ঘুমাচ্ছিলাম ... বৈশাখ মাসের তপ্ত দুপুরের ব্যপারটা ঠিক ভাল লাগলনা, ভেংচি কেটে ঘুমটা ভেঙ্গে দিল ! এ সময়টায় কিছুই করা যায়না ৷ ক্লাস নাই, আমার কোন টিউশনিও নাই ৷ আমি নেহায়েতই বেকার ছাত্র ৷ যদিও কম্পিউটারটা আছে, কিন্তু ঠিক এইরকম অবস্থায় কোন কাজও করতে ইচ্ছে হয়না ৷
হলে আমার রুমটা ৪ তলায়, মানে সবচেয়ে উপরের তলায় হওয়ায় সারাদিন রোদ খায় রুমটা ৷ সকাল থেকে ঠিক বোঝা যায়না, কিন্তু গরমের তেজটা টের পাওয়া যায় ঠিক দুপুরের পর পর এই সময়টা থেকে ৷ গরমের ভ্যাপসা ভাব রুমের প্রতিটা বাসিন্দাকে অতিষ্ট করে তোলে ৷ ফ্যানের নিচে শুয়ে থাকলেও গা ঘামে জবজব করে ৷ বললাম না, কিছুই করার নাই ৷ তো এই কিছুই করার নাই অবস্থাতেও আমার মহান রুমমেট পড়ার টেবিল এ ! ফার্স্ট ইয়ার তো, তাই এই অবস্থা ৷ এর আগেও একটা ফার্স্ট ইয়ার উঠেছিল রুম এ ৷ কিন্তু সে এতটা ছিলনা ! ছেলেটাকে পড়া ঘুমানো খাওয়া বাথুরম - এ ছাড়া আর কিছু করতে দেখিনা আমি ৷ খুব হাসি পায়, বেচারা !
রুমের পুর্ব দিকের জানলাটার ঠিক পাশেই একটা বড়সড় আম গাছ ৷ অসংখ্য কাঁচা আম ঝুলে আছে ! খুব ইচ্ছে করে হাত দিয়ে টেনে নিয়ে লবণ দিয়ে খাই, ঠিক ছোটবেলার মত ৷ কিন্তু হয়না, শুধু বড়বেলা বলেও না, হাত টা পৌঁছুবেওনা অতদুর !
রোদ বাবাজি পশ্চিমের জানলা গলে ধীরে ধীরে ঘরের মেঝে বেয়ে এগিয়ে আসছেন আমার চেয়ারটার দিকে ৷ জানান দিচ্ছেন আর বেশি সময় নেই বাছা, আমি আসছি ৷ সাধারণত, খুব বেশি দরকার ছাড়া আমি রোদ বাবাজির সাথে কোনরকম যুদ্ধে অবতীর্ণ হইনা, ভদ্র ছেলের মত চেয়ারটা ছেড়ে দেই ৷ রোদ বাবাজি হয়তো খুশিই হন ৷
দিনের এই সময়টায় যখন কিছু করার থাকেনা, তখন অনেক উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আসে ৷ এই যেমন হঠাৎ মনে পড়লো, আমার আগের জীবনে এই সময়টা কেমন ছিল ?! আগের জীবন মানে 'গত জন্ম'-র কথা বলছিনা, এই স্কুল কলেজ এর কথা আর কি ৷
যখন স্কুলে ছিলাম, তখন এই সময়টা ছিল খুবই আকর্ষনীয়, বিকেল এর আগ মুহূর্ত, ক্রিকেট মাঠ আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো ৷ সে ডাক অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার ছিলনা ৷ আর কেউ আসার আগেই আমি মাঠে হাজির হয়ে যেতাম ৷ তারপর সারাটা বিকাল কিভাবে যে কেটে যেতো টেরই পেতামনা ৷ অবস্য শেষ যে স্কুলটায় ছিলাম, ওখান থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যেতো, তাই খেলাটা আর হতোনা ৷
আর যখন কলেজ এ, তখন নতুন জ্বালা - প্রাইভেট ! যতগুলো প্র্যাকটিকাল সাবজেক্ট ছিল সেগুলোতে যেতেই হত, কারণ নাম্বারটা স্যারের হাতে ! অনেকে হয়তো বলবেন, শুধু নাম্বার এর আশায় পড়তে যাওয়ার কি মানে ? উত্তরে জানাতে হয়, এমনও হয়েছে আমাদের কলেজ এ, একজন ছাত্র এইচ এস সি তে প্র্যাকটিকালে ফেল করেছে শুধু ঐ স্যারের কাছে পড়েনি বলে, তার একটি বছর জীবন থেকে হারিয়ে গেল ! এরকম অনেক উদাহরণ-ই আছে এবং এটা বাংলাদেশেই সম্ভব ! তাও মাঝে মাঝে ছুটির দিনে সময় পেলেই মাঠে নেমে পড়তাম ৷
এখন আর সেই দিন নেই ৷ ভার্সিটিতে ওঠার পর আরও অনেক কিছুর মত খেলাধুলাটা হারিয়ে গেছে জীবন থেকে ৷ কেমন একটা ভয়াবহ নিরানন্দ জীবন হয়ে গেছে ৷ এই জীবনে এই দুপুরগুলো তাই খুব এলোমেলো, খুব ছন্নছাড়া ৷
রোদ বাবাজি ডাক দিয়েছেন, জায়গা ছাড়তে হবে ! অন্য কোন এক বেকার দুপুরে অথবা একাকি রাতে, আবার লেখা হবে ... !
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


