেরিয়ে, পায়ে হেঁটে, নৌকা চড়ে হাতে হাতে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন যা দেখে চোখে পানি চলে আসতো। এমন একজন ভালো লোক, মেধাবী সাহিত্যিক মানুষের বিরুদ্ধে আমাদের দেশনেত্রী বেগম জিয়া আন্দোলন করতেছেন এবং কোন আপোষে যাচ্ছেন না তা ভেবে। ত্যানা না পেঁচিয়ে এবার আসল কথায় আসি। এর আগ থেকেই অ্যান্ড্রু কিশোর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। আমি নিজেও অ্যান্ড্রু কিশোরের গান শুনতে শুনতে অস্থির ভক্ত হয়ে গেছিলাম। তো একজন স্বৈরশাসক যার বিরুদ্ধে ছাত্র জনতা আন্দোলন করছেন তাঁর লিখা গান গাইলেন অ্যান্ড্রু কিশোর কিন্তু আমরা কেউই প্রিয় শিল্পীকে মনে করি নাই তিনি জাতীয় পার্টির বা এরশাদ সাহেবের পক্ষের লোক। কেউই অ্যান্ড্রু কিশোর এর গান শোনা বন্ধ করে দেই নাই বরং আরও বেশি বাজিয়েছিলাম। কেউ যদি দাবী করতো অ্যান্ড্রু কিশোর এরশাদ সাহেবের স্বৈরশাসনের পক্ষ নিচ্ছেন তাহলে অনেকে হয়তো সেই সময় বিশ্বাসও করতেন। অথচ অবাক করার বিষয় অ্যান্ড্রু কিশোর এর বিরুদ্ধে কেউ কোন কথা বলেনি। এমনকি ৯০'র পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে অ্যান্ড্রু কিশোর দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। কারণ কি? কারণ রাষ্ট্র আমাদের সেই সময় এই ধরনের মনোভাব পোষণ করতে শেখায়নি। আমাদের সেই প্রজন্ম আজকের মতো অন্ধ ও বেয়াদব ছিল না। শিল্পীকে কোন দলের পক্ষ/ বিপক্ষ ভেবে গালিগালাজ করতো না। একজন গুণী মানুষকে তাঁর কর্ম দিয়েই বিচার করা হতো সে যেই দলেরই লোক হোন না কেন। আজকের যে সংস্কৃতি মন্ত্রী অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর তাঁর অভিনীত সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিয় নাটক ছিল হুমায়ুন আহমেদ এর 'কোথাও কেউ নেই' যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিল বিএনপি'র আমল। কিন্তু সেই আমলে বিএনপি'র কেউই তো অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূরকে আওয়ামীপন্থী ভেবে অসম্মান করেনি, বিটিভি তাঁকে নিষিদ্ধ করেনি । হাসান ইমাম সাহেব ৯১-৯৬ পর্যন্ত অসংখ্য টিভি নাটক করেছেন কোনদিন তাঁকে নিয়ে কেউ কোন বাজে মন্তব্য করেনি এমনকি সরকারও তাঁকে সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে নিষিদ্ধ করেনি। কালো তালিকাভুক্ত করেনি। কারণ শিল্পীকে শিল্পীর মর্যাদা দেয়া উচিৎ। শিল্পীকে যদি আমরা দলীয় দৃষ্টিকোণে দেখি সেটা হবে শিল্পীর প্রতি অবিচার অন্যায়।
এই অন্যায় ধারাটা চালু করে ৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় এসে। খুরশিদুজ্জামান উৎপল, আরিফুল হক, আবুল খায়ের এর মতো প্রবীণ ও গুণী অভিনেতারা বিটিভির ব্ল্যাকলিস্টেড হয় । আমজাদ হোসেন, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, খান আতাউর রহমান এর মতো মানুষেরা বিটিভিতে নিষিদ্ধ হোন। সংবাদ পাঠক সিরাজুল মজিদ মামুন, সালেহ একরাম এর মতো জনপ্রিয় ও বলিষ্ঠ কণ্ঠের সংবাদ পাঠকেরা নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। যে হাসান ইমাম সাহেব বিএনপি'র আমলে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন সেই তিনি বিএনপি'র বিরুদ্ধে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিরাট 'বাঙালি' ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোক বনে গেলেন। আমরা তা দেখে হতভম্ব হয়ে গেলাম। সেই যে শুরু এরপর থেকে আজ অবধি আমাদের শিল্পীদের দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করা হচ্ছে যা আজ ভয়াবহ রুপ লাভ করেছে। রাষ্ট্র যেখানে শিল্পীদের বিভেদ সৃষ্টি করে দেয় সেখানে দলকানা সাধারন জনগণ তো এর সুযোগ নিবেই। আজ যখন শুনি মাইলস ব্যান্ডের হামিন আহমেদ, নোভা ব্যান্ডের আহমেদ ফজল ভাই, গীতিকার লতিফুল ইসলাম শিবলি ভাই, নিয়াজ আহমেদ অংশু ভাই, ড্রামার রিয়াদ ভাইদের আজকের দলকানা পাকনা পোলাপাইন 'ছাগু', / ছুপা ছাগু/ জামাতি/ বিএনপি ট্যাগ দিয়ে বাজে কথা বলে তখন খুব খুব কষ্ট পাই। উনাদের অপরাধ কেউ হয়তো গণজাগরণ মঞ্চে গিয়ে গান করেনি, কেউ বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে জ্বালাময়ী লিখেছে, কেউ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান' কে নিয়ে শ্রদ্ধামুলক কোন লিখা লিখেছে, কেউ ১৩ দিনে মুক্তিযুদ্ধ তত্ত্ব কথা শুনে হালকা রসিকতা করেছে যেসব কাজগুলো ঐ দলকানা চেতনার মগজ ধোলাই হওয়া অন্ধ প্রজন্মকে দারুন মর্মাহত করেছে। 'আওয়ামীলীগ' এর অন্যায় কাজের বিরোধিতা করা মানেই হলো 'ছাগু'/ 'ছুপা ছাগু' হয়ে যাওয়া আর তা যদি কোন গুণী মানুষও করে থাকেন তাহলে তো আর কথাই নেই। সেই গুণী মানুষটা হয়ে গেলো অন্ধ, বেয়াদব এই প্রজন্মের কাছে দেশবিরোধী মানুষ। অন্ধ প্রজন্মের কাছে শিল্পী হলো সুমন, প্রীতম বাকিরা কেউ শিল্পীর জাতই না এমন একটি ভাব। শাহবাগে যাওয়ার ফলে আজ অর্থহীনের সুমনের পক্ষে দাঁড়িয়ে এরা আইয়ুব বাচ্চু'র মতো কিংবদন্তী শিল্পীকেও অপমান করে। একটা গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থহাসিলের জন্য আমাদের শিল্প, সংস্কৃতির যা যা ক্ষতি করার প্রয়োজন ছিল তার সবটুকুই ১৬ আনা করে ফেলেছে যার সর্বশেষ নজীর হচ্ছে আমাদের অসভ্য, বেয়াদব ও দলকানা নতুন প্রজন্মের একটি অংশ । যারা তাদের মতের বিরোধী কাউকেই সহ্য করতে পারে না। যারা গুণী মানুষদেরও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করে না। যারা তাঁদের পিতা -মাতা, ভাইবোনদেও অপমান করতে দ্বিধা বোধ করেনা। এদের মগজের ভেতরে এমন ভাবে 'চেতনার বিষ' প্রবেশ করানো হয়েছে যে সেই বিষে বিষক্রিয়া চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে যার পরিণতি চরম ভয়াবহ । এর জন্য দায়ী রাষ্ট্র, এর জন্য দায়ী আমাদের সুশীল সমাজের জ্ঞানপাপীরা। একদিন হয়তো এই বিষক্রিয়া সেইসব জ্ঞানপাপীরা দংশিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ৩:৫২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তাবলিগে গিয়ে যা শিখলাম না

লিখেছেন মুনতাসির, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৯

আমি যখন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ি, তখন আমার কয়েকজন বন্ধু তাবলিগ করত। তাবলিগের প্রতি আমার কখনোই আগ্রহ ছিল না। তবে ওরা নিজেরা রান্না করত, আর আমি রান্না করতে পছন্দ করি। তাই একদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত একজন নারীসহ দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে বোঝা গেল যে, পররাষ্ট্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×