খেলা ধুলায় ডাব্বা মারব সেটা বুঝে গেলাম কৈশরেই। একটু আধটু ছবি আঁকার শখ ছিল। সেটাও খুব একটা ভাল হত না। মুস্তাফা মনোয়ারের 'মনের কথা' (ছবি আঁকার অনুষ্ঠান) দেখতাম নিয়মিত। আঁকাআঁকিতে প্রতিভা দেখানো হবে না, বুঝে গেলাম। সব ছবিই একরকম হয়ে যেত- নিচে ঘাস, মাঝখানে গাছের গুড়ি আর উপরে আকাশের মাঝে গাছের পাতা। একটা বিমূর্ত ছবি এঁকেছিলাম একসময়। আড়াই মণি একটা নামও দিয়েছিলাম Descrete Bules of Mind. বিমূর্ত হলেও ছবিটা আজও আমার মনে পড়ে। হলুদ আর সবুজের, মাঝে ছড়ানো ছিটানো জ্যামিতিক নীল। আমার মনে হত ওইগুলোই হল মানুষের মনের নীল ব্যাথাগুলো। অনেক আনন্দ আর পূর্ণতা (সবুজ আর হলুদের) মাঝে 'নীল' গুলো ছড়িয়ে থাকে। ছবিটা অনেকদিন খাটের নিচে পড়েছিল।
আমার বন্ধু ভাগ্য খুব, খুব বেশি বন্ধু বানতে পারিনি কোনদিন। আর যারাও বন্ধু ছিল- তাদের সাথের সূঁতোগুলো ছিড়ে যেত সময়ের নাগরদোলায়। কিন্ডারগার্টেনের কারো নাম মনে পড়ে না। শুধু মনে পরে একবার ৪ জনের সাথে একা মারামারি করতে হয়েছিল। আসলে আমি ওদের থেকেই পালাচ্ছিলাম। ওরা ছোটমানুষ বলে সেরকম স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে পারে নি, আমার সুবিধাই হয়েছিল। একজন একজন করে আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিল, আর আমি ধাক্কা দিয়ে নিজেকে বাঁচিয়ে পালিয়েছিলাম। স্কুল বদলে ক্লাস ওয়ানে ওঠার পর আস্তে আস্তে বন্ধু পেলাম কয়েকজন। মিজানুর রহমান ছিল একজন, খুব সুন্দর গাছ আঁকত। তবে, খুব প্রিয় বন্ধু ছিল আহমেদ নূর খন্দকার, যার ডাক নাম ছিল লিংকন। আবার, স্কুল বদল। লিংকনের থেকে বিদায় নেয়া হয়নি। রাস্তার মোড়ে মিজানের সাথে দেখা হয়েছিল। আজও আমি সন্দেহে ভুগি আসলেই কি দেখা হয়েছিল নাকি আমি বিদায় নিতে চেয়েছিলাম-সেই স্মৃতিটাই আমার কাছে বাস্তব বলে মনে হয় আজকাল।
কয়েক ক্লাস পরে আবার স্কুল বদল। অল্প কিছু বন্ধু পেলাম আবারও। ক্লাসের সবাই যে আমাকে অপছন্দ করত তা নয়, কিন্তু আমিই মনে হয় ঠিকভাবে মিশতে পারতাম না। হয়ত একবাটি তেলের মধ্যে আমিই ছিলাম একফোঁটা জল...
(আজ আর লিখব না, খুব ক্লান্ত লাগছে।)
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুলাই, ২০১১ রাত ১১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


