somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকার দুপুর

২৩ শে এপ্রিল, ২০০৯ বিকাল ৫:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুমাচ্ছিলাম ... বৈশাখ মাসের তপ্ত দুপুরের ব্যপারটা ঠিক ভাল লাগলনা, ভেংচি কেটে ঘুমটা ভেঙ্গে দিল ! এ সময়টায় কিছুই করা যায়না ৷ ক্লাস নাই, আমার কোন টিউশনিও নাই ৷ আমি নেহায়েতই বেকার ছাত্র ৷ যদিও কম্পিউটারটা আছে, কিন্তু ঠিক এইরকম অবস্থায় কোন কাজও করতে ইচ্ছে হয়না ৷

হলে আমার রুমটা ৪ তলায়, মানে সবচেয়ে উপরের তলায় হওয়ায় সারাদিন রোদ খায় রুমটা ৷ সকাল থেকে ঠিক বোঝা যায়না, কিন্তু গরমের তেজটা টের পাওয়া যায় ঠিক দুপুরের পর পর এই সময়টা থেকে ৷ গরমের ভ্যাপসা ভাব রুমের প্রতিটা বাসিন্দাকে অতিষ্ট করে তোলে ৷ ফ্যানের নিচে শুয়ে থাকলেও গা ঘামে জবজব করে ৷ বললাম না, কিছুই করার নাই ৷ তো এই কিছুই করার নাই অবস্থাতেও আমার মহান রুমমেট পড়ার টেবিল এ ! ফার্স্ট ইয়ার তো, তাই এই অবস্থা ৷ এর আগেও একটা ফার্স্ট ইয়ার উঠেছিল রুম এ ৷ কিন্তু সে এতটা ছিলনা ! ছেলেটাকে পড়া ঘুমানো খাওয়া বাথুরম - এ ছাড়া আর কিছু করতে দেখিনা আমি ৷ খুব হাসি পায়, বেচারা !

রুমের পুর্ব দিকের জানলাটার ঠিক পাশেই একটা বড়সড় আম গাছ ৷ অসংখ্য কাঁচা আম ঝুলে আছে ! খুব ইচ্ছে করে হাত দিয়ে টেনে নিয়ে লবণ দিয়ে খাই, ঠিক ছোটবেলার মত ৷ কিন্তু হয়না, শুধু বড়বেলা বলেও না, হাত টা পৌঁছুবেওনা অতদুর !

রোদ বাবাজি পশ্চিমের জানলা গলে ধীরে ধীরে ঘরের মেঝে বেয়ে এগিয়ে আসছেন আমার চেয়ারটার দিকে ৷ জানান দিচ্ছেন আর বেশি সময় নেই বাছা, আমি আসছি ৷ সাধারণত, খুব বেশি দরকার ছাড়া আমি রোদ বাবাজির সাথে কোনরকম যুদ্ধে অবতীর্ণ হইনা, ভদ্র ছেলের মত চেয়ারটা ছেড়ে দেই ৷ রোদ বাবাজি হয়তো খুশিই হন ৷

দিনের এই সময়টায় যখন কিছু করার থাকেনা, তখন অনেক উল্টা পাল্টা চিন্তা মাথায় আসে ৷ এই যেমন হঠাৎ মনে পড়লো, আমার আগের জীবনে এই সময়টা কেমন ছিল ?! আগের জীবন মানে 'গত জন্ম'-র কথা বলছিনা, এই স্কুল কলেজ এর কথা আর কি ৷

যখন স্কুলে ছিলাম, তখন এই সময়টা ছিল খুবই আকর্ষনীয়, বিকেল এর আগ মুহূর্ত, ক্রিকেট মাঠ আমাকে হাতছানি দিয়ে ডাকতো ৷ সে ডাক অস্বীকার করার ক্ষমতা আমার ছিলনা ৷ আর কেউ আসার আগেই আমি মাঠে হাজির হয়ে যেতাম ৷ তারপর সারাটা বিকাল কিভাবে যে কেটে যেতো টেরই পেতামনা ৷ অবস্য শেষ যে স্কুলটায় ছিলাম, ওখান থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতেই প্রায় সন্ধ্যা হয়ে যেতো, তাই খেলাটা আর হতোনা ৷

আর যখন কলেজ এ, তখন নতুন জ্বালা - প্রাইভেট ! যতগুলো প্র্যাকটিকাল সাবজেক্ট ছিল সেগুলোতে যেতেই হত, কারণ নাম্বারটা স্যারের হাতে ! অনেকে হয়তো বলবেন, শুধু নাম্বার এর আশায় পড়তে যাওয়ার কি মানে ? উত্তরে জানাতে হয়, এমনও হয়েছে আমাদের কলেজ এ, একজন ছাত্র এইচ এস সি তে প্র্যাকটিকালে ফেল করেছে শুধু ঐ স্যারের কাছে পড়েনি বলে, তার একটি বছর জীবন থেকে হারিয়ে গেল ! এরকম অনেক উদাহরণ-ই আছে এবং এটা বাংলাদেশেই সম্ভব ! তাও মাঝে মাঝে ছুটির দিনে সময় পেলেই মাঠে নেমে পড়তাম ৷

এখন আর সেই দিন নেই ৷ ভার্সিটিতে ওঠার পর আরও অনেক কিছুর মত খেলাধুলাটা হারিয়ে গেছে জীবন থেকে ৷ কেমন একটা ভয়াবহ নিরানন্দ জীবন হয়ে গেছে ৷ এই জীবনে এই দুপুরগুলো তাই খুব এলোমেলো, খুব ছন্নছাড়া ৷

রোদ বাবাজি ডাক দিয়েছেন, জায়গা ছাড়তে হবে ! অন্য কোন এক বেকার দুপুরে অথবা একাকি রাতে, আবার লেখা হবে ... !
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৯ বিকাল ৪:২৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×